জাপানে মেরিন ডে
মেরিন ডে, বা উমি নো হি, জাপানে জুলাইয়ের তৃতীয় সোমবার জাতীয় ছুটি হিসেবে পালিত হয়। সমুদ্রের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো এবং সামুদ্রিক জাতি হিসেবে জাপানের সমৃদ্ধি কামনা করাই এ দিনের উদ্দেশ্য।[1]
জাপানের সামুদ্রিক ইতিহাসে নিহিত ছুটি
ছুটিটির ইতিহাস ১৮৭৬ সাল পর্যন্ত পৌঁছায়, যখন সম্রাট মেইজি উত্তর-পূর্ব জাপান সফর শেষে সমুদ্রপথে ইয়োকোহামায় ফেরেন। তিনি মেইজি মারু নামের বাতিঘর পরিদর্শনকারী জাহাজে ভ্রমণ করেন। ২০ জুলাই তাঁর প্রত্যাবর্তন পরে ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত মেরিন স্মৃতি দিবসের ভিত্তি হয়।[2]
১৯৯৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে মেরিন ডে জাপানের জাতীয় ছুটির তালিকায় যুক্ত হয় এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম ছুটি হিসেবে পালিত হয়। শুরুতে দিনটি ছিল ২০ জুলাই; অবসর সময় বাড়াতে ২০০৩ সাল থেকে জুলাইয়ের তৃতীয় সোমবারে পালন করা হচ্ছে। জাপানের মন্ত্রিসভা কার্যালয় দিনটিকে সমুদ্রের অবদানের কদর এবং যার ইতিহাস ও জীবন দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত, সেই দেশের সমৃদ্ধি কামনার দিন হিসেবে বর্ণনা করে।[1]
মানুষ যেভাবে দিনটি পালন করে
সারা দেশে সবাই যে একই রীতি অনুসরণ করেন, এমন কোনো একক রীতি নেই। ছুটিটির উদ্দেশ্য হলো সমুদ্র, তার সম্পদ এবং জাপানের জীবনে তার ভূমিকার প্রতি কদর বাড়ানো। মন্ত্রিসভা কার্যালয় জানায়, সমুদ্র সম্পর্কে জনসাধারণের উপলব্ধি ও আগ্রহ বাড়াতে সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অনুষ্ঠান আয়োজনে উৎসাহিত করা হয়।[1]
স্থান ও বছরভেদে কার্যক্রম ভিন্ন হয়। সরকারি বিবরণে জাহাজ ও সামুদ্রিক অভিজ্ঞতা, প্রদর্শনী এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে; সমুদ্র সম্পর্কে প্রচারের জন্য জুলাইকে মেরিন মাসও ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠান ছুটি পালনের সুযোগ দেয়, তবে সময়সূচি ও প্রাপ্যতা স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত হয়।[3]
জাতীয় ছুটি ও দীর্ঘ সপ্তাহান্ত
জাপানের জাতীয় ছুটি আইনে জুলাইয়ের তৃতীয় সোমবারকে মেরিন ডে হিসেবে জাতীয় ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী জাতীয় ছুটির দিনগুলো ছুটির দিন। কোনো জাতীয় ছুটি রবিবারে পড়লে বিকল্প ছুটির বিধানও রয়েছে; মেরিন ডে সোমবার নির্ধারিত হওয়ায় রবিবারের সেই নিয়মে এর জন্য অতিরিক্ত ছুটি তৈরি হয় না।[1]
জাতীয় ছুটি হলেই প্রত্যেক কর্মীর কাজ থেকে ছুটি নিশ্চিত হয় না। স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নমুনা কর্মসংস্থান বিধিতে বলা হয়েছে, কর্মস্থলের নিয়মে নিয়োগকর্তারা ছুটির দিন নির্ধারণ করেন। কর্মীদের নিজেদের কাজের সময়সূচি যাচাই করা উচিত।[4]
মেরিন ডে ঘিরে পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠান ও অঞ্চলভেদে খোলার সময় ভিন্ন হয়। জাপানের পর্যটন সংস্থা জানায়, শহরের দোকান সাধারণত প্রতিদিন খোলা থাকে, আর অফিসগুলো সাধারণত কর্মদিবসে চলে; কিছু কনভেনিয়েন্স স্টোর ও চেইন প্রতিষ্ঠান জাতীয় ছুটিসহ দিনরাত খোলা থাকে। ছুটির দিনের সময়সূচি জানতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করুন।[5]
যাদের নিয়মিত ছুটি শনিবার ও রবিবার, তাদের জন্য এই ছুটিতে তিন দিনের সপ্তাহান্ত হতে পারে। ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেল বা বাস সংস্থার সময়সূচি দেখুন এবং নির্দিষ্ট পরিষেবার ওপর পরিকল্পনা নির্ভর করলে আগাম বুকিং করুন; সময়সূচি ও ব্যবসার খোলার সময় ভিন্ন হতে পারে।[2][5]
মেরিন ডে নিয়ে প্রশ্ন
মেরিন ডে কবে?
প্রতি বছর জুলাইয়ের তৃতীয় সোমবার এ দিনটি পড়ে। নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তারিখের বদলে সপ্তাহের দিন ধরে ছুটি নির্ধারিত হওয়ায় বছরভেদে তারিখ বদলায়।[1]
মেরিন ডেতে কি সবার ছুটি?
দোকান, অফিস ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
সময়সূচি ভিন্ন হয়। দোকান খোলা থাকতে পারে, আর অফিসগুলো সাধারণত কর্মদিবসে চলে; কিছু দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন পরিচালনাকারীর সময়সূচি জেনে নিন।[5]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
জাপান-এ মেরিন ডে-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- 各「国民の祝日」について- Cabinet Office, Government of Japan
- 特集 今年は30回目の海の日!- Ministry of Land, Infrastructure, Transport and Tourism
- 海事:海に親しむ- Ministry of Land, Infrastructure, Transport and Tourism
- The Model Rules of Employment- Ministry of Health, Labour and Welfare
- Japan Business Hours | Japan Holidays | Travel Japan | JNTO- Japan National Tourism Organization