লাইবেরিয়ায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস
লাইবেরিয়ায় ১১ ফেব্রুয়ারি সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়। এটি লাইবেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে সম্মান জানানো এবং ১৯০৯ সালের একটি সামরিক বিদ্রোহের ঘটনা স্মরণ করার জাতীয় সরকারি ছুটি। জাতীয় আইন অনুযায়ী তারিখটি নির্ধারিত, আর সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ উপলক্ষে সামরিক অনুষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।[1][2]
লাইবেরিয়ার ইতিহাস থেকে বেছে নেওয়া তারিখ
জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে কর্নেল ফ্রান্সিস এম. ডিন এমন একটি দিনের প্রস্তাব দেন, যেদিন লাইবেরিয়ার বিভিন্ন স্থানের সামরিক ইউনিট প্যারেড ও মহড়ার জন্য একত্র হতে পারবে। আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট আর্থার বার্কলের শাসনামলে সংঘটিত এক সশস্ত্র সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত তারিখ বেছে নেন: তৎকালীন লাইবেরিয়ান ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কমান্ড্যান্ট মেজর ক্যাডেলের নেতৃত্বে বিদ্রোহটি ঘটেছিল।[1]
১৯০৯ সালের ঘটনাটির বিবরণ পর্যালোচনার সঙ্গে সঙ্গে তারিখও বদলেছে। মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসবিবরণে বলা হয়েছে, ১৯৫৫ সালের আইনে প্রথমে ৯ মে নির্ধারণ করা হয়; ১৯৫৬ সালের এক সংশোধনীতে দিনটি ৯ ফেব্রুয়ারি করা হয়; এরপর ১৯৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারির আরেক সংশোধনীতে ১১ ফেব্রুয়ারি স্থির হয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যে, এই ছুটি সামরিক সদস্যদের সম্মান জানায় এবং তাঁদের পূর্বসূরিদের কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দেয়।[1]
লাইবেরিয়ায় দিবসটি যেভাবে পালিত হয়
সশস্ত্র বাহিনী দিবস লাইবেরিয়ার জাতীয় দিবস; এটি বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীগুলোর প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধা জানানোর দিনমাত্র নয়। সরকারি ঘোষণায় সামরিক ও আধাসামরিক সংগঠনগুলোকে প্যারেডসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি উদ্যাপনে লাইবেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের প্রবীণ সদস্যদেরও সম্মান জানানো হয়েছে।[2]
জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ণনায়, দিবসটির মূল ভাবনা ছিল সামরিক ইউনিটগুলোর সদর দপ্তরে সমবেত হয়ে মাঠপর্যায়ের অনুষ্ঠান, প্যারেড ও পরিকল্পিত মহড়ায় অংশ নেওয়া। সরকারি ঘোষণায় রাজধানী মনরোভিয়ার বার্কলে ট্রেনিং সেন্টারে জাতীয় উদ্যাপনের কথা বলা হয়েছে; তবে স্থান ও কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট বছরের ঘোষণার ওপর নির্ভর করতে পারে।[1][2]
সরকারি ছুটি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় আইনে প্রতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি নির্ধারিত এবং সারা লাইবেরিয়ায় এটি জাতীয় ছুটি। ঘোষণায় এ উপলক্ষে সরকারি দপ্তর, জনসাধারণের ব্যবহারের প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। পরিকল্পনা করার আগে ব্যাংক, দোকান, স্কুল ও পরিবহন পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[2]
পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনসেশনস কমিশনের একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকায় সশস্ত্র বাহিনী দিবসকে কর্মীদের বেতনসহ সরকারি ছুটির তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো জাতীয় ছুটি রবিবারে পড়লে পরের দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে গণ্য করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতীতের বিবরণে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ক্ষেত্রেও রবিবারের এই নিয়ম প্রয়োগের কথা রয়েছে।[3][4]
লাইবেরিয়ায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লাইবেরিয়ায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস কবে?
সশস্ত্র বাহিনী দিবস কি সরকারি ছুটি?
হ্যাঁ। লাইবেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে সারা দেশের জাতীয় ছুটি হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং ঘোষণায় সরকারি দপ্তর, জনসাধারণের ব্যবহারের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে।[2]
১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার হলে কি বিকল্প ছুটি থাকে?
ব্যাংক, দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
ঘোষণায় সরকারি দপ্তর, জনসাধারণের ব্যবহারের প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। ব্যাংক, নির্দিষ্ট দোকান ও পরিবহন পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে তাদের ব্যবস্থা জেনে নিন।[2]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
লাইবেরিয়া-এ সশস্ত্র বাহিনী দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Brief History of AFL- Ministry of National Defense, Republic of Liberia
- President Boakai Declares Wednesday, February 11, As Armed Forces Day- Ministry of Foreign Affairs, Republic of Liberia
- PPCC Administrative Manual & Organogram- Public Procurement and Concessions Commission, Republic of Liberia
- Daily Media Summary Feb. 09,2018- Ministry of Foreign Affairs, Republic of Liberia