গ্রিনল্যান্ডে বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যা
গ্রিনল্যান্ডে ২৪ ডিসেম্বর বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যা পালিত হয়; এ উদ্যাপনে গির্জার রীতির পাশাপাশি সম্প্রদায়ভেদে আলাদা প্রথা রয়েছে। শিশুদের গান, ক্রিসমাস ট্রির চারপাশে গান এবং একসঙ্গে খাওয়া—সন্ধ্যাটি পালনের কয়েকটি উপায়।[1][2]
কাজের ছুটিতে ভিন্ন ব্যবস্থা
গ্রিনল্যান্ডের ক্যালেন্ডারে বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যা সরকারি ছুটির দিন হিসেবে তালিকাভুক্ত; ভিজিট গ্রিনল্যান্ডও তাদের ছুটির তালিকায় ২৪ ডিসেম্বর রেখেছে।[2] তবে ইনফো নর্ডেন বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যাকে সেই দিনগুলোর মধ্যে রেখেছে, যেগুলো যৌথ চুক্তি, চাকরির চুক্তি বা কর্মীদের নির্দেশিকায় ছুটি হিসেবে দেওয়া হতে পারে; অধিকাংশ কর্মী সাধারণত যে সরকারি ছুটি পান, সেই তালিকায় এটি নেই। বাস্তবে কোনো কর্মী ছুটি পাবেন কি না, তা কর্মস্থলের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে।[3]
২৪ ডিসেম্বর রবিবারে পড়লে পূর্ণ দিনের ছুটি পাওয়ার বা স্বয়ংক্রিয় বিকল্প ছুটির দিন পাওয়ার কোনো সর্বজনীন আইনগত অধিকার নেই। গ্রিনল্যান্ডে দোকান বন্ধ রাখার কোনো আইনও নেই, তাই দোকানগুলো নিজেরাই খোলার সময় ঠিক করতে পারে।[3] আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্যবস্থা জানতে স্থানীয় বিজ্ঞপ্তি ও চাকরির শর্ত দেখে নিন।
গির্জা, গান ও পরিবারকেন্দ্রিক উৎসব
গ্রিনল্যান্ডের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্কাইভস বড়দিনকে খ্রিস্টীয় ঋতু হিসেবে বর্ণনা করে, যার রীতি ও খাবার স্থানভেদে আলাদা; অনেক পরিবারের কাছে গির্জায় যাওয়া ছুটির কেন্দ্রীয় অংশ। তাদের বিবরণে ২৪ ডিসেম্বর ঐতিহ্যগতভাবে শিশুদের, ২৫ ডিসেম্বর প্রধান উৎসবের দিন এবং ২৬ ডিসেম্বর তরুণদের সঙ্গে সম্পর্কিত।[1]
উপেরনাভিকের রীতিনীতি নিয়ে জাদুঘরের বিবরণে বলা হয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে মানুষ কবরস্থানে জড়ো হয়ে স্তোত্র গায় এবং কবরে মোমবাতি জ্বালায়। পরে শিশুরা গাছের চারপাশে নেচে উপহার খোলে, তারপর বাড়ি বাড়ি গান গেয়ে মিষ্টি বা বড়দিনের বেক করা খাবার পায়। জাদুঘর জানায়, এগুলো উপেরনাভিকের স্থানীয় রীতি; গ্রিনল্যান্ডজুড়ে একইভাবে পালিত হয় ধরে নেওয়া উচিত নয়।[1]
ভিজিট গ্রিনল্যান্ড আরও বিস্তৃতভাবে বড়দিন উদ্যাপনের বর্ণনা দেয়: মানুষ গির্জায় ও বাড়িতে গান গায়, কেউ কেউ বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় গাছের চারপাশে নাচে, আর শিশুরা খাবারের আশায় বাড়ির বাইরে গান গাইতে পারে। তাদের বিবরণে জানালায় লালচে-কমলা বড়দিনের তারা এবং অ্যাডভেন্টের সময় সম্প্রদায়ের ক্রিসমাস ট্রি জ্বালানোর কথাও আছে।[2]
খাবার ও আঞ্চলিক রীতি
গ্রিনল্যান্ডজুড়ে বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যার জন্য একক কোনো খাবারের তালিকা নেই। ভিজিট গ্রিনল্যান্ড জানায়, কোনো কোনো পরিবারে রোস্ট শূকরের মাংস বা হাঁস পরিবেশন করা হয়; অন্যরা গ্রিনল্যান্ডীয় ভেড়ার মাংস, মাস্ক অক্স, বল্গাহরিণ, রেজরবিল বা গ্রাউস বেছে নেয়। ন্যাশনাল মিউজিয়ামও জোর দিয়ে বলেছে, খাবার ও স্থানীয় রীতি জায়গাভেদে আলাদা।[1][2]
