নরওয়েতে শ্রমিক দিবস
নরওয়েতে Første mai নামে পরিচিত শ্রমিক দিবস ১ মে পালিত হয়; দিনটি শ্রমিকদের অধিকার ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি আইনস্বীকৃত সরকারি ছুটির দিন, আর মিছিল ও বক্তৃতা দিনটিকে প্রকাশ্য ও রাজনৈতিক আবহ দেয়।[1][2]
আইনি মর্যাদা ও পারিশ্রমিক
নরওয়ের ১ ও ১৭ মে-সংক্রান্ত আইন এই দুই দিনকেই রবিবারের সমতুল্য সরকারি উৎসবের দিন হিসেবে গণ্য করে; তবে ধর্মীয় উপাসনা এবং রবিবারের শান্তি-সংক্রান্ত নিয়মে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে। আইনটি ১ মে-তে স্থায়ী খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিক্রির ক্ষেত্রে রবিবার ও সরকারি ছুটির বিধিনিষেধও প্রয়োগ করে। অর্থাৎ এ দিনটি বিশেষ ছুটির নিয়মে পরিচালিত হয়; তবে এর মানে এই নয় যে ব্যতিক্রম ছাড়া সব কর্মস্থল বা দোকান বন্ধ রাখতে হবে।[2]
আইন অনুযায়ী, ১ মে রবিবার বা অন্য কোনো সরকারি ছুটির দিনে না পড়লে, আগের টানা ৩০ দিন একই নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করেছেন এমন কর্মীরা অথবা পরে অন্তত ৩০ দিন স্থায়ী কাজের জন্য নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা পূর্ণ বেতনের অধিকারী। যৌথ চুক্তিতে এসব বিধান ভিন্ন হতে পারে। যেসব কর্মীকে কাজ করতে হয়, তাঁরা চুক্তি বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত রবিবারে কাজের অতিরিক্ত ভাতার অধিকারী; এমন হার নির্ধারিত না থাকলে আইন অন্তত ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাতার কথা বলে।[2]
তারিখটি ১ মে-ই থাকে। দিনটিকে রবিবারের সমতুল্য গণ্য করার আইনি বিধান থেকে সপ্তাহান্তে পড়লে বিকল্প কোনো কর্মদিবস নির্ধারিত হয় না।[2]
উৎপত্তি ও তাৎপর্য
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সূত্রপাত দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন থেকে। নরওয়েতে ১৮৯০ সালের ১ মে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন; অসলোতে হাজার হাজার মানুষ আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে মিছিল করেন। এই দাবি বহু বছর ধরে আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল, এবং ১৯১৯ সালে নরওয়েতে আট ঘণ্টা কর্মদিবস আইনি অধিকার হয়।[1][3]
দিনটির আইনি মর্যাদার পেছনে নরওয়ের স্বতন্ত্র ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪২ সালে “শ্রমিক দিবস” নামে একে আইনত ছুটির দিন করা হয়; ১৯৪৫ সালে সেই আইন বাতিল হয় এবং ১৯৪৭ সালে ১ মে আবার সরকারি ছুটির দিন ও আইননির্ধারিত ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[1]
মানুষ যেভাবে দিনটি পালন করে
শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনগুলো সাধারণত মিছিল ও বক্তৃতার আয়োজন করে। নরওয়ের উদ্যাপনে পতাকা উত্তোলন, মে দিবসের প্রাতরাশ, গান ও সংগীতও রয়েছে; শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী গান “দ্য ইন্টারন্যাশনাল”।[1]
শ্রমিক ও সংগঠকেরা যে বিষয়গুলো সামনে আনতে চেয়েছেন, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনটির বার্তাও বদলেছে। শুরুতে আট ঘণ্টা কর্মদিবস ছিল প্রধান দাবি; পরবর্তী বিক্ষোভে কল্যাণমূলক দাবি, আন্তর্জাতিক সংহতি ও সামরিকতাবাদের বিরোধিতা উঠে এসেছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো কর্মসূচি ও স্লোগান ঠিক করেছে, তাই অনুষ্ঠান ও বিষয়বস্তু স্থানভেদে এবং বছরভেদে বদলাতে পারে।[1]
নরওয়ের প্রথম দিকের বিক্ষোভের স্থানীয় বৈশিষ্ট্যও ছিল। ১৮৯০ সালে অসলোতে মিছিলকারীরা ইয়ংস্টরগেট থেকে তুল্লিনলক্কা পর্যন্ত যান এবং সংসদ ভবনের সামনে থামেন। পরবর্তী ইতিহাসের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে ১৯২০ সালে বার্গেনে বড় মিছিল এবং ১৯৬৯ সালে ভিয়েতনামকে কেন্দ্র করে রানায় বিক্ষোভ; এগুলো নির্দিষ্ট বছরের ঘটনা, বর্তমানে দেশজুড়ে অনুসৃত কোনো স্থায়ী কর্মসূচি নয়।[3]
কী প্রত্যাশা করবেন
দর্শনার্থীদের জন্য সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যবহারিক বিষয় হলো স্থায়ী খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিক্রির ক্ষেত্রে রবিবারের সমতুল্য নিয়ম। আইনটি নরওয়ের ছুটি ও ছুটির দিনের শান্তি-সংক্রান্ত আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান ১ মে-তে প্রয়োগ করে; ফলে ব্যতিক্রমসহ দোকান খোলার ক্ষেত্রেও রবিবারের একই নিয়ম প্রযোজ্য।[2]
ছুটির আইন অফিস, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, জাদুঘর বা গণপরিবহনের জন্য একক সময়সূচি দেয় না। পরিকল্পনার আগে নির্দিষ্ট স্থানের খোলার সময় ও স্থানীয় যাতায়াতের তথ্য দেখে নিন; কোথাও মিছিল বা সমাবেশ হলে স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলুন।[2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নরওয়েতে শ্রমিক দিবস কবে?
প্রতি বছর ১ মে এটি পালিত হয়। আইনে ১ মেকে সরকারি উৎসবের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; সপ্তাহান্তে পড়লে বিকল্প কোনো কর্মদিবস দেওয়ার বিধান নেই।[2]
নরওয়েতে শ্রমিক দিবসে কি ছুটি থাকে?
আইন অনুযায়ী এটি রবিবারের মতো গণ্য একটি আইননির্ধারিত সরকারি ছুটির দিন। আপনার ব্যক্তিগতভাবে ছুটি থাকবে কি না, তা কাজের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে; যোগ্য কর্মী এবং যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য আইন পারিশ্রমিকের বিধানও নির্ধারণ করে।[2]
শ্রমিক দিবসে কি দোকান খোলা থাকে?
স্থায়ী খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিক্রির ক্ষেত্রে নরওয়ের ছুটি ও ছুটির দিনের শান্তি-সংক্রান্ত আইনের রবিবার ও সরকারি ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য। নির্দিষ্ট দোকানের সময় জানতে স্থানীয় তালিকা দেখে নিন।[2]
শ্রমিক দিবসে কী হয়?
শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনগুলো সাধারণত মিছিল ও বক্তৃতার আয়োজন করে। কোথাও কোথাও পতাকা উত্তোলন, মে দিবসের প্রাতরাশ, গান ও সংগীতও থাকে; তবে স্থানীয় কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
নরওয়ে-এ শ্রমিক দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- 1. mai- Store norske leksikon
- Lov om 1 og 17 mai- Norwegian Labour Inspection Authority
- Det første skritt til frihet- Landsorganisasjonen i Norge (LO)