নিউজিল্যান্ডে আনজাক দিবস
নিউজিল্যান্ডে ২৫ এপ্রিল আনজাক দিবস পালিত হয়, যুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করতে এবং যাঁরা সেবা দিয়েছেন তাঁদের অবদান ও দুর্ভোগের স্বীকৃতি জানাতে। এটি একটি সরকারি ছুটির দিন; দেশজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে ভোরের স্মরণানুষ্ঠান, স্মৃতিসভা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়।[1][2]
গ্যালিপলি ও নিউজিল্যান্ডের স্মরণচর্চা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালে অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডের সেনাদের গ্যালিপলি উপদ্বীপে অবতরণের দিনটিকে স্মরণ করে এই তারিখ। সামরিক লক্ষ্য অর্জনে অভিযানটি সফল হয়নি, তবে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ইতিহাসে গ্যালিপলি বিশেষ স্থান পেয়েছে। আনজাক দিবস প্রথম পালিত হয় ১৯১৬ সালে এবং ১৯২১ সালে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ছুটির দিন হয়।[1][2]
দিনটির তাৎপর্য গ্যালিপলির বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। এখন এটি যুদ্ধে নিহত নিউজিল্যান্ডবাসীদের স্মরণ করে এবং পরবর্তী সংঘাত ও শান্তিরক্ষা অভিযানে সেবা ও প্রাণহানির স্বীকৃতি দেয়; পাশাপাশি দেশে যুদ্ধকে সমর্থন বা বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতাও স্মরণ করে।[1]
সরকারি ছুটি ও কর্মীদের প্রাপ্য অধিকার
আনজাক দিবসের তারিখ নির্দিষ্ট—২৫ এপ্রিল। নিউজিল্যান্ডের সরকারি ছুটির নিয়ম অনুযায়ী, ছুটির দিনটি কোনো কর্মীর স্বাভাবিক কর্মদিবসে পড়লে তিনি বেতনসহ ছুটি পাওয়ার অধিকারী। ছুটির দিনে কাজ করলে সাধারণত তাঁকে অন্তত দেড় গুণ হারে মজুরি দিতে হয়; দিনটি তাঁর স্বাভাবিক কর্মদিবস হলে তিনি বেতনসহ বিকল্প ছুটিও পান।[4][5]
২৫ এপ্রিল শনিবার বা রবিবার হলে, যাঁরা সাধারণত ওই সপ্তাহান্তের দিনে কাজ করেন না, তাঁদের জন্য ছুটি সোমবারে সরিয়ে দেওয়া হয়। যাঁরা সাধারণত ওই শনিবার বা রবিবার কাজ করেন, তাঁরা ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত তারিখেই ছুটি পালন করেন। সোমবারে সরিয়ে দেওয়ার ফলে যোগ্য কর্মী একটি সরকারি ছুটি পান, দুটি নয়।[4][5]
অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও স্মরণ
স্মরণানুষ্ঠান সাধারণত স্থানীয় যুদ্ধস্মৃতিসৌধে ভোরের স্মরণানুষ্ঠান দিয়ে শুরু হয়। সাবেক সেনাসদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষ সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে সমবেত হন; এতে স্মরণগাথা, শেষ বিউগল, এক মিনিট নীরবতা ও জাগরণের বিউগল থাকতে পারে। পরে সকালে প্রায়ই শোভাযাত্রা ও নাগরিকদের স্মরণানুষ্ঠানে প্রবীণ সেনাসদস্য ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠন একত্র হয়, পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এবং বক্তৃতা শোনে।[1]
ভোরের অনুষ্ঠান গ্যালিপলির সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত হলেও নিউজিল্যান্ডের প্রথম সেনারা সেখানে সকাল ৯টার পরে অবতরণ করেন; তাঁদের অধিকাংশই দিনের আরও পরে অবতরণ করেন, আর কেউ কেউ ২৬ এপ্রিল আসেন। ১৯৩৯ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে ভোরের অনুষ্ঠান ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়। আনজাক দিবসের সময় নিউজিল্যান্ডে সাধারণত পপি ফুলের প্রতীক পরা হয়, আর জাতীয় স্মরণদিবসে পরিবারগুলো মৃত আত্মীয়দের পদক বুকের ডান পাশে পরতে পারে।[3][1]
দোকান খোলা ও দিনের পরিকল্পনা
সীমিত বাণিজ্য-সময়ের নিয়মে ২৫ এপ্রিল দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় সব দোকান বন্ধ রাখতে হয়। নির্দিষ্ট শর্তে কিছু দোকান খোলা থাকতে পারে, আর কিছু এলাকার জন্য ছাড় রয়েছে। কর্মীর সরকারি ছুটি সোমবারে সরানো হলেও এই বিধিনিষেধ ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত তারিখেই প্রযোজ্য; তাই দোকানকে দুবার বন্ধ রাখতে হয় না।[6]
দোকান বন্ধের এই বিধিনিষেধ অন্য সব পরিষেবার খোলার সময় নির্ধারণ করে না। কোনো নির্দিষ্ট দপ্তর, ব্যাংক, স্থান বা পরিবহন পরিষেবার ক্ষেত্রে যাত্রা বা পরিকল্পনার আগে তাদের নিজস্ব ছুটির তথ্য দেখে নিন।[6]
নিউজিল্যান্ডে আনজাক দিবস: সাধারণ প্রশ্ন
আনজাক দিবস কবে?
কর্মীরা কি ছুটি পান?
ছুটির দিনটি কর্মীর স্বাভাবিক কর্মদিবসে পড়লে তিনি বেতনসহ ছুটি পাওয়ার অধিকারী। ওই দিন কাজ করলে সাধারণত অন্তত দেড় গুণ হারে মজুরি এবং দিনটি তাঁর স্বাভাবিক কর্মদিবস হলে বেতনসহ বিকল্প ছুটি পাওয়ার অধিকার থাকে।[5]
আনজাক দিবসে দোকান খোলা থাকে?
২৫ এপ্রিল দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় সব দোকান বন্ধ রাখতে হয়। আইনি শর্ত বা কোনো এলাকার জন্য ছাড় থাকলে কিছু দোকান খোলা থাকতে পারে; সোমবারে ছুটি সরালেও দোকান খোলা রাখার বিধিনিষেধ সোমবারে স্থানান্তরিত হয় না।[6]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
নিউজিল্যান্ড-এ আনজাক দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Anzac Day- Manatū Taonga — Ministry for Culture & Heritage
- Anzac Day- Manatū Taonga — Ministry for Culture and Heritage
- Anzac Day activities- Manatū Taonga — Ministry for Culture and Heritage
- Public holidays and anniversary dates- Employment New Zealand
- Public holidays rights for employees- Employment New Zealand
- Restricted trading days for shops- Employment New Zealand