গ্রিনল্যান্ডে এপিফ্যানি
গ্রিনল্যান্ডে ৬ জানুয়ারি এপিফ্যানি পালিত হয়। ভিজিট গ্রিনল্যান্ড এটিকে সাধারণত অর্ধদিবসের সরকারি ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে; গ্রিনল্যান্ডের স্কুলবিধি অনুযায়ী, স্কুল দুপুরে ছুটি দিলেও দিনটিকে স্কুলের দিন হিসেবে গণ্য করা যায়।[1][3]
ছুটির দিন ও গ্রিনল্যান্ডীয় শীতকালীন ঐতিহ্য
এপিফ্যানি ৬ জানুয়ারির সঙ্গে সম্পর্কিত খ্রিস্টীয় উৎসব। গ্রিনল্যান্ডে দিনটি মিতারনেক নামের শীতকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত, যেখানে মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করে বাড়ি বাড়ি যায়। গ্রিনল্যান্ডের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্কাইভস জানায়, এই প্রথায় ইনুইট ও স্ক্যান্ডিনেভীয়—উভয় রীতির প্রভাবের সূত্র পাওয়া যায়।[2]
মিতারনেক নামের অর্থ ছদ্মবেশ ধারণ করা বা মুখভঙ্গি করা। পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় গ্রিনল্যান্ডেই এই ঐতিহ্য দেখা যায়; উত্তর আমেরিকার ইনুইট সম্প্রদায়গুলোর মধ্যেও তুলনীয় রীতি রয়েছে। নর্ডিক সহযোগিতা তথ্য পরিষেবা বলছে, প্রথাটির শিকড় ইনুইট সংস্কৃতিতে; এপিফ্যানির সঙ্গে এর যোগসূত্র ১৮০০-এর দশকে ডেনিশ বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে আসতে পারে।[2][4]
মিতারনেক কীভাবে পালিত হয়
মিতারত—যাঁরা এতে অংশ নেন—এমন ছদ্মবেশে বাড়ি বাড়ি যান যাতে তাঁদের সহজে চেনা না যায়। তাঁরা নাচতে পারেন ও লাঠি দিয়ে মেঝেতে আঘাত করতে পারেন; বাড়ি যাওয়া শেষে উপহারও পেতে পারেন। জাদুঘর জানায়, প্রথাটির উৎস নিশ্চিত নয়।[2]
স্থানভেদে সময় আলাদা: কোনো কোনো এলাকায় মানুষ শুধু এপিফ্যানির দিনেই বের হন; অন্যত্র নববর্ষের আগের রাত থেকে এপিফ্যানি পর্যন্ত মিতারনেক চলে। গ্রিনল্যান্ডের জাদুঘরের নথিতে ডেনমার্কের পুরোনো হেলিগত্রেকোঙ্গেরসদাগ প্রথার কথা আছে, যেখানে পোশাক পরা মানুষ স্তোত্র গাইতে গাইতে বাড়ি বাড়ি যেতেন; জাদুঘর বলে, ডেনিশ উপনিবেশকারীরা এই প্রথা গ্রিনল্যান্ডে নিয়ে এসে থাকতে পারেন। এটি একটি সম্ভাবনা, মিতারনেকের উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত বিবরণ নয়।[2]
তারিখটির প্রভাব: স্কুল ও কর্মী
গ্রিনল্যান্ডের স্কুল-ছুটির বিধিতে ৬ জানুয়ারিকে Hellig 3 Konger নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা আছে, ওই দিন স্কুল দুপুরে ছুটি দিতে পারে, তবে দিনটি স্কুলের দিন হিসেবেই গণ্য হবে; বিধির বাধ্যতামূলক স্কুল-ছুটির তালিকায় এটি নেই।[3]
ভিজিট গ্রিনল্যান্ডের ছুটির তালিকায় এপিফ্যানিকে সাধারণত অর্ধদিবসের ছুটি বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মদিবস ছোট হতে পারে—এ পরিকল্পনার পক্ষে এটি তথ্য দেয়, তবে এপিফ্যানি সব কর্মীর জন্য ছুটির দিন নয় এবং দপ্তর, ব্যাংক, দোকান বা পরিবহন পরিষেবাগুলো কোনো একক বন্ধের সময়সূচি অনুসরণ করে না।[1]
এপিফ্যানিকে ঘিরে পরিকল্পনা
ভিজিট গ্রিনল্যান্ডের তালিকায় তারিখটি নির্দিষ্টভাবে ৬ জানুয়ারি। গ্রিনল্যান্ডের সরকারি স্কুলের নিয়মে ছুটির পরিকল্পনার সময় স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে, তাই স্কুলের ব্যবস্থা স্থানীয় পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করতে পারে।[1][3]
ভ্রমণকারীদের রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারীর কাছে খোলার সময় ও পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। মিতারনেকের আঞ্চলিক সময়ের অর্থ এই যে, প্রতিটি বসতিতে ঐতিহ্যটি একই রূপ নেবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।[2]
গ্রিনল্যান্ডে এপিফ্যানি: সাধারণ প্রশ্ন
গ্রিনল্যান্ডে এপিফ্যানি কবে?
৬ জানুয়ারি এটি পালিত হয়।[1]
গ্রিনল্যান্ডে এপিফ্যানি কি সরকারি ছুটি?
মিতারনেক কী?
এটি গ্রিনল্যান্ডের শীতকালীন ঐতিহ্য। এতে ছদ্মবেশী মানুষ বাড়ি বাড়ি যান, কখনো নাচেন ও লাঠি দিয়ে মেঝেতে আঘাত করেন; তাঁরা উপহার পেতে পারেন।[2]
দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
ভ্রমণের আগে নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন প্রদানকারীদের সঙ্গে খোলার সময় ও পরিবহন ব্যবস্থা যাচাই করুন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
গ্রিনল্যান্ড-এ এপিফানি-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Frequently Asked Question (FAQ) about Greenland- Visit Greenland
- Mitaarneq- Greenland National Museum and Archives
- Hjemmestyrets bekendtgørelse om ferieplan for folkeskolens elever- Greenland Self-Government, Nalunaarutit
- Public holidays in Greenland- Nordic cooperation, Info Norden