ইকুয়েডরে কুইটোর স্বাধীনতা ঘোষণা দিবস
ইকুয়েডরে ১৮০৯ সালে কুইটোতে শুরু হওয়া আন্দোলনের স্মরণে ১০ আগস্ট জাতীয় সরকারি ছুটি পালিত হয়। এই আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা প্রক্রিয়ার সূচনা করেছিল। দিনটি স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপকে স্মরণ করে, স্বাধীনতার পূর্ণতা নয়; তা এসেছিল পরে।[1][2]
যে ঘটনাগুলো স্মরণ করা হয়
১৮০৯ সালের ১০ আগস্ট ভোরে কুইটোর নেতারা একটি সার্বভৌম শাসন পরিষদ গঠন করেন এবং কুইটোর রয়্যাল অডিয়েন্সিয়ার প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করেন। স্প্যানিশ শাসনের সংকটের মধ্যে এই আন্দোলনের উত্থান ঘটে; এর লক্ষ্য ছিল স্থানীয় স্বশাসন। ইকুয়েডরে এটি স্বাধীনতার প্রথম আহ্বান নামে পরিচিত হয়।[2]
এই অভ্যুত্থানের ফলে স্থায়ী স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইকুয়েডরের জাতীয় পরিষদ ১৮০৯ সালের ঘটনাকে স্বাধীনতা প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বর্ণনা করে এবং কুইটোর রয়্যাল অডিয়েন্সিয়ার পরবর্তী স্বাধীনতার তারিখ হিসেবে ১৮২২ সালের ২৪ মে উল্লেখ করে। তাই এই ছুটি ১০ আগস্টেই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটেছিল—এমন নয়; বরং সেই সংগ্রামের শুরুটিকে স্মরণ করে।[2]
জাতীয় বিশ্রাম দিবস
ইকুয়েডরের আইন শ্রমবিধির আওতাভুক্ত সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য ১০ আগস্টকে বাধ্যতামূলক বিশ্রাম দিবসের তালিকায় রেখেছে। বাধ্যতামূলক বিশ্রামের দিনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজের ওপরও শ্রমবিধিতে বিধিনিষেধ রয়েছে, তবে আইনে ব্যতিক্রম আছে। যেসব পরিষেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ করা যায় না, সেগুলোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হতে পারে।[1][4]
তারিখটি ১০ আগস্টই থাকে, তবে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়লে আইন অনুযায়ী বিশ্রামের দিনটি সরানো হয়। মঙ্গলবারের ছুটি আগের সোমবারে, বুধবার বা বৃহস্পতিবারের ছুটি সেই সপ্তাহের শুক্রবারে, শনিবারের ছুটি আগের শুক্রবারে এবং রবিবারের ছুটি পরের সোমবারে সরানোর বিধান রয়েছে; ঘোষিত ব্যতিক্রমগুলো সাপেক্ষে।[1][4]
দিবসটি কীভাবে স্মরণ করা হয়
এই স্মরণানুষ্ঠান বিশেষভাবে কুইটোর সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ১৮০৯ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্মানে নাগরিক অনুষ্ঠান হয়। নথিভুক্ত আয়োজনের মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিক অধিবেশন, জাতীয় পতাকা, ইকুয়েডরের জাতীয় সংগীত এবং প্লাজা গ্রান্দের স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।[3]
ইকুয়েডরের জাতীয় ইতিহাসেও দিনটির বিস্তৃত স্থান রয়েছে: জাতীয় পরিষদ একে দেশের স্বাধীনতা প্রক্রিয়ার সূচনা এবং ইকুয়েডর ও লাতিন আমেরিকার মানুষের মধ্যে ভাগ করা প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে।[2]
পর্যটকদের জন্য ব্যবহারিক তথ্য
এটি বাধ্যতামূলক বিশ্রাম দিবস হওয়ায় সরকারি দপ্তরগুলোতে সাধারণ কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালের সংশোধনীতে বাধ্যতামূলক বিশ্রামের দিনেও ন্যূনতম কর্মী দিয়ে মৌলিক সরকারি পরিষেবা ও ব্যাংকিং পরিষেবা চালু রাখার বিধান রয়েছে; তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি শাখা বা পরিষেবা কেন্দ্র খোলা থাকবে। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও পরিবহন পরিষেবার সময়সূচি জেনে নিন।[1][4]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কুইটোর স্বাধীনতা ঘোষণা দিবস কবে?
ইকুয়েডরের সর্বত্র কি এ দিন ছুটি থাকে?
এই দিনেই কি ইকুয়েডর পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেছিল?
না। দিনটি স্বাধীনতা প্রক্রিয়ার সূচনাকে স্মরণ করে। কুইটোর রয়্যাল অডিয়েন্সিয়ার পরবর্তী স্বাধীনতার তারিখ হিসেবে জাতীয় পরিষদ ১৮২২ সালের ২৪ মে উল্লেখ করেছে।[2]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইকুয়েডর-এ কুইটোর স্বাধীনতা ঘোষণা দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Parágrafo 2do.- Ministerio del Trabajo de Ecuador
- Asamblea rindió homenaje a la gesta patriótica del 10 de Agosto de 1809- Asamblea Nacional del Ecuador
- Quito recuerda a los patriotas que dieron luz de libertad a América hace 216 años- Municipio del Distrito Metropolitano de Quito
- SRO906_20161220.pdf- Asamblea Nacional del Ecuador