ইতালিতে বড়দিন
ইতালিতে ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মোৎসব হিসেবে তালিকাভুক্ত বড়দিন জাতীয় সরকারি ছুটি। এটি ধর্মীয় উৎসব; প্রেসবেপে বা যিশুর জন্মদৃশ্য নির্মাণের ঐতিহ্যের সঙ্গে ইতালির বিশেষ যোগ রয়েছে। দিনটি সারা দেশে কাজ ও খোলার সময়সূচিতে প্রভাব ফেলে।[1][2]
জাতীয় সরকারি ছুটি
ইতালির ছুটির বর্ষপঞ্জিতে ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মোৎসব এবং ২৬ ডিসেম্বর সেন্ট স্টিফেনের পর্ব হিসেবে চিহ্নিত। বড়দিনের তারিখ নির্দিষ্ট।[1]
কর্মীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ছুটির অর্থ বেতনসহ কাজ থেকে অব্যাহতি। ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি ছুটিতে কর্মীরা স্বাভাবিক বেতন বজায় রেখে কাজে অনুপস্থিত থাকার অধিকারী; তবে এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয়, এবং চুক্তি বা প্রযোজ্য সমষ্টিগত নিয়ম অনুযায়ী সম্মতিতে ছুটির দিনে কাজের ব্যবস্থা থাকতে পারে।[2]
ধর্মীয় তাৎপর্য ও গ্রেচ্চোর যিশুর জন্মদৃশ্য
খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে বড়দিন যিশুর জন্ম স্মরণ করে। ইতালিতে যিশুর জন্মদৃশ্য, বা প্রেসবেপে, রিয়েতির কাছে গ্রেচ্চোর সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িত: ভ্যাটিকানের বিবরণে বলা হয়েছে, ১২২৩ সালের বড়দিনে সেন্ট ফ্রান্সিস সেখানে জীবন্ত জন্মদৃশ্য সাজিয়েছিলেন; তাতে ছিল যাবপাত্র, খড়, একটি বলদ ও একটি গাধা, পরে প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।[3]
সাধারণ মানুষের কাছে সুসমাচারের কাহিনি তুলে ধরাই ছিল সেই দৃশ্যের উদ্দেশ্য। বাড়িতে ও জনসমাগমের স্থানে জন্মদৃশ্য সাজানোর প্রচলনে ইতালির এই যোগসূত্র আজও বজায় আছে, তবে ভ্যাটিকানের সূত্রটি এর ধর্মীয় তাৎপর্য বর্ণনা করে—প্রতিটি পরিবার এই রীতি পালন করে, এমন দাবি করে না।[3]
খাবার ও পারিবারিক রীতি
ইতালিতে বড়দিনের রীতি পরিবার ও অঞ্চলভেদে আলাদা, তাই সারা দেশে একটিই খাবারের তালিকা আশা করা যায় না। দেশজুড়ে বড়দিনের সঙ্গে যুক্ত দুটি মিষ্টি হলো প্যানেত্তোনে, যা মিলানের সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং পান্দোরো, যার আধুনিক রূপ ১৮৮৪ সালে ভেরোনায় পেটেন্ট করা হয়। বড়দিনের মৌসুমে দুটিই ইতালিজুড়ে খাওয়া হয়।[4]
ইতালির জাতীয় পর্যটন সাইটে আঞ্চলিক উৎসবের মিষ্টিরও বিবরণ রয়েছে; এর মধ্যে লিগুরিয়ার পান্দোলচে এবং তুস্কানির পানফোর্তে ও রিচ্চারেল্লি রয়েছে। এই উদাহরণগুলো আঞ্চলিক বৈচিত্র্য দেখায়, প্রতিটি পরিবারের জন্য বড়দিনের একক নির্ধারিত খাবার নয়।[5]
কী কী খোলা থাকতে পারে
জাতীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের মতে, জাতীয় ছুটিতে অধিকাংশ উৎপাদনমূলক কাজকর্ম এবং সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর বন্ধ থাকে। কিছু ছুটিতে জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক স্থান বন্ধ হয়, তাই পরিকল্পনা করার আগে স্থানের সরকারি খোলার সময়সূচি দেখে নিন।[1]
একই নির্দেশিকা অনুযায়ী, বার, মিষ্টির দোকান, আইসক্রিমের দোকান ও রেস্তোরাঁ খোলা থাকতে পারে, তবে খোলার সময় ভিন্ন হতে পারে। আগে থেকে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; ভ্রমণকারীদের ছুটির সময়সূচির জন্য স্থানীয় পরিবহন সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা উচিত।[1]
ইতালিতে বড়দিন: সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইতালিতে বড়দিন কবে?
প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর দিনটি পালিত হয় এবং ইতালির জাতীয় ছুটির বর্ষপঞ্জিতে যিশুর জন্মোৎসব হিসেবে রয়েছে।[1]
বড়দিনে কি কর্মীদের ছুটি থাকে?
যিশুর জন্মদৃশ্য কী উপস্থাপন করে?
জন্মদৃশ্যটি গসপেলের গল্পকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে। সেন্ট ফ্রান্সিস ১২২৩ সালের বড়দিনে গ্রেচ্চিওতে একটি জীবন্ত জন্মদৃশ্য সাজিয়েছিলেন।[3]
দোকান, রেস্তোরাঁ ও জাদুঘর কি খোলা থাকে?
অনেক কর্মস্থল এবং সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর বন্ধ থাকে। কিছু সাংস্কৃতিক স্থান বন্ধ হয়, আর বার, মিষ্টির দোকান, আইসক্রিমের দোকান ও রেস্তোরাঁ খোলা থাকতে পারে; যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট স্থানের তথ্য দেখে নিন।[1]
গণপরিবহন কি স্বাভাবিকভাবে চলে?
যাত্রার আগে ছুটির দিনের পরিষেবা-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য স্থানীয় পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইতালি-এ বড়দিন-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Orari, fuso orario e festività in Italia- Italia.it, Ministry of Tourism
- Carta Sociale EU art 4- Ministero del Lavoro e delle Politiche Sociali
- Apostolic Letter “Admirabile signum” on the meaning and importance of the nativity scene (1 December 2019)- The Holy See
- The history of pandoro and panettone, the two kings of an Italian Christmas- Italia.it, Ministry of Tourism
- Typical Christmas sweets in northern and central Italy- Italia.it, Ministry of Tourism