ইরানে ইমাম আলীর জন্মদিবস
ইরানে ১৩ রজবে ইমাম আলীর জন্মদিবস সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়; দেশের ছুটিসংক্রান্ত আইনে এই তারিখ উল্লেখ আছে। ইরানে দিনটির পারিবারিক তাৎপর্যও রয়েছে: এটি বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয় এবং মাশহাদ ও কোমের মাজারে সমাবেশ ও দর্শনের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপিত হয়।[1][4]
আইনি মর্যাদা ও তারিখ
ইরানের সরকারি ছুটির তালিকায় ১৩ রজবে ইমাম আলীর জন্ম স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত। ফলে দিনটি শুধু ধর্মীয় পালন নয়, ইরানের জাতীয় সরকারি ছুটির বর্ষপঞ্জিরও অংশ।[1]
শ্রম আইনে সরকারি ছুটির উল্লেখ আছে এবং কমিশনভিত্তিক বেতন পাওয়া কর্মীদের ওই দিনগুলোর মজুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছুটির তালিকায় তারিখটি চান্দ্র হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে দেওয়া; এখানে উদ্ধৃত বিধানগুলোতে সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনের সঙ্গে ছুটি মিলে গেলে নিয়মিত বিকল্প দিনের কথা নেই।[2]
ইমাম আলী কে
ইমাম খোমেনীর রচনা সংকলন ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আলীকে শিয়াদের প্রথম ইমাম ও নেতা এবং ন্যায়বিচারের আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করে। প্রতিষ্ঠানটির বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে প্রচলিত ও স্বীকৃত ঐতিহ্য অনুসারে আলী কাবার ভেতরে ১৩ রজবে জন্মগ্রহণ করেন এবং মুহাম্মদের বাণীতে প্রথম বিশ্বাস স্থাপন করেন।[3]
ইরানের জনসমক্ষে ধর্মীয় জীবনে এই পালনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে: একই প্রতিষ্ঠান আলীর জন্মবার্ষিকীকে ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইমাম খোমেনীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে আলীর আদর্শকে শাসন পরিচালনার পথনির্দেশক হিসেবে তুলে ধরেছে। এই গুরুত্বের কারণেই তারিখটি ইরানের আনুষ্ঠানিক সরকারি ছুটির তালিকায় রয়েছে।[1][3]
দিনটি কীভাবে পালিত হয়
মাশহাদ নগর পর্যটন ওয়েবসাইট ‘ভিজিটিং মাশহাদ’-এ জন্মদিবসটিকে ইরানের বাবা দিবস বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পরিবারগুলো উপহার ও সমাবেশের মাধ্যমে বাবাদের সম্মান জানায়; তীর্থযাত্রীরা প্রার্থনা ও দানখয়রাতের জন্য মাশহাদ ও কোমের মাজারে যান।[4]
পরিবারগুলো দিনটি পারিবারিক সমাবেশ এবং প্রার্থনা ও দাতব্য কাজের জন্য মাশহাদ ও কোমের মাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে পালন করে।[4]
দর্শনার্থীদের জন্য বাস্তব তথ্য
সরকারি ছুটি হওয়ায় দিনটি স্বাভাবিক কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলে; শ্রম আইনে সরকারি ছুটিকে কর্মীদের বার্ষিক ছুটি থেকে আলাদা গণ্য করা হয় এবং কমিশনভিত্তিক বেতন পাওয়া কর্মীদের ছুটির দিনের মজুরির বিধান রয়েছে।[1][2] যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খোলার সময় যাচাই করে নিন।
১৩ রজব অনুসারে দিনটি পালিত হয়, তাই গ্রেগরীয় তারিখ বদলে যায়। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের ছুটির তালিকায় উল্লেখ আছে, চান্দ্র বর্ষপঞ্জিভিত্তিক তারিখ কাছাকাছি সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে; নির্দিষ্ট তারিখ ঘিরে পরিকল্পনার আগে হালনাগাদ স্থানীয় বর্ষপঞ্জি দেখে নিন।[5]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইরানে কি ইমাম আলীর জন্মদিবস সরকারি ছুটি?
হ্যাঁ। ইরানের সরকারি ছুটিসংক্রান্ত আইনে ১৩ রজবে ইমাম আলীর জন্মকে দেশের সরকারি ছুটির তালিকায় রাখা হয়েছে।[1]
দিনটি কবে পালিত হয়?
ইরানে মানুষ কী করেন?
নগর পর্যটন ওয়েবসাইট ‘ভিজিটিং মাশহাদ’-এ পরিবারের সমাবেশ ও বাবাদের উপহার দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থনা ও দানখয়রাতের জন্য মাশহাদ ও কোমের মাজার দর্শনের কথা বলা হয়েছে।[4]
দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকবে?
দোকান ও পরিবহন পরিচালনাকারীরা নিজেদের সময়সূচি নির্ধারণ করে, তাই যাত্রার আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইরান-এ ইমাম আলীর জন্মদিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- لایحه قانونی تعیین تعطیلات رسمی کشور- Islamic Revolutionary Council of Iran; hosted by Nezamat
- Labour Law (Labour Code).- International Labour Organization (NATLEX)
- علی(ع) نیاز امروز جامعه- Institute for Compilation and Publication of Imam Khomeini’s Works, Qom branch
- Birthday of Imam Ali- Visiting Mashhad, Municipality of Mashhad
- 祝祭日- Japan External Trade Organization (JETRO)