রাশিয়ায় পিতৃভূমি রক্ষক দিবস
রাশিয়ায় প্রতি ২৩ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রক্ষক দিবস পালিত হয়; তারিখটি লাল ফৌজের প্রাথমিক ইতিহাস এবং দেশের রক্ষকদের স্মরণের সঙ্গে যুক্ত। রুশ শ্রম আইন অনুযায়ী এটি কর্মবিরতিসহ সরকারি ছুটি। আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা থেকে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা—নানা উপায়ে মানুষ দিনটি পালন করে।[1][3][4]
ইতিহাসের ছাঁচে গড়া ছুটি
তারিখটির সূত্রপাত ১৯১৮ সালে, যখন জার্মান বাহিনী অগ্রসর হওয়ার মুখে নতুন সোভিয়েত সরকার দেশের প্রতিরক্ষার আহ্বান জানায়। ২৩ ফেব্রুয়ারি পেত্রোগ্রাদ, মস্কো ও অন্যান্য শহরে গণসমাবেশ হয় এবং মানুষ গড়ে ওঠা লাল ফৌজে যোগ দেয়। পরে এই ছুটি সেনাবাহিনীর সূচনা স্মরণের দিনে পরিণত হয়; তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখটি প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত ঘোষণার তারিখ হিসেবে নয়, পালন-রীতির ইতিহাসের সূত্রে ওই ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত।[3]
১৯১৯ সালে প্রথম ২৩ ফেব্রুয়ারি ছুটি হিসেবে পালিত হয় এবং ১৯২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল ফৌজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত হয়। সোভিয়েত আমলে এর নাম ছিল লাল ফৌজ দিবস, পরে সোভিয়েত সেনা ও নৌবাহিনী দিবস। রাশিয়া ১৯৯৩ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে; বর্তমান নাম পিতৃভূমি রক্ষক দিবস গৃহীত হয় ২০০৬ সালে।[3][4]
রাশিয়ায় দিনটির তাৎপর্য
এই ছুটির সামরিক ও নাগরিক—দুই ধরনের তাৎপর্য রয়েছে: এটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত বা আগে কর্মরত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয় এবং রাশিয়ার সামরিক ইতিহাস স্মরণ করায়। প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি একে বিভিন্ন যুগের সামরিক বিজয় ও সেনানায়কদের স্মরণের দিন হিসেবে বর্ণনা করেছে, পাশাপাশি দেশের সোভিয়েত আমলের শিকড়ের কথাও উল্লেখ করেছে।[3]
দৈনন্দিন জীবনে এই পালন কর্মরত সেনাসদস্যদের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে। রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের বর্ণনায়, অনেকে ২৩ ফেব্রুয়ারিকে সাধারণভাবে পুরুষদের সম্মান জানানোর দিন হিসেবে দেখেন; একই সঙ্গে নারী প্রবীণ সেনাসদস্য ও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত নারীদেরও শুভেচ্ছা জানানো হয়। দেশের রক্ষকদের প্রতি ছুটিটির আনুষ্ঠানিক মনোযোগের পাশাপাশি এই অনানুষ্ঠানিক রীতিও রয়েছে।[5]
স্মরণানুষ্ঠান ও রীতিনীতি
সার্বজনীন পালনের মধ্যে ছিল আনুষ্ঠানিক সমাবেশ, প্রবীণ সেনাসদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিহত সৈনিকদের সমাধিতে ফুল দেওয়া। প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির নথিতে রয়েছে, পালনের শুরুর বছরগুলোতে ২৩ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হতো; যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মস্কো ও অন্যান্য শহরের স্মরণানুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক তোপধ্বনিও যুক্ত হয়।[4]
ছুটিকে ঘিরে আয়োজিত নানা কর্মকাণ্ডের কথাও ন্যাশনাল গার্ড বলেছে—যেমন স্কুল পরিদর্শন, স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্মুক্ত দিবস, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান। এগুলো আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদাহরণ, দেশজুড়ে নির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচি নয়; আয়োজন স্থান ও সংগঠকের ওপর নির্ভর করে।[5]
কর্মবিরতিসহ সরকারি ছুটি
রাশিয়ার শ্রমবিধির ১১২ নম্বর অনুচ্ছেদে ২৩ ফেব্রুয়ারিকে কর্মবিরতিসহ সরকারি ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দিনটি নিয়মিত সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনে পড়লে সাধারণত সেই বিশ্রামের দিন পরবর্তী কর্মদিবসে সরিয়ে নেওয়া হয়; আইনের বিশেষ ব্যতিক্রমটি জানুয়ারির নির্দিষ্ট কিছু ছুটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ২৩ ফেব্রুয়ারিতে নয়। ক্যালেন্ডারের সুবিধার জন্য সরকার বিশ্রামের দিনও সরাতে পারে।[1]
ছুটি থাকলেই সব কর্মস্থল বন্ধ হবে এমন নয়। আইনে অনুমোদিত ক্ষেত্রে কর্মীদের কাজ করতে হতে পারে; কর্মবিরতিসহ ছুটির দিনে কাজের জন্য ১৫৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বেশি মজুরি অথবা কর্মীর অনুরোধে অন্য বিশ্রামের দিনের বিধান রয়েছে। উদ্ধৃত জাতীয় আইনে দোকান, ব্যাংক বা গণপরিবহনের খোলার সময় নির্ধারিত নেই, তাই পরিকল্পনার আগে স্থানীয় সময়সূচি যাচাই করুন।[1][2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পিতৃভূমি রক্ষক দিবস কবে?
প্রতি বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়।[1]
রাশিয়ায় কি এ দিন ছুটি থাকে?
এই ছুটিতে কাদের সম্মান জানানো হয়?
দোকান, ব্যাংক ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
ছুটিসংক্রান্ত আইনে এসব পরিষেবার খোলার সময় নির্ধারিত নেই। সময়সূচি ব্যবসা বা স্থানীয় পরিষেবা পরিচালকের ওপর নির্ভর করতে পারে, তাই যাত্রা বা যাওয়ার আগে সরাসরি যাচাই করুন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
রাশিয়া-এ পিতৃভূমি রক্ষক দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- ТК РФ Статья 112. Нерабочие праздничные дни- КонсультантПлюс
- ТК РФ Статья 153. Оплата труда в выходные и нерабочие праздничные дни- КонсультантПлюс
- День воинской славы России – День защитника Отечества- Президентская библиотека имени Б.Н. Ельцина
- Президентская библиотека рассказывает об истоках Дня защитника Отечества- Президентская библиотека имени Б.Н. Ельцина
- День защитника Отечества- Федеральная служба войск национальной гвардии Российской Федерации