জাপানে শারদীয় বিষুব দিবস
শারদীয় বিষুব দিবস জাপানের একটি জাতীয় ছুটি। এর তারিখ শরৎ বিষুবের ওপর নির্ভর করে, আর আইনে এর উদ্দেশ্য পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানো ও মৃতদের স্মরণ করা।[1] শরতের ওহিগান পর্বে অনেকে পরিবারের কবর দেখতে যান, আর কেউ কেউ বাড়িতে বা পারিবারিক বেদিতে ওহাগি নিবেদন করেন।[4][5]
তারিখ পরিবর্তনশীল একটি ছুটি
জাপানের ছুটিসংক্রান্ত আইনে দিনটির নাম শূবুন নো হি, অর্থাৎ শারদীয় বিষুব দিবস; নির্দিষ্ট তারিখ না দিয়ে একে শরৎ বিষুবের দিন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আইনে এর উদ্দেশ্য পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানো এবং যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের স্মরণ করা বলে উল্লেখ আছে।[1]
জাপানের জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণাগারের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিষুবের দিন হলো সেই ক্যালেন্ডার-দিন, যার মধ্যে সূর্য শরৎ বিষুব বিন্দু অতিক্রম করে। আগের বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি গেজেটে পর্যবেক্ষণাগারের বর্ষপঞ্জি প্রকাশিত হলে ছুটির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়। এ কারণেই বছরভেদে তারিখ বদলাতে পারে।[1][2]
আইনি মর্যাদা ও ছুটিটির ইতিহাস
১৯৪৮ সালে জাতীয় ছুটিসংক্রান্ত আইন প্রণীত হওয়ার পর থেকে শারদীয় বিষুব দিবস জাপানের জাতীয় ছুটিগুলোর একটি। আইনে বলা হয়েছে, জাতীয় ছুটিগুলো ছুটির দিন। এ ছাড়া বিকল্প দিনের নিয়মও রয়েছে: কোনো জাতীয় ছুটি রবিবারে পড়লে তার পরের নিকটতম দিনটি, যেটি নিজে জাতীয় ছুটি নয়, ছুটি হিসেবে গণ্য হয়।[1][3]
যুদ্ধপূর্ব ছুটির বর্ষপঞ্জিতে এ দিনের পূর্বসূরি ছিল শূকি কোরেইসাই—সম্রাটের পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানোর সঙ্গে যুক্ত একটি রাজদরবারের আচার। যুদ্ধোত্তর আইনে শরৎ বিষুবকে ছুটি হিসেবে রাখা হয়, তবে এর অর্থ নির্ধারণ করা হয় পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানো ও মৃতদের স্মরণ করার মাধ্যমে।[1][3]
ওহিগান, কবর দেখতে যাওয়া ও ওহাগি
শারদীয় বিষুব দিবস শরতের ওহিগান পর্বের মধ্যবর্তী দিন; এ পর্বে এর আগের ও পরের তিন দিনও অন্তর্ভুক্ত। কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় বিষুব-পর্বের সঙ্গে যুক্ত রীতি হিসেবে কবর দেখতে যাওয়া এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে নিবেদনের কথা উল্লেখ করেছে। আত্মীয়স্বজনকে স্মরণ করতে পরিবারগুলো কবরস্থানে যেতে পারে, যদিও রীতি ও অংশগ্রহণ পরিবারভেদে আলাদা।[4]
ওহাগি শরতের পরিচিত নিবেদন ও মৌসুমি খাবার। চালের গোলা বানিয়ে তার ওপর মিষ্টি শিমের পেস্ট বা অন্য কোনো আবরণ দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, এর নাম ও রেসিপি বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন; কিছু জায়গায় শরতেও একে বোটামোচি বলা হয়। দিনটির সরকারি তাৎপর্য স্মরণ, আর নির্দিষ্ট খাবার ও আচার পারিবারিক ও স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ।[4][5]
কাজ ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে কী আশা করবেন
ছুটিসংক্রান্ত আইন দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করেছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক বেসরকারি কর্মস্থল বন্ধ থাকবে। জাপানের শ্রমমান আইনে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন, অথবা চার সপ্তাহে চার দিনের বিশ্রামের শর্ত রয়েছে; কাজের সময়সূচি নির্ভর করে কর্মস্থলের নিয়মের ওপর। কাজ করতে হবে কি না জানতে কর্মীদের নিয়োগকর্তার ক্যালেন্ডার দেখে নেওয়া উচিত।[1][6]
ছুটিটির আইনি মর্যাদা থেকে সব দোকান, সেবা বা পরিবহন সংস্থার একই খোলার সময়সূচি ধরে নেওয়া যায় না। জাপান পোস্টের লোকেশন সার্চে প্রতিটি ডাকঘরের তথ্য পাওয়া যায়, যার মধ্যে সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে কাউন্টার খোলা থাকে এমন শাখাও রয়েছে। ভ্রমণকারীদের নির্দিষ্ট ডাকঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে খোলার সময় ও সেবার সময়সূচি জেনে নেওয়া উচিত।[7]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
জাপানে শারদীয় বিষুব দিবসে কি ছুটি থাকে?
তারিখ কেন বদলায়?
ছুটির দিনে মানুষ কী করেন?
দোকান, ডাকঘর ও পরিবহনসেবা কি খোলা থাকে?
খোলার সময় ও সেবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানভেদে আলাদা। জাপান পোস্টের সার্চে স্থানীয় ডাকঘরগুলোর সময়সূচি, ছুটির দিনের কাউন্টারসহ, দেখা যায়। প্রতিটি দোকান বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সময়সূচি জেনে নিন।[7]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
জাপান-এ শারদীয় বিষুব দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- 国民の祝日について- Cabinet Office, Government of Japan
- 何年後かの春分の日・秋分の日はわかるの?- National Astronomical Observatory of Japan
- 各「国民の祝日」について (参考情報)祝日法制定の経緯- Cabinet Office, Government of Japan
- 春の和菓子ぼたもち- Ministry of Agriculture, Forestry and Fisheries
- ぼた餅 栃木県- Ministry of Agriculture, Forestry and Fisheries
- 労働時間・休日- Ministry of Health, Labour and Welfare
- 郵便局・ATM・ポストをさがす- Japan Post Co., Ltd.