বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ঈদুল আযহা
স্থানীয়ভাবে কুরবান-বায়রাম নামে পরিচিত এই চার দিনের মুসলিম উৎসবটি প্রার্থনা, কোরবানি ও অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে পালিত হয়। প্রযোজ্য নিয়মের ওপর কর্মবিরতির অধিকার নির্ভর করে: রিপাবলিকা স্রপস্কার আইন মুসলিম বিশ্বাসীদের প্রথম দুই দিনে বেতনসহ ছুটি দেয়; ফেডারেশনের আইনে ধর্মীয় ছুটির জন্য পৃথক বরাদ্দ রয়েছে।[1][2]
বর্ষপঞ্জিতে তাৎপর্য ও স্থান
কুরবান-বায়রাম, যা হাজি-বায়রাম নামেও পরিচিত, ইসলামি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে যুক্ত এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পড়ে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ইসলামি সম্প্রদায়ের নিয়মিত ধর্মীয় বর্ষপঞ্জিতে এটি অন্তর্ভুক্ত; উৎসবটি চার দিন স্থায়ী হয়, আর মূল পালন শুরু হয় প্রথম দিনে।[3][4]
ইসলামি শিক্ষায় কোরবানি আল্লাহর প্রতি ইব্রাহিমের আনুগত্যের স্মারক। ইসলামি সম্প্রদায় এই পালনকে ইবাদত ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে; অভাবী মানুষ, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মাংস ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এর সামাজিক উদ্দেশ্যও প্রকাশ পায়।[3]
প্রার্থনা, কোরবানি ও ভাগ করে নেওয়া
প্রথম দিন সকালে জামাতের সঙ্গে আদায় করা বায়রাম-নামাজ দিয়ে শুরু হয়। ইসলামি সম্প্রদায়ের প্রকাশ্য ঘোষণায় নামাজ ও খুতবাকে উদ্যাপনের কেন্দ্রীয় অংশ বলা হয়েছে; সারায়েভোর ঘোষণায় গাজী হুসরেভ-বেগ মসজিদে আনুষ্ঠানিক সমাবেশের কথাও ছিল।[3][4]
কিছু পরিবার নামাজের পর কুরবানি—উপযুক্ত পশুর ধর্মীয় জবাই—আয়োজন করে। ইসলামি সম্প্রদায়ের নির্দেশনায় পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্বল্পসচ্ছল মানুষের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। প্রস্তাবিত ভাগাভাগি সুপারিশ, বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়; নির্দেশনায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গেও মাংস ভাগ করার অনুমতি আছে।[3][5]
ইসলামি সম্প্রদায়ের বর্ণনায় দেখা-সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ও প্রকাশ্য উদ্যাপনের অংশ। তাদের ধর্মীয় নির্দেশনায় কোরবানিকে উদারতা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদ্ভাবের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে; একে শুধু পারিবারিক ভোজ হিসেবে দেখা হয় না।[3]
কারা ছুটি পান
ঈদুল আযহার জন্য সারা দেশে সবার কর্মস্থল বন্ধ রাখার কোনো একক নিয়ম নেই। রিপাবলিকা স্রপস্কায় ছুটিসংক্রান্ত আইনে কুরবান-বায়রামকে ধর্মীয় ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বাসীদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে বেতনসহ কর্মবিরতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কর্মবিরতির দিনে ছুটি পড়লে তা পরবর্তী কর্মদিবসে স্থানান্তর করা হয় না বলে আইনে বলা আছে।[1]
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফেডারেশনে ফেডারেল শ্রম ও সামাজিক নীতিমালা মন্ত্রণালয়ের বর্ণিত শ্রমবিধি অনুযায়ী, ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত প্রয়োজনে প্রত্যেক কর্মী প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ চার কর্মদিবস ছুটি নিতে পারেন, যার মধ্যে দুই দিন বেতনসহ। এটি ধর্মীয় ছুটির জন্য ব্যবহারযোগ্য ছুটির অধিকার; সব কর্মস্থল বন্ধ রাখার সাধারণ নির্দেশ নয়।[2]
মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাস্থ্যসেবা ও পুলিশসহ কিছু কর্মীর উৎসবের সময়ও নির্ধারিত দায়িত্ব থাকতে পারে। দপ্তর, ব্যাংক, দোকান বা পরিবহন পরিষেবা বন্ধ থাকবে ধরে নেওয়ার আগে নিয়োগকর্তা বা স্থানীয় পরিষেবার সঙ্গে খোঁজ নিন।[6]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সবার জন্য কি ঈদুল আযহায় ছুটি?
কুরবান-বায়রাম কবে হয়?
সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও দোকান কি বন্ধ থাকে?
সূত্র ও তথ্যসূত্র
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-এ ঈদুল আজহা-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- ZAKON O PRAZNICIMA REPUBLIKE SRPSKE- Vlada Republike Srpske
- FMRSP: O korištenju odsustva za obilježavanje vjerskih praznika- Vlada Federacije Bosne i Hercegovine
- Vjerski značaj, smisao i svrha kurbana- Islamska zajednica u Bosni i Hercegovini
- Kalendar Islamske zajednice- Islamska zajednica u Bosni i Hercegovini
- Propisi o kurbanu- Islamska zajednica u Bosni i Hercegovini
- FMRSP: Poštujmo prava radnika na odsustvo za vjerske praznike- Vlada Federacije Bosne i Hercegovine