সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস
সিঙ্গাপুরে ৯ আগস্ট জাতীয় দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের স্মরণে দিনটি পালিত হয়। এটি সরকারি ছুটির দিন, আর জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ দেশটির স্মরণানুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠেছে।[1][2]
সিঙ্গাপুরে ৯ আগস্ট পালনের কারণ
১৯৬৫ সালের ৯ আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা অর্জন করে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী ই. ডব্লিউ. বার্কার রচিত এবং প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ স্বাক্ষরিত সিঙ্গাপুরের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সিঙ্গাপুরকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ও জাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেদিন সকালে রেডিও সিঙ্গাপুরায় ঘোষণাপত্রটি পাঠ করা হয়।[1]
এই তারিখটি ছুটির দিনটিকে সিঙ্গাপুরের ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত করে: স্বাধীন জাতি হিসেবে দেশটির পথচলার সূচনা। প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রথম জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালের ৯ আগস্ট, স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে।[2]
সিঙ্গাপুরের আইনে সরকারি ছুটি
জাতীয় দিবস সিঙ্গাপুরের সরকারি গেজেটে ঘোষিত ১১টি সরকারি ছুটির একটি। কর্মসংস্থান আইনের আওতাভুক্ত কর্মীরা বছরে ১১ দিনের বেতনসহ সরকারি ছুটি পান, যার মধ্যে জাতীয় দিবসও রয়েছে; আইনের আওতার বাইরে থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের চাকরির চুক্তির শর্ত প্রযোজ্য।[3]
৯ আগস্ট কোনো কর্মীর সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনে পড়লে পরবর্তী কর্মদিবসটি বেতনসহ সরকারি ছুটি হয়। দিনটি কর্মদিবস নয়—এমন দিনে পড়লে আইনের আওতাভুক্ত কর্মী আরেক দিনের ছুটি অথবা তার বদলে এক দিনের অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার অধিকারী। ছুটির দিনে কাজ করলে সাধারণত অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার অধিকার থাকে; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে বিকল্প ব্যবস্থাও করা যায়।[3]
জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ
জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ সিঙ্গাপুরের স্বাধীনতার বার্ষিক উদ্যাপন। শুরুর দিকের কুচকাওয়াজে পদাংয়ে পদযাত্রার দল ও সামরিক প্রদর্শনী থাকত; স্বাধীনতার পর প্রথম কুচকাওয়াজটি ১৯৬৬ সালে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে নির্বাচিত কিছু বছরে অনুষ্ঠান বিকেন্দ্রীকরণ করে অন্যান্য স্থানেও পরিবেশনা ও কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে।[2]
সময়ের সঙ্গে কুচকাওয়াজের ধরন ও স্থান বদলেছে। আগের কয়েকটি আয়োজনে রাষ্ট্রীয় পতাকা নিয়ে আকাশপথে উড্ডয়ন, জাতীয় দিবসের গান এবং মেরিনা বে-কে ঘিরে পরিবেশনা ছিল; তবে প্রতি বছর অনুষ্ঠানসূচি ও স্থান এক থাকে না।[2]
সেদিন কী আশা করা যায়
সরকারি ছুটির স্বীকৃতির ফলে যোগ্য কর্মীরা বেতনসহ ছুটি পান, তবে নিয়ম অনুযায়ী কিছু কর্মী অতিরিক্ত বেতন বা সম্মত ছুটির বিনিময়ে কাজ করতে পারেন। অফিস, ব্যাংক, দোকান ও পরিবহনসেবাগুলোর খোলার সময় ও সেবার ধরন ভিন্ন হতে পারে।
কুচকাওয়াজে যোগ দিতে বা আশপাশের কোনো এলাকায় যেতে চাইলে রওনা হওয়ার আগে হালনাগাদ সরকারি অনুষ্ঠান ও পরিবহনবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন। সময়ের সঙ্গে কুচকাওয়াজের স্থান ও ধরন বদলেছে, তাই আগের বছরের স্থান দেখে কোনো নির্দিষ্ট বছরে অনুষ্ঠান কোথায় হবে তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।[2]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস কবে?
জাতীয় দিবসে কি বেতনসহ ছুটি পাওয়া যায়?
কর্মসংস্থান আইনের আওতাভুক্ত কর্মীরা জাতীয় দিবসসহ বেতনসহ সরকারি ছুটি পাওয়ার অধিকারী। আইনের আওতাবহির্ভূত কর্মীদের ক্ষেত্রে চাকরির চুক্তি প্রযোজ্য।[3]
৯ আগস্ট রবিবারে পড়লে কী হয়?
দিনটি আপনার সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিন হলে জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কর্মদিবসটি বেতনসহ সরকারি ছুটি হয়। দিনটি কর্মদিবস নয়—এমন দিনে পড়লে যোগ্য কর্মীরা আরেক দিনের ছুটি অথবা তার বদলে এক দিনের অতিরিক্ত বেতন পান।[3]
দোকান, ব্যাংক ও পরিবহনসেবা কি বন্ধ থাকে?
খোলার সময় ও সেবার ধরন ভিন্ন হতে পারে। যাত্রা বা পরিকল্পনার আগে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সূত্র ও তথ্যসূত্র
সিঙ্গাপুর-এ জাতীয় দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Proclamation of Singapore, 1965- National Archives of Singapore
- 50 Years and Counting: Tracing the History of the National Day Parade- National Heritage Board, Singapore
- Public holidays: entitlement and pay- Ministry of Manpower, Singapore