ফিলিপাইনে গুড ফ্রাইডে
গুড ফ্রাইডেতে যিশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা স্মরণ করা হয়; ফিলিপাইনে এটি নিয়মিত ছুটি। এ দিনের পালনে সেনাকুলোর স্থানীয় রূপ দেখা যায়, যেখানে মঞ্চায়নের মাধ্যমে যিশুর শেষ জীবনের কাহিনি তুলে ধরা হয়; পাশাপাশি গির্জা ও সমাজের অন্যান্য রীতিও পালিত হয়।[1][2]
তাৎপর্য ও আইনগত মর্যাদা
ফিলিপাইনের আইনে গুড ফ্রাইডেকে তারিখ পরিবর্তনযোগ্য নিয়মিত ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবর্তনযোগ্য ছুটির নির্দিষ্ট তারিখ রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করবেন—এ বিধানও আইনে রয়েছে; সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, রবিবারে পড়া ছুটি পরের সোমবারে পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গুড ফ্রাইডে শুক্রবারে পড়ে, তাই রবিবারের বিধান সাধারণত এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না।[1]
আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য শ্রমবিধিতে নিয়মিত ছুটিতে নিয়মিত দৈনিক মজুরির বিধান রয়েছে; নিয়মিতভাবে দশজনের কম কর্মী নিয়োগ করা খুচরা ও পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ছুটির দিনেও কাজে রাখতে পারেন; শ্রমবিধিতে সে ক্ষেত্রে নিয়মিত মজুরির দ্বিগুণ পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে।[3]
যিশুর শেষ জীবনের নাট্যরূপ: ফিলিপিনো ঐতিহ্য
গুড ফ্রাইডের ধর্মীয় তাৎপর্যের কেন্দ্রে রয়েছে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে খ্রিস্টের দুঃখভোগ ও মৃত্যুর স্মরণ। ফিলিপাইনের জাতীয় জাদুঘর সেনাকুলোকে যিশুর শেষ জীবনের কাহিনি ও মৃত্যুর মঞ্চায়িত পুনরাভিনয় হিসেবে বর্ণনা করে; এর ভিত্তি হলো পাসিয়ন, যা তাগুলায়লয় নামে পরিচিত শোকাতুর সুরে আবৃত্তি করা হয়।[2]
অঞ্চলভেদে এই নাটকের নাম আলাদা: রিজাল, বুলাকান, বাতান ও পাম্পাঙ্গায় প্যাশন প্লে বা পাসিয়ন ই মুয়ের্তে; লাগুনায় সেঞ্চুরিয়ন বা হুদিউহান; বিকোলে তাংগাল; আর লেইতেতে পামালানদং। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পাসিয়ন লেখা হয়েছিল সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর মধ্যে; সে সময় থেকেই সেনাকুলো মঞ্চায়নের ইতিহাসের সূত্রপাত।[2]
সম্প্রদায়গুলো কীভাবে দিনটি পালন করে
স্থানভেদে সেনাকুলোর ধরন ও দৈর্ঘ্য বদলে যায়। জাতীয় জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো প্রদেশে এই মঞ্চায়ন সাত থেকে আট দিন চলতে পারে; আবার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গুড ফ্রাইডেতে দেখানো হয়েছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। প্রায়ই চত্বর ও রাস্তায় মঞ্চায়নের আয়োজন হয় এবং স্থানীয় লোকজন পোশাক, মঞ্চসজ্জার উপকরণ ও মঞ্চ প্রস্তুত করেন।[2]
এরপর সাতটি শেষ বাণী পাঠ বা মৃত যিশুর মূর্তি সান্তো এন্তিয়েরো নিয়ে শোভাযাত্রাসহ অন্য রীতিও হতে পারে। এগুলো জাতীয় জাদুঘরের নথিভুক্ত উদাহরণ; স্থানীয় কর্মসূচি ও অংশগ্রহণ একেক সম্প্রদায়ে একেক রকম।[2]
প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও যাতায়াত
প্রজাতন্ত্র আইন নং ৯৪৬-এ গুড ফ্রাইডেকে সেই দিনগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে, যেদিন দোকানসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার কথা নয়। আইনে জনপরিষেবা, যানবাহন চালানো, রেস্তোরাঁ, বাজার ও ওষুধের দোকানসহ কিছু ব্যতিক্রমের তালিকা রয়েছে; তাই সব পরিষেবা বন্ধ থাকে—এমন নয়। পরিকল্পনার আগে স্থানীয় খোলার সময় জেনে নিন।[4]
ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক-নিয়মবিধি-সংক্রান্ত ম্যানুয়ালে ঘোষিত কর্মবিরতির দিনগুলোকে নিয়মিত ব্যাংকিং সপ্তাহের ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হয়েছে। নির্দিষ্ট নোটিশের শর্ত পূরণ করে ব্যাংক ছুটির দিনে আমানত ও টাকা তোলার পরিষেবা দিতে খোলা থাকতে পারে, তাই শাখাভেদে পরিষেবা বদলাতে পারে। আপনার ব্যাংকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন এবং পরিবহন সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন; আইনে যানবাহন চালানো ও জনপরিষেবাকে ব্যতিক্রমের মধ্যে রাখা হয়েছে।[5][4]
ফিলিপাইনে গুড ফ্রাইডে: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ফিলিপাইনে গুড ফ্রাইডে কি নিয়মিত ছুটি?
হ্যাঁ। প্রজাতন্ত্র আইন নং ৯৪৯২-এ এটিকে তারিখ পরিবর্তনযোগ্য নিয়মিত ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[1]
কর্মীরা কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছুটি পান?
গুড ফ্রাইডে নিয়মিত ছুটি, তবে শ্রমবিধি অনুযায়ী নিয়োগকর্তা কর্মীদের কাজে রাখতে পারেন। আওতাভুক্ত কর্মীরা কাজ না করলে সাধারণত নিয়মিত ছুটির বেতন পান; যোগ্য ছোট খুচরা ও পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রমবিধিতে উল্লেখিত ব্যতিক্রম প্রযোজ্য। ছুটির দিনে কাজ করলে নিয়মিত মজুরির দ্বিগুণ বেতন দেওয়া হয়।[3]
ব্যাংক ও দোকান কি খোলা থাকে?
গণপরিবহন কি বন্ধ থাকে?
প্রজাতন্ত্র আইন নং ৯৪৬-এ গুড ফ্রাইডেতে বন্ধ রাখার বিধান থেকে জনপরিষেবা ও যানবাহন চালানোকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে পরিবহনের একক সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি, তাই পরিবহন সংস্থার পরিষেবার তথ্য দেখে নিন।[4]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ফিলিপাইন-এ গুড ফ্রাইডে-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- R.A. 9492- The Lawphil Project, Arellano Law Foundation
- SENAKULO- National Museum of the Philippines
- P.D. No. 442- The Lawphil Project, Arellano Law Foundation
- Republic Act No. 946- The Lawphil Project, Arellano Law Foundation
- Part I: Licensing and Authorities of Banks- Bangko Sentral ng Pilipinas