উপেরনাভিকের বিবরণে জাদুঘর জানায়, গাছের চারপাশে নাচের পর বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যার সকালে উপহার খোলা হয়; অন্যদিকে ভিজিট গ্রিনল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো পরিবারের প্রধান উদ্যাপন সন্ধ্যায় হয়। এই বিবরণগুলো সময় ও রীতির ভিন্নতা দেখায়, তাই দর্শনার্থীদের একটিমাত্র জাতীয় রীতি প্রত্যাশা না করে স্থানীয় আমন্ত্রণ ও সম্প্রদায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।[1][2]
ভ্রমণকারীরা কী প্রত্যাশা করবেন
দোকান খোলার সময় কোনো সাধারণ দোকান-বন্ধের আইন দিয়ে নির্ধারিত নয়। ইনফো নর্ডেন জানায়, দোকান সাধারণত সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকে—বিশেষ করে ছোট শহর ও বসতিতে; বড় শহরে কিছু বড় সুপারমার্কেট খোলা থাকতে পারে। তাই সম্প্রদায় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানভেদে খোলার সময় আলাদা হতে পারে; জরুরি কেনাকাটা আগেই সেরে রাখুন এবং নির্দিষ্ট দোকানে খোঁজ নিন।[3]
নুকের বাস অপারেটর নুপ বুসিই জানায়, বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় তাদের সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির সময়সূচি কার্যকর থাকে এবং সন্ধ্যা ৭টায় বাস চলাচল বন্ধ হয়। এই তথ্য নুকের বাসের জন্য প্রযোজ্য। গ্রিনল্যান্ডের অন্যত্র সময়সূচির জন্য আপনার পরিবহন অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[4]
গ্রিনল্যান্ডে বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যা: সাধারণ প্রশ্ন
গ্রিনল্যান্ডে বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যা কবে?
২৪ ডিসেম্বর এটি পালিত হয়। গ্রিনল্যান্ডের ক্যালেন্ডারে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত, এবং ভিজিট গ্রিনল্যান্ডও তাদের ছুটির তালিকায় রেখেছে।[2]
বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় কি কর্মীরা ছুটি পান?
তা চাকরির ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। ইনফো নর্ডেন জানায়, যৌথ চুক্তি, চাকরির চুক্তি বা কর্মীদের নির্দেশিকা অনুযায়ী এ দিন ছুটি হতে পারে; অধিকাংশ কর্মী সাধারণত যে ছুটি পান, সেই তালিকায় দিনটি নেই।[3]
গ্রিনল্যান্ডের বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যার একটি রীতি কী?
রীতি ভিন্ন হয়। উপেরনাভিকে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্কাইভস কবরস্থানে মধ্যরাতে স্তোত্র গাওয়ার কথা জানায়; পরে দিনের বেলায় শিশুরা বাড়ি বাড়ি গান গায়।[1]
বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় দোকান কি খোলা থাকে?
দোকান বন্ধ রাখার কোনো সাধারণ আইন নেই, এবং দোকানগুলো নিজেরাই খোলার সময় ঠিক করে। বড়দিনের ছুটিতে দোকান সাধারণত বন্ধ থাকে, বিশেষ করে ছোট সম্প্রদায়ে; স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিন এবং আগেভাগে কেনাকাটা করুন।[3]
নুকের বাস কি বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় চলে?
নুপ বুসিই বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির সময়সূচি দেয় এবং জানায়, সন্ধ্যা ৭টায় বাস চলাচল বন্ধ হয়। রুটের বিস্তারিত জানতে অপারেটরের সময়সূচি দেখুন।[4]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
গ্রিনল্যান্ড-এ বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যা-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Juullikkut- Greenland National Museum & Archives
- Christmas- Visit Greenland
- Public holidays in Greenland- Info Norden, Nordic Council of Ministers
- Timetable – Weekends & Holidays- Nuup Bussii A/S