নরওয়েতে পবিত্র বৃহস্পতিবার
নরওয়েজীয় ভাষায় Skjærtorsdag নামে পরিচিত পবিত্র বৃহস্পতিবার নরওয়ের সরকারি ছুটির দিন এবং ইস্টারের ছুটির সময়ের অংশ। ইস্টারের সঙ্গে এর তারিখ বদলায়; দিনটির ধর্মীয় তাৎপর্য ও নরওয়ের ইস্টার-রীতির কারণে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের গির্জার উপাসনা এবং ছুটির দিনের শান্ত গতির বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হয়।[1][4]
আইনে নির্ধারিত সরকারি ছুটি
নরওয়ের ছুটি ও ছুটির দিনের শান্তি-সংক্রান্ত আইনে Skjærtorsdag-কে ছুটির দিন বলা হয়েছে এবং ইস্টার সানডের আগের শেষ বৃহস্পতিবার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তারিখটি ইস্টারের ওপর নির্ভর করায় বছর বছর বদলায়; আইনটি বৃহস্পতিবারটিকেই নির্দিষ্ট করে, তবে অন্য কোনো ছুটির দিনে পড়লে বিকল্প কর্মদিবসের বিধান দেয় না।[1]
কাজের ধরন জরুরি করে না তুললে কর্মপরিবেশ আইন অনুযায়ী সাধারণত রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনে কাজ নিষিদ্ধ। ফলে অনেক কর্মী ছুটি পান, তবে আইনের আওতায় পড়ে এমন কিছু পরিষেবা ও অন্যান্য কাজ চলতে পারে। কর্মী ওই দিনের বেতন পাবেন কি না, তা প্রযোজ্য চাকরির চুক্তি বা যৌথ চুক্তির ওপর নির্ভর করে; শুধু ছুটির দিনের স্বীকৃতি সাধারণভাবে বেতন পাওয়ার অধিকার নির্ধারণ করে না।[2]
Skjærtorsdag-এর খ্রিস্টীয় তাৎপর্য
গির্জার বর্ষপঞ্জিতে পবিত্র বৃহস্পতিবার যিশুর গ্রেপ্তার ও ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগের দিনটিকে স্মরণ করে, যেদিন তিনি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন। নরওয়ের গির্জা জানায়, নরওয়েজীয় নাম Skjærtorsdag এসেছে পুরোনো নর্স শব্দ skíra থেকে, যার অর্থ “শুচি করা”; নামটি ভোজের আগে যিশুর শিষ্যদের পা ধোয়ার সুসমাচারের বিবরণের সঙ্গেও সম্পর্কিত।[4]
এই দিনে যিশুর শিষ্যদের সঙ্গে ভোজ ভাগ করে নেওয়া এবং প্রভুভোজের প্রবর্তনও স্মরণ করা হয়। নরওয়েতে নরওয়ের গির্জার মণ্ডলীগুলো সাধারণত সন্ধ্যায় উপাসনার আয়োজন করে; কোথাও কোথাও উপাসনার আগে খাবারের ব্যবস্থা থাকে। এগুলো স্থানীয়ভাবে পালনের ধরন, দেশজুড়ে একক কোনো অনুষ্ঠান নয়।[4]
নরওয়ের ইস্টার-রীতি
পবিত্র বৃহস্পতিবার নরওয়ের দীর্ঘতর ইস্টার-ছুটির পর্বের মধ্যে পড়ে, যা বাইরের ভ্রমণ ও কুটিরে সময় কাটানোর জন্য পরিচিত। নরওয়ের পর্যটন বোর্ডের বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষ স্কি করতে পাহাড়ি কুটিরে যায় এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়; কমলা ও Kvikk Lunsj চকোলেট পরিচিত ইস্টার-নাশতার মধ্যে রয়েছে। এগুলো ঋতুভিত্তিক জনপ্রিয় অনুষঙ্গ, সবার অনুসৃত রীতি নয়।[6]
Påskekrim, অর্থাৎ ইস্টার-পর্বের অপরাধকাহিনি, এই সময়ের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি স্বতন্ত্র নরওয়েজীয় রীতি। ইস্টারে অপরাধকাহিনি পড়া ও অপরাধবিষয়ক নাটক দেখা এর অন্তর্ভুক্ত। Visit Norway জানায়, ১৯২৩ সালে একটি অপরাধ উপন্যাসের বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে এর জনপ্রিয় সূচনা হয়; পত্রিকার শিরোনামে কাল্পনিক ট্রেন ডাকাতির ঘটনাটি বাস্তব খবর বলে মনে হয়েছিল।[5]
দিনটিতে কী প্রত্যাশা করবেন
ছুটি ও ছুটির দিনের শান্তি-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা স্থায়ী দোকানগুলো সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ রাখতে হয়। আইনে কিছু ব্যতিক্রম আছে, যেমন প্রধানত মুদি বা কিয়স্কের পণ্য বিক্রি করা ছোট দোকান, শর্তপূরণকারী পেট্রল স্টেশন, কিছু বিমানবন্দরের দোকান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত পর্যটন এলাকার দোকান। রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য পরিষেবা-প্রতিষ্ঠানে একই স্থায়ী দোকান-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য নয়, তাই খোলার সময় ভিন্ন হতে পারে।[3]
সরকারি পরিষেবা ও কর্মস্থলেও ছুটির সময়সূচি অনুসরণ করা হতে পারে; কাজের ধরন জরুরি করলে কাজ চলতে পারে। যাত্রার আগে নির্দিষ্ট দোকান, পরিষেবা বা পরিবহন পরিচালনাকারীর খোলার সময় জেনে নিন; উদ্ধৃত জাতীয় নিয়মে নরওয়েজুড়ে গণপরিবহনের একক সময়সূচি নির্ধারিত নেই।[2][3]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নরওয়েতে পবিত্র বৃহস্পতিবার কি সরকারি ছুটির দিন?
হ্যাঁ। নরওয়ের ছুটি ও ছুটির দিনের শান্তি-সংক্রান্ত আইনে Skjærtorsdag-কে সরকারি ছুটির দিন বলা হয়েছে এবং ইস্টার সানডের আগের শেষ বৃহস্পতিবার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।[1]
কর্মীরা কি এ দিন ছুটি পান?
কাজের ধরন জরুরি না হলে সরকারি ছুটির দিনে কাজ সাধারণত নিষিদ্ধ। তাই কিছু কর্মী কাজ করেন, আর বেতনের ব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক চাকরির চুক্তি বা যৌথ চুক্তির ওপর নির্ভর করে।[2]
পবিত্র বৃহস্পতিবারে কি দোকান খোলা থাকে?
ভোক্তাপণ্য বিক্রির বেশির ভাগ স্থায়ী দোকান বন্ধ রাখতে হয়। আইনে কিছু ছোট মুদি বা কিয়স্কের দোকান, শর্তপূরণকারী পেট্রল স্টেশন, কিছু বিমানবন্দরের দোকান এবং নির্ধারিত পর্যটন এলাকার জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে।[3]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
নরওয়ে-এ পবিত্র বৃহস্পতিবার-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Lov om helligdager og helligdagsfred- Lovdata
- Arbeidsmiljøloven – aml- Norwegian Labour Inspection Authority
- Lov om helligdager og helligdagsfred - Salg fra faste utsalgssteder- Lovdata
- Skjærtorsdag- Church of Norway
- Easter crime: Norwegian Easter equals brutal murders | The Norwegian phenomenon påskekrim- Visit Norway
- Easter in Norway | Holiday in Norway- Visit Norway