ক্রোয়েশিয়ায় এপিফানি
ক্রোয়েশিয়ায় এপিফানি সরকারি ছুটি; স্থানীয় ভাষায় একে বোগোইয়াভলিয়েনে বা স্বেতা ত্রি ক্রালিয়া বলা হয়। দিনটি 6 জানুয়ারি পালিত হয়, এবং ছুটির আইনে এটিকে কর্মবিরতির দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[1]
আইনে নির্ধারিত ছুটি
ক্রোয়েশিয়ার 2019 সালের ছুটি, স্মরণ দিবস ও কর্মবিরতির দিনবিষয়ক আইনে 6 জানুয়ারিকে “বোগোইয়াভলিয়েনে বা স্বেতা ত্রি ক্রালিয়া” বলা হয়েছে। আইনটিতে দিনটিকে দেশের ছুটি ও কর্মবিরতির দিনগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসব দিনে কর্মীরা মজুরি-ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।[1]
আইনে বলা হয়েছে, রবিবারে পড়া ছুটি পরের দিনে সরিয়ে নেওয়া হয় না। ছুটির দিনে যেসব সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে, সেগুলোও সরকার নির্ধারণ করতে পারে।[1]
তাৎপর্য ও নাম
বোগোইয়াভলিয়েনে এপিফানির ক্রোয়েশীয় নাম; প্রচলিত কথায় একে স্বেতা ত্রি ক্রালিয়া বা তিন রাজাও বলা হয়। ক্রোয়েশীয় বিশ্বকোষে এই খ্রিস্টীয় পর্বকে খ্রিস্টের আত্মপ্রকাশের স্মারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; পশ্চিমা উপাসনাপদ্ধতিতে এটি নক্ষত্র ও মাগিদের আগমনের সঙ্গে যুক্ত।[2]
বিশ্বকোষে পর্বটির তারিখ 6 জানুয়ারি বলা হয়েছে এবং একে প্রাচীনতম খ্রিস্টীয় ছুটিগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার উল্লেখ দ্বিতীয় শতাব্দীতেই পাওয়া যায়। বিশ্বকোষে আরও বলা হয়েছে, “তিন রাজা” নামটি মধ্যযুগীয় সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন, যেখানে মাগিদের রাজা বলা হতো এবং তাঁদের গাশপার, মেলকিওর ও বালতাজার নাম দেওয়া হয়েছিল।[2]
গির্জার আচার ও নথিভুক্ত রীতি
বিশ্বকোষে পশ্চিমা উপাসনাপদ্ধতিতে পানি ও বাড়িতে আশীর্বাদ দেওয়ার রীতির কথা বলা হয়েছে। এগুলো ধর্মীয় আচার; তাই কোনো উপাসনা বা আশীর্বাদে যোগ দিতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা স্থানীয় প্যারিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা জেনে নিন।[2]
বিশ্বকোষে ক্রোয়েশিয়ার কিছু অঞ্চলের একটি রীতির কথাও রয়েছে, যেখানে তিন রাজার পোশাক পরা “তারকা বালকেরা” গ্রামে গ্রামে যেত। সূত্রটি একে লোকাচার হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে বর্তমানে এটি কতটা প্রচলিত, তা জানায়নি।[2]
কী আশা করা যায়
ক্রোয়েশিয়ার অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানায়, বাণিজ্য আইনে সরকারি ছুটির দিনে খুচরা বিক্রির স্থান বন্ধ থাকে; তাদের নির্দেশিকায় 6 জানুয়ারিকে এই ছুটিগুলোর একটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগে থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পরিকল্পনা করুন এবং প্রযোজ্য ব্যতিক্রম বা নির্দিষ্ট দোকানের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।[3]
সরকারি সেবা কাউন্টার বন্ধ থাকে। যাওয়ার বা যাত্রা করার আগে ব্যাংক, জাদুঘর, রেস্তোরাঁ বা পরিবহন পরিচালনাকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[1]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ক্রোয়েশিয়ায় এপিফানি কবে?
প্রতিবছর 6 জানুয়ারি পালিত হয়।[1]
ক্রোয়েশীয় ভাষায় এপিফানিকে কী বলা হয়?
ক্রোয়েশিয়ায় এপিফানিতে কি ছুটি থাকে?
এটি আইনে নির্ধারিত ছুটি ও কর্মবিরতির দিন। আইনের শর্তসাপেক্ষে কর্মীরা এ দিনের জন্য মজুরি-ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।[1]
এপিফানিতে কি দোকান খোলা থাকে?
অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি ছুটিতে খুচরা বিক্রির স্থান বন্ধ থাকে। কোনো নির্দিষ্ট দোকানের সময়সূচি বা প্রযোজ্য ব্যতিক্রম জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[3]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ক্রোয়েশিয়া-এ এপিফানি-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Zakon o blagdanima, spomendanima i neradnim danima u Republici Hrvatskoj- Narodne novine; Hrvatski sabor
- Bogojavljenje- Hrvatska enciklopedija; Leksikografski zavod Miroslav Krleža
- Pojašnjenje odredbi Zakona o trgovini vezano uz rad trgovina nedjeljom i blagdanima- Ministarstvo gospodarstva Republike Hrvatske