ইউক্রেনে বিজয় দিবস: ৯ মে ও এর উত্তরাধিকার
ইউক্রেনের সাবেক ৯ মে বিজয় দিবস এখন আর দেশটির বিধিবদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্মরণদিবস নয়। আইন অনুযায়ী, ৮ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে স্মরণ ও বিজয় দিবস; ৯ মে ইউরোপ দিবস হিসেবে নির্ধারিত।[1][5]
ইউক্রেনে তারিখটির অর্থ
বর্তমান ইউক্রেনীয় স্মরণানুষ্ঠানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সবাইকে স্মরণ করা হয় এবং নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে যারা লড়েছেন তাঁদের সম্মান জানানো হয়। ইউক্রেনীয় জাতীয় স্মৃতি ইনস্টিটিউট এই দিনকে বিভিন্ন সেনাবাহিনী ও আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক নিহতদের স্বীকৃতি দেওয়ার সময় হিসেবে বর্ণনা করে। আইনে ১৯৩৯–১৯৪৫ সালের যুদ্ধের স্মরণে দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে এবং প্রতি বছর ৮ মে পালনের বিধান রয়েছে।[1][4]
ইউক্রেনীয় জাতীয় স্মৃতি ইনস্টিটিউটের মতে, ১৯৩৯ সালে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; সে বছর নাৎসি জার্মানি পোল্যান্ডে আক্রমণ করে এবং লভিভসহ অন্যান্য শহরে বোমা হামলা চালায়। ইউক্রেনীয়রা মিত্রবাহিনীর একাধিক সেনাবাহিনী ও প্রতিরোধ আন্দোলনে কাজ করেছেন। ইনস্টিটিউট আরও জানায়, দেশটির ভূখণ্ড ছিল যুদ্ধের বড় রণাঙ্গন; দখলদারত্ব ও ব্যাপক প্রাণহানিও ঘটেছিল।[4]
সোভিয়েত বিজয় দিবস থেকে ৮ মে
ইউক্রেনের বর্ষপঞ্জিতে ৯ মে-র আগের অবস্থান সোভিয়েত বিজয় দিবসের ঐতিহ্য থেকে এসেছে। ইউক্রেনীয় জাতীয় স্মৃতি ইনস্টিটিউটের নথি অনুযায়ী, সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ ১৯৪৫ সালে ৯ মে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল, তবে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ দিনে আবার কর্মবিরতি চালু হয়নি। ইনস্টিটিউটের বর্ণনায়, পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত স্মরণানুষ্ঠান ক্রমেই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিজয়-আখ্যানকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।[4]
২০১৪ সালে ইউক্রেনের স্মরণপদ্ধতিতে পরিবর্তন শুরু হয়; সে বছর জনসম্মুখের স্মরণানুষ্ঠানের প্রতীক হিসেবে লাল পপি চালু করা হয়। ২০২৩ সালে সংসদ ৮ মে-কে বার্ষিক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে স্মরণ ও বিজয় দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং শ্রমবিধিতে ৮ মে-কে সংশ্লিষ্ট ছুটি হিসেবে যুক্ত করে। ইনস্টিটিউটের মতে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি স্মরণ করা এবং নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সবাইকে স্বীকৃতি দেওয়া।[1][4]
স্মরণানুষ্ঠানের রীতি
লাল পপি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মরণানুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ইউক্রেনীয় জাতীয় স্মৃতি ইনস্টিটিউটের প্রচারিত সরকারি স্মারক প্রতীক। ইনস্টিটিউট জনসমাবেশ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে এটি ব্যবহারে উৎসাহ দেয়।[4]
স্মরণানুষ্ঠানে নিহত সৈনিক, বেসামরিক ভুক্তভোগী, প্রবীণ যোদ্ধা এবং ইউক্রেনীয় মুক্তি আন্দোলনের সদস্যদের সম্মান জানানো হয়। স্থানীয় কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, তাই বিস্তারিত জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অনুষ্ঠান আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিতে পারেন।[1][4]
আইনি মর্যাদা ও ব্যবহারিক প্রভাব
ইউক্রেনের শ্রমবিধির ৭৩ নম্বর ধারায় ৮ মে-কে নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে স্মরণ ও বিজয় দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সামরিক আইন কার্যকর না থাকলে, সরকারি ছুটি সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনে পড়লে শ্রমবিধির সাধারণ বিধানে এক দিনের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সামরিক আইন চলাকালে বিশেষ শ্রম আইন ৭৩ নম্বর ধারার প্রয়োগ এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন স্থানান্তরের নির্দিষ্ট নিয়ম স্থগিত রাখে; তাই শুধু ছুটির তালিকায় নাম থাকলেই ওই সময় কাজ থেকে ছুটি নিশ্চিত হয় না।[2][3]
রাষ্ট্রপতির ডিক্রিতে ৯ মে ইউরোপ দিবস হিসেবে নির্ধারিত; এটি ইউক্রেনের আগের বর্ষপঞ্জিতে থাকা ৯ মে বিজয় দিবস নয়। বর্তমান সময়সূচি ও বিজ্ঞপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস, প্রতিষ্ঠান, পরিবহন পরিচালনাকারী বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[1][5]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইউক্রেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্মরণদিবস কবে?
ইউক্রেনে ৯ মে কি এখনও বিজয় দিবস?
৮ মে কি কাজ থেকে ছুটি?
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইউক্রেন-এ বিজয় দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Про День пам’яті та перемоги над нацизмом у Другій світовій війні 1939-1945 років- Verkhovna Rada of Ukraine
- Кодекс законів про працю України- Verkhovna Rada of Ukraine
- Про організацію трудових відносин в умовах воєнного стану- Verkhovna Rada of Ukraine
- Інформаційні матеріали до Дня пам’яті та примирення 8 травня- Ukrainian Institute of National Memory
- УКАЗ ПРЕЗИДЕНТА УКРАЇНИ №266/2023 — Про День Європи- President of Ukraine