ইকুয়েডরে পিচিনচার যুদ্ধ
ইকুয়েডরে ২৪ মে পিচিনচার যুদ্ধ স্মরণ করা হয়; কুইটোর কাছে ১৮২২ সালের এই বিজয় সেখানে রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসানে সহায়তা করেছিল। সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য দিনটি জাতীয় ছুটিও, তবে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পড়া ছুটি সরানোর আইনি নিয়ম প্রযোজ্য।[1][2]
যুদ্ধটি কেন ইকুয়েডরে স্মরণ করা হয়
যুদ্ধটি ১৮২২ সালের ২৪ মে কুইটোর কাছে পিচিনচা আগ্নেয়গিরির ঢালে সংঘটিত হয়। আন্তোনিও হোসে দে সুক্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে রাজতন্ত্রী সৈন্যদের লড়াই হয়; যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাদের সরে যাওয়া পরবর্তীকালে ইকুয়েডর হওয়া ভূখণ্ডের স্বাধীনতা প্রক্রিয়ার একটি নির্ণায়ক পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়।[2]
ব্যাংকো সেন্ট্রাল দেল ইকুয়েডরের বিবরণে সাবেক দক্ষিণ বিভাগের একাধিক শহরের বাহিনী ও মানুষের অংশগ্রহণের কথাও নথিবদ্ধ হয়েছে; এর মধ্যে ইয়াগুয়াচি ব্যাটালিয়নও ছিল, যার সদস্যদের অধিকাংশই গুয়াইয়াকিলের বাসিন্দা ছিলেন। এই বিজয়ের আগে ১৮০৯ সালে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান, রাজনৈতিক আলোচনা ও বিদ্রোহের বৃহত্তর প্রক্রিয়া চলেছিল।[2]
জাতীয় ছুটির দিন
ইকুয়েডরের আইনে ২৪ মে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এবং শ্রম আইন অনুসারে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত। মঙ্গলবারে পড়া জাতীয় ছুটি আগের সোমবারে এবং বুধবার বা বৃহস্পতিবারে পড়া ছুটি সেই সপ্তাহের শুক্রবারে সরানোর বিধান রয়েছে। শনিবারে পড়লে ছুটি আগের শুক্রবারে, আর রবিবারে পড়লে পরের সোমবারে সরানো হয়।[1]
বাধ্যতামূলক ছুটির দিনে পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দর, পরিবহন টার্মিনাল ও ব্যাংকিং পরিষেবাসহ জরুরি সরকারি পরিষেবায় ন্যূনতম কর্মী নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। যেসব বেসরকারি খাতের কাজ বন্ধ রাখা যায় না, সেগুলোর জন্য সমপরিমাণ অবকাশ বা প্রযোজ্য পারিশ্রমিক—অতিরিক্ত কাজের ভাতাসহ—দিতে হবে।[1]
স্মরণানুষ্ঠান
সেনা ও নাগরিক অনুষ্ঠান ইকুয়েডরে এই বার্ষিকী পালনের নথিবদ্ধ উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২১ সালের স্মরণানুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো যুদ্ধ এবং সেনাবাহিনীর পদাতিক শাখাকে সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠান করে। ২০২২ সালের দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী নাগরিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে; এর মধ্যে ছিল ঘোড়ায় চড়ে ঐতিহাসিক যাত্রাপথ, যা গুয়াইয়াকিল ও কুয়েনকা থেকে শুরু হয়ে কুইটোর কাছে লা সিমা দে লা লিবারতাদে শেষ হয়।[3]
ব্যাংকো সেন্ট্রালের মিউজেও নুমিসমাতিকো স্মারক মুদ্রা এবং জনসাধারণের জন্য ইতিহাসভিত্তিক বিবরণের মাধ্যমে যুদ্ধটি তুলে ধরেছে। ওই বিবরণে যুদ্ধক্ষেত্রের স্থান হিসেবে চাকি-মাল্লানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে; স্থানটি এখন লা সিমা দে লা লিবারতাদ নামে পরিচিত।[2]
ছুটির দিন ঘিরে পরিকল্পনা
সরকারি দপ্তর ও অনেক বেসরকারি কর্মস্থলে আইননির্ধারিত বিশ্রামের দিন পালিত হয়, আর জরুরি পরিষেবায় ন্যূনতম কর্মী রাখার বিধান রয়েছে। দোকান, জাদুঘর এবং পরিবহন পরিচালনাকারীরা নিজেদের সময়সূচি নিজেরাই নির্ধারণ করে, তাই পরিকল্পনার আগে নির্দিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[1]
আইনে ছুটির তারিখ ২৪ মে নির্ধারিত, তবে বিধিবদ্ধ স্থানান্তরের নিয়মে ছুটির দিনটি কাছাকাছি কোনো কর্মদিবসে সরানো হতে পারে। ফলে কোন দিন ছুটি পালিত হবে, তা প্রযোজ্য সরকারি বর্ষপঞ্জি এবং বার্ষিক সময়সূচি নির্ধারণকারী সরকারি আদেশের ওপর নির্ভর করতে পারে।[1]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পিচিনচার যুদ্ধের ছুটি কবে?
ইকুয়েডরে কি এ দিন ছুটি থাকে?
হ্যাঁ। সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য ২৪ মে বাধ্যতামূলক ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত, তবে বিধিবদ্ধ স্থানান্তরের নিয়ম প্রযোজ্য।[1]
ছুটির দিনে কোন পরিষেবা চালু থাকে?
স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দর, পরিবহন টার্মিনাল ও ব্যাংকিং পরিষেবাসহ জরুরি সরকারি পরিষেবায় ন্যূনতম কর্মী রাখার বিধান রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শাখা বা পরিবহনপথের খোলার সময় এতে উল্লেখ নেই।[1]
যুদ্ধটি কীভাবে স্মরণ করা হয়?
নথিবদ্ধ স্মরণানুষ্ঠানের মধ্যে সেনা অনুষ্ঠান ও নাগরিক আয়োজন রয়েছে। ২০২২ সালের দ্বিশতবার্ষিকীতে গুয়াইয়াকিল ও কুয়েনকা থেকে কুইটোর কাছে লা সিমা দে লা লিবারতাদ পর্যন্ত একটি ঐতিহাসিক অশ্বারোহী যাত্রাপথ ছিল।[3]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইকুয়েডর-এ পিচিনচার যুদ্ধ-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Ley Orgánica Reformatoria a la Ley Orgánica del Servicio Público y al Código del Trabajo (Registro Oficial No. 906, Suplemento)- Asamblea Nacional del Ecuador
- Moneda conmemorativa – Bicentenario de la Batalla de Pichincha- Museo Numismático, Banco Central del Ecuador
- CABALGATA HISTÓRICA POR LA RUTA DE LOS LIBERTADORES PARA CONMEMORAR EL BICENTENARIO DE LA BATALLA DE PICHINCHA- Ejército Ecuatoriano