তাইওয়ানে শান্তি স্মৃতি দিবস
তাইওয়ানে ২৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি হিসেবে শান্তি স্মৃতি দিবস পালিত হয়; ১৯৪৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে স্মরণ করে দিনটি পালন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণ, সরকারি স্মরণানুষ্ঠান ও ইতিহাসশিক্ষার জন্য দিনটি নির্ধারিত।[1][3][4]
জাতীয় স্মরণদিবস ও ছুটি
তাইওয়ানের বর্তমান বিধিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি শান্তি স্মৃতি দিবস এবং এক দিনের ছুটি হিসেবে নির্ধারিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমিতিগুলো স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে। সরকারি কর্মপঞ্জিতে সরকারি দপ্তর ও বিদ্যালয়ের সময়সূচি নির্ধারিত হয়; বিশেষ জনপরিষেবায় সময়সূচি সমন্বয় করা হতে পারে।[1]
তাইওয়ানের শ্রমমান আইনের আওতাভুক্ত শ্রমিকদের জন্য শান্তি স্মৃতি দিবস জাতীয় ছুটি। শ্রমিকের নির্ধারিত কর্মদিবসে দিনটি পড়লে নিয়োগকর্তাকে ছুটি দিতে হয়; শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে, খণ্ডকালীন ও ঘণ্টাভিত্তিক শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। নিয়মিত বিশ্রামের দিনে ছুটি পড়লে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী বিকল্প ছুটির ব্যবস্থা করা হয়। কোন দিন ছুটি পালিত হবে, তা জানতে সরকারি কর্মপঞ্জি ও নিয়োগকর্তার সময়সূচি দেখে নিন।[2]
১৯৪৭ সালে কী ঘটেছিল
১৯৪৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাইপেইয়ে তামাকের একচেটিয়া বাণিজ্যবিধি কার্যকর করা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক পথবিক্রেতার বিরোধের পর ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ বাড়ে; সৈন্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং রাজধানীর বাইরেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। স্মারক ফাউন্ডেশনের বিবরণে একাধিক কারণের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি অসদাচরণের বিরুদ্ধে জনরোষ ও অর্থনৈতিক দুর্দশা রয়েছে; একক কোনো কারণ নয়।[3][4]
সরকারি সামরিক দমন-পীড়ন ও পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানে মানুষ নিহত, আহত ও গ্রেপ্তার হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ঘটে। ফাউন্ডেশন পরবর্তী শ্বেত সন্ত্রাস ও কর্তৃত্ববাদী শাসনকে এই ঘটনার পরিণতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাই দিনটি তাইওয়ানের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক সময় এবং ঘটনাগুলো তদন্ত, ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে উপলব্ধি জোরদারের প্রচেষ্টাকে স্মরণ করে।[3][4]
তাইওয়ানে দিবসটি যেভাবে স্মরণ করা হয়
২২৮ স্মারক ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ কেন্দ্রীয় স্মরণানুষ্ঠান এবং নিহতদের ও তাঁদের পরিবারের জন্য ধর্মীয় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ফাউন্ডেশন স্মরণমূলক কনসার্ট ও প্রদর্শনীসহ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচিও আয়োজন করে।[5]
তাইপেইয়ের জাতীয় ২২৮ স্মারক জাদুঘরে স্মারক ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ঘটনাটির নানা উপাদান সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহীরা জাদুঘর ও ফাউন্ডেশনের অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন; খোলার সময় ও অনুষ্ঠানের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।[6]
ব্যবহারিক পরিকল্পনা
সরকারি দপ্তরগুলো বার্ষিক সরকারি কর্মপঞ্জি অনুসরণ করে, আর বেসরকারি খাতের ছুটির অধিকার আলাদাভাবে শ্রমবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সারা বছর চালু থাকা জনপরিষেবাগুলো সময়সূচি সমন্বয় করতে পারে, আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থানগুলো নিজেদের সময় নির্ধারণ করে। পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ব্যাংক, দোকান, পরিবহন পরিচালনাকারী বা জাদুঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[1][2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
তাইওয়ানে শান্তি স্মৃতি দিবস কবে?
প্রতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। রবিবারে পড়লে প্রযোজ্য সময়সূচি অনুযায়ী পরের সোমবার বিকল্প ছুটির দিন হয়; সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি কর্মপঞ্জি দেখে নিন।[1]
শ্রমিকেরা কি এদিন ছুটি পান?
শ্রমমান আইনের আওতাভুক্ত শ্রমিকের নির্ধারিত কর্মদিবসে জাতীয় ছুটি পড়লে তিনি ছুটি পান। সমঝোতা করে কাজ করলে ছুটির পারিশ্রমিক বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের বিধি প্রযোজ্য হয়।[2]
দপ্তর, দোকান ও দর্শনীয় স্থান কি খোলা থাকে?
সরকারি দপ্তরগুলো বার্ষিক কর্মপঞ্জি অনুসরণ করে। দোকান ও দর্শনীয় স্থান নিজেদের সময় নির্ধারণ করে, আর কিছু জনপরিষেবা সময়সূচি সমন্বয় করতে পারে; তাই যাওয়ার আগে সরাসরি জেনে নিন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
তাইওয়ান-এ শান্তি স্মৃতি দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- 2027 Work Calendar- Directorate-General of Personnel Administration, Executive Yuan
- 國定假日及補假- Ministry of Labor, Republic of China (Taiwan)
- Preface- Memorial Foundation of 228
- 228 Incident- Memorial Foundation of 228
- 簡介- Memorial Foundation of 228
- Introduction to the Memorial Museum- Memorial Foundation of 228