ক্রোয়েশিয়ায় ইস্টার রবিবার
ইস্টার রবিবার যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান স্মরণে পালিত হয় এবং ইস্টার সোমবারের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়ায় এটি সরকারি ছুটির দিন। এ দিনে গির্জার আচার পালনের পাশাপাশি ইস্টারের খাবারে আশীর্বাদ নেওয়া ও ডিম সাজানোর মতো পারিবারিক রীতিও রয়েছে।[1][2]
তাৎপর্য ও বর্ষপঞ্জিতে অবস্থান
ইস্টার যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান উপলক্ষে পালিত খ্রিস্টধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব। ক্রোয়েশিয়ার আইনে ইস্টার ও ইস্টার সোমবারকে সরকারি ছুটি ও কর্মবিরতির দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইস্টারের তারিখ প্রতিবছর বদলায়।[1][2]
ক্রোয়েশীয় আইনে ছুটির দিন
ক্রোয়েশিয়ার ছুটি, স্মরণ দিবস ও কর্মবিরতির দিনবিষয়ক আইন অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিনে কর্মীরা বেতন-ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। সরকারি ছুটি রবিবারে পড়লে তা পরের দিনে সরিয়ে নেওয়া হয় না। ছুটির দিনে নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারকে দিয়েছে আইনটি।[1]
ইস্টার রবিবার এমনিতেই রবিবার, তাই দিনটি সরিয়ে না নেওয়ার নিয়মে এর বদলে অন্য কোনো ছুটির দিন পাওয়া যায় না। ইস্টার সোমবার আলাদা সরকারি ছুটি। এগুলো আইনে নির্ধারিত ছুটির দিন, যদিও কিছু পরিষেবা চালু থাকতে পারে।[1]
গির্জার আচার ও পারিবারিক রীতি
ক্রোয়েশীয় ক্যাথলিক রীতিতে, পরিবারগুলো পবিত্র শনিবারে বা ইস্টারের ভোরে ইস্টারের খাবারভর্তি ঝুড়ি আশীর্বাদের জন্য গির্জায় নিয়ে যেতে পারে। আশীর্বাদ করা খাবার পরে ইস্টারে পরিবারের প্রথম আহার হিসেবে ভাগ করে খাওয়া হয়। ক্রোয়েশীয় বিবরণে ডিম, হ্যাম, পেঁয়াজ ও বেক করা খাবারের উল্লেখ রয়েছে।[2]
ক্রোয়েশিয়ায় ইস্টারের সঙ্গে পিসানিৎসে নামে পরিচিত সাজানো ডিমের সম্পর্ক রয়েছে। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা ডিম ঠোকাঠুকির খেলায় অংশ নিতে পারে: খেলোয়াড়েরা পরস্পরের ডিমে ঠোকা দেয়, আর যে ডিমটি ফাটে না সেটি খেলায় টিকে থাকে। অঞ্চলভেদে রীতি আলাদা: ভুসমেনকা অগ্নিকুণ্ড বিশেষত উত্তর-পশ্চিম ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত, আর মাতকানিয়ে হলো সাজানো ডিম বিনিময় করে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলার রীতি।[2]
দোকানপাট ও ব্যবহারিক ব্যবস্থা
ক্রোয়েশিয়ার বাণিজ্য আইনে সাধারণত সরকারি ছুটির দিনে খুচরা দোকান বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। আইনে কয়েকটি ব্যতিক্রমের উল্লেখ আছে; এর মধ্যে পরিবহন টার্মিনাল, বন্দর, পেট্রল স্টেশন, হাসপাতাল, হোটেল, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, জাদুঘর, দর্শনার্থী কেন্দ্র এবং সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকার দোকান রয়েছে। বাজারের স্টল, ভেন্ডিং মেশিন ও দূরবর্তী বিক্রিসহ আরও কিছু বিক্রির ব্যবস্থাও এর আওতায় পড়ে না; নির্দিষ্ট সকালের সময়ে ছুটির দিনেও সংবাদপত্রের কিয়স্ক থেকে পত্রিকা বিতরণ করা যেতে পারে।[3][4]
ছুটির আইন ব্যাংক, গণপরিবহন বা পর্যটন আকর্ষণের খোলার সময় নির্ধারণ করে না। ইস্টারে তাদের সময়সূচি জানতে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী বা স্থানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[1]
ক্রোয়েশিয়ায় ইস্টার রবিবার: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ক্রোয়েশিয়ায় ইস্টার রবিবার কি সরকারি ছুটি?
হ্যাঁ। ক্রোয়েশীয় আইনে ইস্টার ও ইস্টার সোমবারকে সরকারি ছুটি ও কর্মবিরতির দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[1]
ইস্টার রবিবার কি অন্য কোনো সরকারি ছুটির বিকল্প ছুটির দিন?
না। আইন অনুযায়ী, রবিবারে পড়া সরকারি ছুটি পরের দিনে সরিয়ে নেওয়া হয় না। ইস্টার সোমবার আলাদা ছুটির দিন।[1]
ইস্টার রবিবারে কি দোকান খোলা থাকে?
ক্রোয়েশিয়ায় দর্শনার্থীরা ইস্টারের কী কী রীতি দেখতে পারেন?
কিছু পরিবার আশীর্বাদের জন্য খাবার গির্জায় নিয়ে যায় এবং ইস্টারের সকালের নাশতায় তা ভাগ করে খায়। পিসানিৎসে নামে সাজানো ডিম এবং ভুসমেনকা অগ্নিকুণ্ড বা মাতকানিয়ের মতো আঞ্চলিক রীতির কথাও ক্রোয়েশীয় সূত্রে রয়েছে।[2]
ব্যাংক ও গণপরিবহন কি ইস্টারে বিশেষ সময়সূচি মেনে চলে?
ছুটির আইন ব্যাংক বা পরিবহনের সময়সূচি নির্ধারণ করে না। খোলার সময় ও পরিষেবা জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা পরিবহন পরিচালনাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ক্রোয়েশিয়া-এ ইস্টার রবিবার-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Zakon o blagdanima, spomendanima i neradnim danima u Republici Hrvatskoj- Narodne novine
- Ovo je 5 najpoznatijih uskrsnih običaja u hrvatskoj tradiciji- Hrvatska katolička mreža
- Zakon o izmjenama i dopuni Zakona o trgovini- Hrvatski sabor
- Pojašnjenje odredbi Zakona o trgovini vezano uz rad trgovina nedjeljom i blagdanima- Ministarstvo gospodarstva Republike Hrvatske