পর্তুগালে স্বাধীনতা দিবস
পর্তুগালে ২৫ এপ্রিল স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। দিনটি ১৯৭৪ সালের সেই বিপ্লবের বার্ষিকী, যা এস্তাদু নোভু একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের পথ খুলে দেয়। তারিখটি বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটি; এর আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতীক রাজনৈতিক স্বাধীনতার পথে দেশের রূপান্তরের কথা মনে করিয়ে দেয়।[1][2]
পর্তুগালের পরিবর্তন-আনা বিপ্লব
১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিল সশস্ত্র বাহিনী আন্দোলন (MFA) এক সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়, যার মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী এস্তাদু নোভু শাসনের অবসান ঘটে। পর্তুগালের সংসদ এই বিপ্লবকে দেশে গণতান্ত্রিক জীবনের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করে এবং জানায়, এর ফলে ঔপনিবেশিক যুদ্ধ মোকাবিলা, গণতন্ত্রীকরণ ও উন্নয়নের পথ খুলে যায়।[2]
MFA-র কর্মসূচিতে গণতন্ত্রীকরণ, উপনিবেশমুক্তি ও উন্নয়নের কথা ছিল। পরের বছরগুলোতে পর্তুগাল তার কয়েকটি সাবেক উপনিবেশের স্বাধীনতা স্বীকার করে, আর ১৯৭৫ সালের ২৫ এপ্রিল গণপরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালের সংবিধানে সংবাদপত্র ও ধর্মের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।[2]
কার্নেশন কীভাবে প্রতীক হয়ে উঠল
এই বিপ্লব কার্নেশন বিপ্লব নামেও পরিচিত। পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির আর্কাইভে কেলেস্তে কেইরোকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে: ১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৈন্যদের লাল কার্নেশন দিয়েছিলেন। তাঁর এই অঙ্গভঙ্গির সূত্রেই বিপ্লবটি পর্তুগাল ও বিদেশে পরিচিত নামটি পায়।[3]
এপ্রিলের স্মরণানুষ্ঠানে ফুলটি এখনও দৃশ্যমান প্রতীক। উদাহরণস্বরূপ, প্রজাতন্ত্রের সংসদের একটি কর্মসূচিতে কার্নেশন রোপণ, এপ্রিলের সঙ্গে জড়িত গান পরিবেশন, কবিতা ও প্রদর্শনী ছিল। এই উদাহরণগুলো একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচির বিবরণ; স্থান ও বছরভেদে কার্যক্রম ভিন্ন হতে পারে।[5]
জনজীবনে স্মরণানুষ্ঠান
বার্ষিকীটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পালিত হয়। প্রেসিডেন্সি জাদুঘরের নথিতে বিপ্লবের ২৫তম বার্ষিকীতে প্রজাতন্ত্রের সংসদে একটি গম্ভীর স্মরণসভা এবং তাতে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বের কথা আছে; ৫০তম বার্ষিকীতে সরকারি অনুষ্ঠান ও জনউদ্যাপনের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে।[4]
২৫ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে সংসদ ভবন দর্শনার্থীদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছে; সেখানে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম ছিল। নিজের এলাকার অনুষ্ঠান জানতে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় আয়োজকদের ঘোষণায় নজর রাখতে পারেন।[5]
সরকারি ছুটির নিয়ম ও ব্যবহারিক প্রভাব
পর্তুগালের শ্রমবিধিতে ২৫ এপ্রিল বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটির তালিকায় রয়েছে। নির্দিষ্ট আইন থাকলেই কেবল কিছু বাধ্যতামূলক ছুটি পরের সোমবারে সরানো যায়; ইস্টার-সম্পর্কিত বিকল্পটি গুড ফ্রাইডের জন্য। ছুটিটি ২৫ এপ্রিলেই নির্দিষ্ট থাকে।[1]
শ্রমবিধি অনুযায়ী, রবিবারে চালানো যায় না এমন কার্যক্রম বাধ্যতামূলক ছুটির দিনে বন্ধ বা স্থগিত রাখতে হয়। এর মানে এই নয় যে প্রতিটি কর্মস্থল বা দোকান বন্ধ থাকবে: রবিবারে চালানোর অনুমতি আছে এমন ব্যবসা চালু থাকতে পারে, আর খোলার ব্যবস্থা কার্যক্রমের ধরনের ওপর নির্ভর করে। যে পরিষেবা ব্যবহার করবেন, তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[1]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পর্তুগালে স্বাধীনতা দিবস কবে?
স্বাধীনতা দিবস কি সরকারি ছুটি?
হ্যাঁ। পর্তুগালের শ্রমবিধিতে ২৫ এপ্রিল বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটির তালিকায় রয়েছে।[1]
২৫ এপ্রিল সপ্তাহান্তে পড়লে কি ছুটি সোমবারে চলে যায়?
নির্দিষ্ট আইনে কিছু ছুটি সরানোর অনুমতি আছে, তবে ২৫ এপ্রিলের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোমবারে বিকল্প ছুটির বিধান নেই। ২৫ এপ্রিলই ছুটির তারিখ।[1]
দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
রবিবারে চালানো যায় না এমন কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত রাখতে হয়। পুরো দেশের জন্য আইন একটিমাত্র খোলার বা পরিবহন-সময়সূচি নির্ধারণ করে না, তাই দোকান বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নিন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
পর্তুগাল-এ স্বাধীনতা দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Código do Trabalho - CT - Subsecção IX- Diário da República; Assembleia da República
- A construção da Democracia (1974-1976)- Assembleia da República
- Presidente da República condecorou “Celeste dos Cravos”- Presidência da República Portuguesa (archive)
- MPR - Trigésimo sexto número- Museu da Presidência da República
- 25 de Abril | Parlamento de Portas Abertas | 14h30 - 18h00- Assembleia da República