সৌদি আরবে কোরবানির ঈদ (ঈদুল আজহা)
সৌদি আরবে হজ মৌসুমের পর কোরবানির ঈদ পালিত হয়; এ উপলক্ষে নামাজ, কোরবানি, পারিবারিক সাক্ষাৎ ও মাংস ভাগ করে নেওয়া হয়। সরকারি ছুটির সময় ঈদের আগের দিন আরাফার দিন থেকে শুরু হয়, আর এর মেয়াদ কর্মসংস্থানের খাতভেদে নির্ধারিত হয়।[1][2]
তাৎপর্য ও সময়
সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ‘ঈদ আল-হজ’ বা ‘আল-ঈদ আল-কবির’ নামেও পরিচিত। এটি নবী ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্রের কাহিনি স্মরণ করায়: সৌদিপিডিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, ইব্রাহিমের পুত্রের বদলে কোরবানি দেওয়ার জন্য ঈশ্বর একটি মেষশাবক দিয়েছিলেন। সামর্থ্যবান মুসলমানেরা পশু কোরবানি করেন এবং তার মাংস পরিবার ও অভাবী মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেন।[1]
ঈদুল আজহা পড়ে ইসলামী পঞ্জিকার শেষ মাস জিলহজের দশম দিনে। সৌদি আরবে সুপ্রিম কোর্টের চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ায় জিলহজের শুরু নির্ধারিত হয়; এর ফলে আরাফার দিন ও ঈদের তারিখও স্থির হয়। আরাফার দিন জিলহজের নবম দিন, তাই ঈদের দিন আসার আগেই ছুটির সময় শুরু হতে পারে।[1][2]
বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ঈদুল আজহা ইব্রাহিমের কাহিনি ও বার্ষিক হজের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সৌদি আরবের সঙ্গে এর বিশেষ যোগ রয়েছে, কারণ মক্কা ও তার আশপাশে হজ পালিত হয় এবং ঈদের প্রথম দিনগুলো হজের সঙ্গে মিলে যায়।[1]
নামাজ, কোরবানি ও পারিবারিক রীতি
মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি এবং সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ হয়। নামাজের পর কোরবানি করা হয়; সৌদিপিডিয়া জানায়, জিলহজের ত্রয়োদশ দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া যায়। পরিবারগুলো কিছু মাংস নিজেদের জন্য রাখে এবং আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবী মানুষের সঙ্গে ভাগ করে।[1]
ঈদের খাবারে মাংসের গুরুত্ব রয়েছে, তবে সৌদি আরবের এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে রান্নার ধরন আলাদা; তাই এমন কোনো একক পদ নেই যা সব পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে। পরিবারগুলো শিশুদের জন্য ঈদিয়া নামে পরিচিত ঈদ-উপহারও প্রস্তুত করে এবং হজ থেকে ফেরা হাজিদের অভিনন্দন ও আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে স্বাগত জানায়।[1]
সরকারি ছুটি ও বন্ধ
শ্রম আইনের আওতাভুক্ত কর্মীদের বেতনসহ ছুটি চার দিন; তা আরাফার দিন থেকে শুরু হয়। ছুটি সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনের সঙ্গে মিলে গেলে কর্মীকে ছুটির আগে বা পরে সমপরিমাণ একটি দিন দেওয়া হয়। নিজস্ব বিধিতে শ্রম আইন প্রয়োগকারী সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে: ২০২৪ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে তাদের ঈদের ছুটি ন্যূনতম চার এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কর্মদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে; এই সিদ্ধান্ত দেওয়ানি চাকরি আইন প্রয়োগকারী সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।[2][3]
সরকারি খাতের ক্ষেত্রে সৌদিপিডিয়ার বর্ণনায় ঈদের ছুটি জিলহজের পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ দিন পর্যন্ত চলে; সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেলে সময়সূচি সমন্বয় করা হতে পারে। জরুরি নয় এমন সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকে, আর সরকারি ছুটির সময় সাধারণত ক্লাস স্থগিত থাকে।[1]
ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ছুটির সময়সূচি অনুসরণ করে। হজের মৌসুমে হজ এলাকায়, বিমানবন্দর ও সীমান্ত পারাপারের স্থানে ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ কেন্দ্র ও পেমেন্ট পরিষেবাদাতাদের শাখা চালু রাখতে এবং ছুটির সময় খোলা নির্বাচিত শাখাগুলোর তালিকা প্রকাশ করতেও সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দেয়। যাওয়ার আগে শাখার সময়সূচি দেখে নিন; আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছুটিতে সাধারণ শাখা-পরিষেবা নাও পাওয়া যেতে পারে।[4]
সৌদি আরবে কোরবানির ঈদ: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সৌদি আরবে কোরবানির ঈদ কখন পালিত হয়?
কোরবানির ঈদে কর্মীরা কি ছুটি পান?
সরকারি দপ্তর ও স্কুল খোলা থাকে কি?
সরকারি ছুটিতে জরুরি নয় এমন সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকে এবং সাধারণত ক্লাস স্থগিত করা হয়। জরুরি পরিষেবা ও পৃথক সময়সূচিতে চলা কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।[1]
ছুটির সময় ব্যাংক খোলা থাকে কি?
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটির সময়সূচি অনুসরণ করে, তবে হজের মৌসুমে হজ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষেবা শাখা খোলা রাখতে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দেয়। ছুটির সময় খোলা নির্বাচিত শাখাগুলোর সময়সূচিও প্রকাশ করতে হয়; যাত্রার আগে নিজের ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[4]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
সৌদি আরব-এ ঈদুল আজহা-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Eid al-Adha in Saudi Arabia- Saudipedia, Ministry of Media
- HOLIDAYS AND LEAVES- Ministry of Human Resources and Social Development
- عدد أيام عطلة العيدين للموظفين الخاضعين لنظام العمل في الجهات الحكومية- Umm Al-Qura, Official Gazette of Saudi Arabia
- Holidays and Working Hours- Saudi Central Bank (SAMA)