মিশরে কোরবানির ঈদ (ঈদুল আজহা)
স্থানীয়ভাবে ঈদুল কেবির নামে পরিচিত ঈদুল আজহা একটি বড় ধর্মীয় উৎসব এবং মিশরে বেতনসহ সরকারি ছুটি। ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১০ জিলহজে এটি পালিত হয়, তাই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিতে তারিখটি প্রতিবছর বদলে যায়।[1][2]
তাৎপর্য ও বর্ষপঞ্জিতে অবস্থান
ঈদুল আজহা আল্লাহর আদেশ মানতে ইব্রাহিমের প্রস্তুতি এবং তাঁর পুত্রের পরিবর্তে কোরবানির জন্য পশু দেওয়ার কাহিনি স্মরণ করে। মিশরে এই ছুটিকে সাধারণত ঈদুল কেবির বা বড় ঈদও বলা হয়।[3]
আরাফার দিনের পর ঈদের উদ্যাপন শুরু হয়। মিশরের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ উৎসবটিকে জিলহজ মাসের দশম দিনে নির্ধারণ করে; ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির বিভিন্ন তারিখে পড়ে।[1][4]
সরকারি ছুটি ও বেতনসহ অবকাশ
মিশরের আইন শ্রম আইনের আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য ঈদুল আজহায় বেতনসহ ছুটি স্বীকৃতি দেয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের একটি আদেশে আরাফার দিন এবং ঈদের প্রথম দুই দিনকে বেতনসহ ছুটি বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির জন্য পৃথক বার্ষিক সরকারি ঘোষণায় তারিখ নির্ধারণ করা হয়; তাতে ছুটির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।[1][2]
তাই প্রকৃত গ্রেগরীয় তারিখ এবং অতিরিক্ত ছুটির দিন থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি সময়সূচি দেখে নিশ্চিত করা উচিত। সরকারি ছুটির তারিখের একটি সূত্র হলো প্রেসিডেন্সির সরকারি ক্যালেন্ডার।[2]
নামাজ, ভাগাভাগি ও পারিবারিক ভোজ
সকালে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। মিশরের দার আল-ইফতা জানায়, নামাজটি দুই রাকাত এবং এর পর খুতবা দেওয়া হয়; প্রতিটি উপলক্ষে স্থানীয় নামাজের ব্যবস্থা ও সময় ঘোষণা করা হয়।[4]
যাঁরা কোরবানি করেন, তাঁদের জন্য কোরবানি একটি কেন্দ্রীয় ধর্মীয় পালন। মিশরের ধর্মীয় নির্দেশনায় কোরবানির মাংস নিজেরা খাওয়া, পরিবারের জন্য রাখা এবং অভাবীদেরসহ অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা রয়েছে।[5]
স্টেট কালচারাল প্যালেসেসের একটি বিবরণে মিশরের ঈদ রীতির মধ্যে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়ি যাওয়া, শিশুদের মিষ্টি বা ঈদির টাকা দেওয়া এবং মাংসের ঝোল দিয়ে ফাত্তা ও রুকাকের মতো খাবার পরিবেশনের কথা রয়েছে। পরিবার ও সম্প্রদায়ভেদে রীতি আলাদা হতে পারে; এগুলো উদাহরণ, সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।[3]
বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা কী আশা করতে পারেন
সরকারি দপ্তর ও আওতাভুক্ত সরকারি খাতের কর্মস্থল ঘোষিত ছুটি পালন করে। সরকারি ছুটির বিধি যোগ্য বেসরকারি খাতের কর্মীদেরও আওতায় আনে, তবে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পরিস্থিতির প্রয়োজনে নিয়োগকর্তারা কর্মীদের কাজ করতে বলতে পারেন।[1][2]
ঈদের সময় ব্যাংক, দোকান, জাদুঘর, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও গণপরিবহন ভিন্ন ভিন্ন সময়সূচি অনুসরণ করতে পারে। যাওয়া বা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[2]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মিশরে কোরবানির ঈদ কি সরকারি ছুটি?
কোরবানির ঈদ কবে হয়?
কত দিনের ছুটি দেওয়া হয়?
দোকান ও পর্যটন আকর্ষণগুলো কি খোলা থাকে?
দোকান ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণস্থল নিজেদের সময়সূচি নির্ধারণ করে, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা স্থানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
সূত্র ও তথ্যসূত্র
মিশর-এ ঈদুল আজহা-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Decree No. 294 of the Year 2025 Determining the Days, Feasts, and Occasions Deemed Fully Paid Leaves for Workers- Ministry of Labour, Arab Republic of Egypt (document hosted by the Middle East Library for Economic Services)
- العطلات الرسمية لعام ٢٠٢٦- Presidency of the Arab Republic of Egypt
- عيد الأضحى وأهم مظاهر وعادات احتفال المصريين به- General Organization of Cultural Palaces, Egypt
- وقت ذبح الأضحية- Egyptian Dar al-Ifta
- الأضحية وبعض أحكامها- Egyptian Dar al-Ifta