বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় মেরির স্বর্গারোহণ
ক্যাথলিকরা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ১৫ আগস্ট পবিত্র কুমারী মেরির মেরির স্বর্গারোহণ পালন করেন। হলি সি-এর সঙ্গে দেশের চুক্তিতে দিনটিকে সারা দেশের ক্যাথলিকদের জন্য কর্মবিরতির ধর্মীয় উৎসব হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে; গির্জার আয়োজনে মিসা ও তীর্থযাত্রাও থাকে।[1][3]
উৎসবটির তাৎপর্য
মেরির স্বর্গারোহণ হলো ক্যাথলিক বিশ্বাস যে মেরি দেহ ও আত্মাসহ স্বর্গীয় মহিমায় গৃহীত হয়েছিলেন। অন্তত পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১৫ আগস্ট এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে; ১৯৫০ সালে পোপ পিয়াস দ্বাদশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্বাসকে ক্যাথলিক মতবাদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।[4]
ক্যাথলিকদের কাছে এই উৎসব ঈশ্বরের সঙ্গে জীবনের আশা প্রকাশ করে এবং খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসে মেরির স্থানকে সম্মান জানায়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় এটি ভেলিকা গোস্পা নামে পরিচিত এবং মেরিকে উৎসর্গ করা প্যারিশ ও তীর্থস্থানে পালিত হয়।[3][4]
ক্যাথলিকদের কর্মবিরতির উৎসব
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং হলি সি-এর মধ্যকার মৌলিক চুক্তির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে ১৫ আগস্টকে মেরির স্বর্গারোহণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার আইন অনুযায়ী এটি সারা দেশের ক্যাথলিকদের জন্য কর্মবিরতির দিন। এই বিধান ক্যাথলিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এতে তারিখটিকে সব বাসিন্দার ছুটি বলা হয়নি।[1]
চুক্তিতে ১৫ আগস্টকে পর্বের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; রবিবারে পড়লে বিকল্প কোনো দিন নির্ধারণের কথা এতে বলা নেই।[1]
সারা দেশে গির্জার উদ্যাপন
উদ্যাপনগুলো মূলত গির্জার ধর্মীয় সেবা ও মেরিভক্তিকে কেন্দ্র করে হয়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রতিবেদনগুলোতে উৎসবের আগের সন্ধ্যায় রাতভর প্রার্থনা ও মিসা, মেরির প্রতিকৃতি নিয়ে শোভাযাত্রা, জপমালা প্রার্থনা এবং ওলোভো, সারায়েভোর স্তুপ, শিরোকি ব্রিয়েগ ও কোমুশিনার মতো স্থানে তীর্থযাত্রার কথা রয়েছে।[3]
স্থানীয় কর্মসূচি প্যারিশ বা তীর্থস্থানের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে, প্রকাশিত উদ্যাপনে কোমুশিনা থেকে কনজিলো পর্যন্ত শোভাযাত্রা এবং ওলোভোর তীর্থস্থানে তীর্থযাত্রার ধর্মীয় আচার রয়েছে; এগুলো স্থানীয় পালনের নমুনা, সারা দেশের জন্য একক কর্মসূচি নয়।[3]
কাজ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থা
ক্যাথলিকদের কর্মবিরতির বিধান থেকে এমন নিশ্চয়তা মেলে না যে সব দপ্তর, দোকান, ব্যাংক বা পরিবহন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফেডারেশনে ফেডারেল সরকার জানায়, ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত প্রয়োজনে নিয়োগকর্তাদের প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে কর্মীদের সর্বোচ্চ চার দিন ছুটি দিতে হবে, যার মধ্যে দুই দিন বেতনসহ। সরকার এই ছুটিকে সরকারি কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগকর্তাদের জন্য আইননির্ধারিত কর্মবিরতির দিন থেকে আলাদা করে।[1][2]
নির্দিষ্ট কর্মস্থল বা পরিষেবার ব্যবস্থা জানতে পরিকল্পনা করার আগে স্থানীয় তথ্য দেখে নিন। চুক্তিতে ক্যাথলিকদের জন্য উৎসবের দিনের বিধান রয়েছে; উদ্ধৃত ফেডারেল নির্দেশনায় কর্মীদের জন্য পৃথক ছুটির অধিকার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে সরকারি পরিষেবা বা ব্যবসার জন্য দেশব্যাপী সময়সূচি দেওয়া হয়নি।[1][2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় মেরির স্বর্গারোহণ কবে?
প্রতি বছর ১৫ আগস্ট এটি পালিত হয়। হলি সি-এর চুক্তিতে পবিত্র কুমারী মেরির মেরির স্বর্গারোহণের তারিখ হিসেবে এই দিনটি তালিকাভুক্ত আছে।[1]
এ দিন কি সবার ছুটি?
না। চুক্তিতে ১৫ আগস্টকে সারা দেশের ক্যাথলিকদের জন্য কর্মবিরতির ধর্মীয় উৎসব বলা হয়েছে; এতে সব বাসিন্দার ছুটি নির্ধারণ করা হয়নি।[1]
দপ্তর, ব্যাংক ও দোকান কি বন্ধ থাকে?
শোভাযাত্রা বা তীর্থযাত্রা হয় কি?
হ্যাঁ। গির্জার প্রতিবেদনগুলোতে মেরিভক্তির প্যারিশ ও তীর্থস্থানে মিসা, প্রার্থনা জাগরণ, জপমালা প্রার্থনা ও শোভাযাত্রার তথ্য আছে; এর মধ্যে ওলোভো, স্তুপ ও কোমুশিনাও রয়েছে। স্থানভেদে আয়োজন আলাদা হয়।[3]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-এ মেরির স্বর্গারোহণ-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Temeljni ugovor između Svete Stolice i Bosne i Hercegovine- Bishops’ Conference of Bosnia and Herzegovina
- FMRSP: O korištenju odsustva za obilježavanje vjerskih praznika- Government of the Federation of Bosnia and Herzegovina
- Velika Gospa slavi se u 71 marijanskoj župi i svetištu u BiH; njih 27 toga dana slavi svoj patron- Catholic News Agency of the Bishops’ Conference of Bosnia and Herzegovina
- Solemnity of the Assumption of the Blessed Virgin Mary- Vatican News