দক্ষিণ আফ্রিকায় মানবাধিকার দিবস
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২১ মার্চ মানবাধিকার দিবস সরকারি ছুটি ও জাতীয় স্মরণদিবস হিসেবে পালিত হয়। শার্পভিল গণহত্যার স্মৃতির পাশাপাশি দিনটি গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও সংবিধানে সুরক্ষিত অধিকারগুলোর প্রতি মনোযোগী হতে আহ্বান জানায়।[1][2]
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনে সরকারি ছুটি
১৯৯৪ সালের সরকারি ছুটি আইন ৩৬ দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করে এবং সরকারি ছুটিতে বেতন দেওয়ার বিধান রাখে। সরকার ২১ মার্চ মানবাধিকার দিবস তালিকাভুক্ত করেছে। কোনো সরকারি ছুটি রবিবারে পড়লে পরের সোমবারও সরকারি ছুটি হয়।[1][3]
মৌলিক কর্মসংস্থান শর্ত আইনের আওতাভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা কেবল সম্মতি নিয়ে সরকারি ছুটির দিনে কাজ করাতে পারেন। কর্মীর স্বাভাবিক কর্মদিবসে ছুটি পড়লে, কাজ করা ও না করা—উভয় ক্ষেত্রেই আইনে ন্যূনতম বেতনের বিধান রয়েছে। এই নিয়মে সব কর্মস্থল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়নি।[4]
২১ মার্চ কেন তাৎপর্যপূর্ণ
১৯৬০ সালের ২১ মার্চ শার্পভিল ও লাঙ্গায় মানুষ বর্ণবৈষম্যবাদের পাস আইনবিরোধী প্রতিবাদে যোগ দেন। শার্পভিলে পুলিশ ৬৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে; সরকারের বিবরণে আরও বলা হয়েছে, পালানোর সময় অনেককে গুলি করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড শার্পভিল গণহত্যা নামে পরিচিত হয় এবং বর্ণবৈষম্যবাদী সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রকাশ করে।[2]
দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিক সরকার মুক্তির জন্য সংগ্রাম করা মানুষদের এবং আজকের অধিকারগুলোকে সম্মান জানাতে ২১ মার্চকে মানবাধিকার দিবস নির্ধারণ করে। দিনটি বর্ণবৈষম্যবাদ ও প্রতিরোধের ইতিহাসের সঙ্গে সংবিধানের অধিকার সনদের যোগ স্থাপন করে; এর মধ্যে সমতা, মানবিক মর্যাদা, চলাচলের স্বাধীনতা, ভাষা ও সংস্কৃতি এবং জীবনের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে।[2]
স্মরণানুষ্ঠান
সরকার দিনটিকে মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় অগ্রগতি নিয়ে ভাবার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে। শার্পভিলে একটি প্রাদেশিক স্মরণানুষ্ঠানে ফেলিন্দাবা সমাধিক্ষেত্র ও শার্পভিল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হয়েছে। এই নথিভুক্ত কর্মসূচি দিনটি পালনের একটি ধরন দেখায়; স্থান ও আয়োজন ভিন্ন হতে পারে।[2][5]
স্মরণানুষ্ঠান ও ভাবনা এই দিনটির মূল ফোকাস। এর কোনো একক দেশব্যাপী প্রথা, নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী খাবার বা একরকম পারিবারিক রীতি নেই।[2][5]
কী প্রত্যাশা করবেন
সরকারি ছুটি হিসেবে মানবাধিকার দিবস কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির নিয়মের আওতায় পড়ে, তবে সম্মতিতে কিছু কর্মী কাজ করতে পারেন। যাওয়ার আগে ব্যাংক, দোকান, স্কুল বা গণপরিবহন সেবাদাতার সঙ্গে খোলার সময় যাচাই করে নিন।[1][4]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মানবাধিকার দিবস কি সরকারি ছুটি?
২১ মার্চ রবিবারে পড়লে কী হয়?
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, রবিবারে সরকারি ছুটি পড়লে পরের সোমবারও সরকারি ছুটি হয়।[1]
সব কর্মী কি ওই দিন ছুটি পান?
আইনে সব কর্মস্থল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়নি। মৌলিক কর্মসংস্থান শর্ত আইন অনুযায়ী, নিয়োগকর্তা কেবল সম্মতি নিয়ে কর্মীকে সরকারি ছুটির দিনে কাজ করতে বলতে পারেন; নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেতনের নিয়মও প্রযোজ্য।[4]
ব্যাংক, দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
যাত্রার আগে ব্যাংক, দোকান বা পরিবহন সেবাদাতার সঙ্গে খোলার সময় যাচাই করুন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
দক্ষিণ আফ্রিকা-এ মানবাধিকার দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Public holidays in South Africa- South African Government
- Human Rights Day- South African Government
- Public Holidays Act 36 of 1994- South African Government
- Basic Conditions of Employment Act- Department of Employment and Labour
- Gauteng Sport, Arts, Culture and Recreation hosts Human Rights Day commemoration, 21 Mar- South African Government