তুরস্কে বিজয় দিবস
তুরস্কে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট বিজয় দিবস বা Zafer Bayramı পালিত হয়। ১৯২২ সালে দুমলুপিনার যুদ্ধে তুরস্কের জয়কে স্মরণ করে এই দিনটি; তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কার মহান আক্রমণের চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক পর্যায় ছিল এই যুদ্ধ।[1][2]
নির্দিষ্ট তারিখের সরকারি ছুটি
তুরস্কের আইন নং ২৪২৯-এ ৩০ আগস্টকে বিজয় দিবস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সাধারণ সরকারি ছুটি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সরকারি ছুটিতে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে; তবে নিজ নিজ আইনের অধীনে যেসব সংস্থার কাজ চালু রাখা আবশ্যক, তারা এর ব্যতিক্রম।[1]
আইনে বিজয় দিবসের তারিখ ৩০ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে; ছুটির দিনটি সপ্তাহান্তে পড়লে পরবর্তী কর্মদিবসে সরিয়ে নেওয়ার বিধান নেই। এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো জাতীয় বা সরকারি ছুটি শুক্রবার সন্ধ্যায় শেষ হলে পরের শনিবারও ছুটি থাকবে। তবে এই নিয়মে রবিবারে পড়া ছুটির জন্য বিকল্প কোনো ছুটির দিন নির্ধারিত হয় না।[1]
তারিখটির পেছনের যুদ্ধ
এই ছুটিতে ২৬ আগস্ট ১৯২২-এ শুরু হওয়া মহান আক্রমণ এবং ৩০ আগস্টের চূড়ান্ত দুমলুপিনার যুদ্ধকে স্মরণ করা হয়। তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বর্ণনায়, এই যুদ্ধ ছিল তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধের শেষ পর্যায় ও চূড়ান্ত পরিণতি। মুস্তাফা কামাল পাশা যুদ্ধটির নেতৃত্ব দেন; এতে তুরস্ক নির্ণায়ক জয় লাভ করে।[2]
এই জয়ের পর গ্রিক বাহিনী পশ্চিম আনাতোলিয়া থেকে পিছু হটে, তবে এর ফলে সব যুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়নি বা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেনি। তুর্কি সেনাবাহিনী ৯ সেপ্টেম্বর ১৯২২-এ ইজমিরে প্রবেশ করে; অক্টোবরে মুদানিয়া যুদ্ধবিরতি হয় এবং ১৯২৩ সালের জুলাইয়ে লোজান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই ছুটি সামরিক জয়কে সেই সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে, যা তুরস্কের স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছিল।[2]
কীভাবে স্মরণ করা হয়
সরকারি আয়োজনের মূল বিষয় স্মরণানুষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনী। এসব অনুষ্ঠানে আনিতকাবিরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং কর্মকর্তাদের ছুটির শুভেচ্ছা গ্রহণের মতো কর্মসূচি থাকে। তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা ও কুচকাওয়াজও হয়েছে; সাধারণ মানুষ তা দেখেছেন এবং তুরস্কের পতাকা নেড়েছেন।[3]
আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগীত ও অন্যান্য অনুষ্ঠান থাকতে পারে। স্থান ও বছরভেদে আয়োজনের বিবরণ ভিন্ন হতে পারে, তাই কোনো নির্দিষ্ট কুচকাওয়াজ বা অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে স্থানীয় ঘোষণা দেখে নিন। মূল মনোযোগ থাকে ১৯২২ সালের জয় এবং স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে।[2][3]
কাজকর্ম, বন্ধ ও যাতায়াত
সরকারি ছুটির আইন অনুযায়ী সরকারি দপ্তর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে এই ছুটিতে বেসরকারি কর্মস্থলগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বন্ধ করতে হয় না: শ্রম মন্ত্রণালয়ের মতে, লিখিত চুক্তি বা যৌথ চুক্তিতে ছুটির দিনে কাজের শর্ত থাকতে পারে; তা না থাকলে কর্মীর আগাম লিখিত সম্মতি প্রয়োজন। সাধারণ সরকারি ছুটিতে কাজ করলে কর্মীরা ওই দিনের জন্য অতিরিক্ত এক দিনের মজুরি পাওয়ার অধিকারী।[1][4]
দোকান বা পরিবহন পরিষেবা কখন খোলা থাকবে, সে বিষয়ে আইন দেশব্যাপী কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করে না। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন সংস্থাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থা নিতে পারে। কোথাও অনুষ্ঠান হলে, তার বিবরণ এবং সড়ক বা পরিষেবার কোনো পরিবর্তন আছে কি না জানতে স্থানীয় বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।[1][3]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
তুরস্কে বিজয় দিবস কবে?
প্রতি বছর ৩০ আগস্ট এটি পালিত হয়।[1]
বিজয় দিবসে কি ছুটি থাকে?
সপ্তাহান্তে ছুটি পড়লে কি বিকল্প ছুটির দিন থাকে?
৩০ আগস্ট সপ্তাহান্তে পড়লে পরবর্তী কর্মদিবসে ছুটি সরিয়ে নেওয়ার বিধান আইনে নেই।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
তুরস্ক-এ বিজয় দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- ULUSAL BAYRAM VE GENEL TATİLLER HAKKINDA KANUN- T.C. Diyanet İşleri Başkanlığı
- 30 AĞUSTOS ZAFER BAYRAMI- T.C. Kültür ve Turizm Bakanlığı
- TBMM'DE 30 AĞUSTOS ZAFER BAYRAMI KONSERİ- Türkiye Büyük Millet Meclisi
- İş Kanunu- T.C. Çalışma ve Sosyal Güvenlik Bakanlığı