দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারি ছুটি
দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারি ছুটি হলো সরকারি ছুটি আইন অনুযায়ী স্বীকৃত একটি দিন, যার জন্য আইনে বেতনসহ ছুটির সুরক্ষা নির্ধারিত আছে। এই শ্রেণিতে নির্দিষ্ট নামের জাতীয় দিবসগুলোর একটি ক্যালেন্ডার রয়েছে, আর কোনো ছুটি রবিবারে পড়লে পরের সোমবারও তা পালন করা হয়।[1][2]
আইনগত অর্থ
দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৯৪ সালের সরকারি ছুটি আইন ৩৬-এ জাতীয় সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার এবং সরকারি ছুটিতে বেতন দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনটি ১ জানুয়ারি ১৯৯৫ থেকে কার্যকর হয়। পরবর্তী একটি সংশোধনীতে সরকারি গেজেটে ঘোষণার মাধ্যমে অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়।[2][3]
কর্মসংস্থানের মৌলিক শর্তাবলি আইন সরকারি ছুটিতে কর্মীদের কাজ ও বেতনের নিয়ম নির্ধারণ করে। চুক্তি ছাড়া নিয়োগকর্তা কোনো কর্মীকে সেদিন কাজ করতে বলতে বা কাজের অনুমতি দিতে পারেন না। দিনটি যদি কর্মীর নিয়মিত কর্মদিবস হয়, তবে কাজ না করলেও তাঁকে ওই দিনের স্বাভাবিক মজুরির অন্তত সমপরিমাণ দিতে হবে; কাজ করলে সাধারণত ওই পরিমাণের অন্তত দ্বিগুণ পাওয়ার অধিকারী হবেন, আইনের শর্তসাপেক্ষে।[4]
তারিখ ও রবিবারে পালন
দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার মানবাধিকার দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শ্রমিক দিবস, জাতীয় নারী দিবস, ঐতিহ্য দিবস ও মিলন দিবসসহ ১২টি সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। কয়েকটির তারিখ ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট, আর গুড ফ্রাইডে ও ইস্টার সানডের তারিখ গির্জার চন্দ্রপঞ্জি অনুযায়ী বদলে যায়।[1]
কোনো সরকারি ছুটি রবিবারে পড়লে পরের সোমবারও সরকারি ছুটি হয়। এটি আইনের বিধান; নির্দিষ্ট নামের ছুটির প্রচলিত তারিখ পরিবর্তন নয়। রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় আলাদা কোনো তারিখ নির্ধারিত হলে, সেই ঘোষণায় অতিরিক্ত সরকারি ছুটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।[1][3]
উৎপত্তি ও জাতীয় তাৎপর্য
বর্তমান আইনগত কাঠামোর সূচনা ১৯৯৪ সালের আইন দিয়ে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর নতুন সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়। ক্যালেন্ডারে ভিন্ন ইতিহাস ও তাৎপর্যের দিনগুলো একত্র হয়েছে; সবগুলোর উৎস বা উদ্যাপনের ধরন এক নয়।[2]
সরকারি বিবরণে এই তাৎপর্যের ভিন্নতা দেখা যায়। স্বাধীনতা দিবস ১৯৯৪ সালের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্মরণ করে; যুব দিবস ১৯৭৬ সালের সোয়েতো ছাত্রবিক্ষোভের কথা মনে করায়; আর বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী সময়েও মিলন দিবস সরকারি ছুটির মর্যাদা পেয়েছে, যার ঘোষিত উদ্দেশ্য পুনর্মিলন ও জাতীয় ঐক্যকে এগিয়ে নেওয়া।[1]
কাজ, পরিষেবা ও পরিকল্পনা
সরকারি ছুটি হলেই সব কর্মস্থল বন্ধ রাখতে হবে, এমন নয়: কর্মসংস্থান আইন চুক্তির ভিত্তিতে কাজের অনুমতি দেয় এবং কাজ করা কর্মীদের বেতনের নিয়ম নির্ধারণ করে। দোকান, ব্যাংক, সরকারি দপ্তর বা পরিবহনের জন্য এটি কোনো একক খোলার সময়সূচি নির্ধারণ করে না। তাই পরিকল্পনার আগে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়া উচিত।[4]
দক্ষিণ আফ্রিকার রাজস্ব পরিষেবা ব্যবসায়িক দিনের সংজ্ঞা থেকে সরকারি ছুটি বাদ দেয়। কোনো নথি জমা, অর্থ পরিশোধ বা সাক্ষাতের সময়সীমা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিষেবার ক্যালেন্ডার দেখে সরকারি ছুটি ও রবিবারের বিকল্প ছুটির জন্য সময় হাতে রাখুন।[5]
সরকারি ছুটি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি ছুটিতে কি বেতনসহ কাজ থেকে ছুটি মেলে?
দিনটি কর্মীর নিয়মিত কর্মদিবস হলে, কাজ না করলে আইন অনুযায়ী অন্তত স্বাভাবিক মজুরি দিতে হবে। ছুটির দিনে কাজের জন্য সম্মতি প্রয়োজন, এবং আইনে নির্ধারিত বাড়তি পারিশ্রমিক প্রযোজ্য হতে পারে।[4]
সরকারি ছুটি রবিবারে পড়লে কী হয়?
সরকারি ছুটি আইন অনুযায়ী পরের সোমবারও সরকারি ছুটি হয়।[1]
দোকান, ব্যাংক ও গণপরিবহন কি বন্ধ থাকে?
দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি ছুটিগুলোর কি একটিই প্রচলিত রীতি আছে?
সব সরকারি ছুটির ক্ষেত্রে একই রীতি প্রযোজ্য নয়। নামযুক্ত প্রতিটি দিনের ইতিহাস ও উদ্দেশ্য আলাদা, তাই পালন-পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট ছুটির ওপর নির্ভর করে।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
দক্ষিণ আফ্রিকা-এ সরকারি ছুটি-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Public holidays in South Africa- South African Government
- Public Holidays Act 36 of 1994- South African Government
- Public Holidays Amendment Act 48 of 1995- South African Government
- Basic Conditions of Employment Act- Department of Employment and Labour
- FAQ: What does SARS count as a business day?- South African Revenue Service