ফিলিপাইনে কোরবানি ঈদ (ঈদুল আজহা)
ফিলিপাইনে ঈদুল আজহা দেশজুড়ে নিয়মিত ছুটি; এর তারিখ ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে এবং রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় জানানো হয়। ফিলিপাইনের মুসলিমদের কাছে এটি প্রার্থনা, ইব্রাহিমের বিশ্বাস স্মরণ এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার দিন।[1][2]
জাতীয় নিয়মিত ছুটি
প্রজাতন্ত্র আইন নং ৯৮৪৯-এ ইসলামি বর্ষপঞ্জির দ্বাদশ মাস জিলহজের দশম দিনকে ঈদুল আজহার জাতীয় ছুটি করা হয়েছে এবং দেশটির নিয়মিত ছুটির তালিকায় রাখা হয়েছে। ইসলামি বা চান্দ্র বর্ষপঞ্জি কিংবা ইসলামি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে প্রকৃত তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় তা জানানো হয়; তারিখ সুপারিশ করে ফিলিপিনো মুসলিমদের জাতীয় কমিশন।[1][2]
এটি দেশজুড়ে স্বীকৃত নিয়মিত ছুটি, শুধু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোতে সীমিত নয়। তবে এই মর্যাদার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি কর্মস্থল বা পরিষেবার সময়সূচি এক হবে: পরিকল্পনার আগে নিয়োগকর্তা, সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, দোকান বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। ঈদুল আজহার তারিখ রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় নির্ধারিত হয়, এবং কোনো বিকল্প দিনের উল্লেখ নেই।[1][2]
তাৎপর্য ও ধর্মীয় পটভূমি
ঈদুল আজহায় আল্লাহর আদেশে নিজের পুত্রকে কোরবানি দিতে ইব্রাহিম নবীর প্রস্তুতির কথা স্মরণ করা হয়; ইসলামি বর্ণনায় আল্লাহ পুত্রকে রক্ষা করেন এবং কোরবানির জন্য একটি পশু দেন। এ দিন মক্কায় হজযাত্রারও সমাপ্তি নির্দেশ করে; হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এসব ধর্মীয় তাৎপর্য সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে অভিন্ন, আর ঈদকে জাতীয় নিয়মিত ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে ফিলিপাইনে।[1][3]
প্রার্থনা, ভাগাভাগি ও পারিবারিক সাক্ষাৎ
ফিলিপাইনে ঈদের জামাত সাধারণত সকালে নামাজ দিয়ে শুরু হয়। ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা ইনস্টিটিউট দিনটিকে সামাজিক সমাবেশ ও উদহিয়া বা কোরবানির সময় হিসেবে বর্ণনা করে: ইব্রাহিমকে স্মরণ করে ছাগল বা গরু জবাই করা হয় এবং মাংসের কিছু অংশ অভাবী পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়।[3]
ফিলিপাইনের জাতীয় জাদুঘর ঈদের ভোজের রীতির অংশ হিসেবে জামাতে প্রার্থনা, তিলাওয়াত, সুন্দর পোশাক পরা, অন্যের বাড়িতে যাওয়া এবং স্থানীয় উপাদেয় খাবার ও পানীয় ভাগ করে নেওয়ার কথা বলে। ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বর্ণনায় আমন্ত্রিত অতিথিসহ পারিবারিক সমাবেশের কথাও আছে, যা সেখানে কান্দুরি নামে পরিচিত। সম্প্রদায়ভেদে রীতি ও খাবার বদলাতে পারে, তাই এই উদাহরণগুলোকে একক জাতীয় খাবারের তালিকা বা সর্বত্র একই রীতি হিসেবে ধরা উচিত নয়।[3][4]
ছুটির দিন ঘিরে পরিকল্পনা
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিতে ছুটির তারিখ বদলায় বলে কাজ, সাক্ষাৎ বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট বছরের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত তারিখটি ব্যবহার করুন। জাতীয় ছুটির ঘোষণায় পালনের দিন নির্ধারিত হয়। যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট ব্যাংক, দোকান, পরিবহন পরিষেবা, অফিস বা ভেন্যুর সঙ্গে খোলার সময় ও সময়সূচি যাচাই করুন।[1][2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ফিলিপাইনে ঈদুল আজহা কি নিয়মিত ছুটি?
ঈদুল আজহা কবে পালিত হয়?
সপ্তাহান্তে পড়লে কি ছুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য দিনে সরানো হয়?
ঈদুল আজহায় কী খোলা থাকে?
জাতীয় নিয়মিত ছুটির মর্যাদা থেকে প্রতিটি ব্যাংক, দোকান, দপ্তর বা পরিবহন পরিষেবার খোলার সময় নির্ধারিত হয় না। যাওয়া বা ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পরিষেবার সময়সূচি জেনে নিন।[2]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ফিলিপাইন-এ ঈদুল আজহা-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- R.A. No. 9849- The Lawphil Project, Arellano Law Foundation
- Proclamation No. 1006- The Lawphil Project, Arellano Law Foundation
- The Significance of Eid’l Adha by Macrina “Hannah” A. Morados (IIS Dean)- Institute of Islamic Studies, University of the Philippines-Diliman
- Eid al-Adha- National Museum of the Philippines