উত্তর মেসিডোনিয়ায় বিপ্লব দিবস
উত্তর মেসিডোনিয়ায় ১১ অক্টোবর বিপ্লব দিবস পালিত হয়; মেসিডোনীয় ভাষায় ছুটিটি “জনগণের অভ্যুত্থান দিবস” নামে পরিচিত। ১৯৪১ সালে শুরু হওয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী অভ্যুত্থানের স্মরণে দিনটি পালিত হয় এবং এটি দেশের মুক্তি ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসের অংশ।[1][4]
জাতীয় সরকারি ছুটি
ম্যাসেডোনিয়া প্রজাতন্ত্রের ছুটিসংক্রান্ত আইনে ১১ অক্টোবরকে রাষ্ট্রীয় ছুটির মধ্যে জনগণের অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনগুলো কর্মবিরতির দিন। এসব ছুটির কোনোটি রবিবারে পড়লে পরের দিন কর্মবিরতির দিন হবে বলেও আইনে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষপঞ্জিতেও ১১ অক্টোবর রবিবারে পড়লে ১২ অক্টোবর কর্মবিরতির দিন হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।[1][2]
এই ছুটি সাধারণ জনগণের জন্য প্রযোজ্য, তবে ছুটির দিনে কোন রাষ্ট্রীয় সংস্থা, সরকারি পরিষেবা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থাকে কাজ করতে হবে, তা সরকার নির্ধারণ করতে পারে। রাষ্ট্রীয় ছুটিতে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকে, তবে নির্ধারিত কিছু পরিষেবা চালু থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মবিরতির দিনে কাজ করা কর্মীরা আইন ও সমষ্টিগত চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা বর্ধিত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী।[1]
ছুটির নির্ধারিত তারিখ ১১ অক্টোবরই থাকে। রবিবারের নিয়ম অনুযায়ী, ছুটিটি রবিবারে পড়লে পরের সোমবার কর্মবিরতির দিন হয়; ছুটিটির জন্য আলাদা কোনো স্থায়ী তারিখ নির্ধারণ করা হয় না। ১১ অক্টোবরসহ আইনে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় ছুটিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।[1]
১৯৪১ সালের অভ্যুত্থান ও এর তাৎপর্য
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মেসিডোনিয়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী অভ্যুত্থানের সূচনাকে স্মরণ করে এই ছুটি। প্রিলেপের ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর জানায়, তাদের “১১ অক্টোবর, ১৯৪১” স্মারক জাদুঘরে প্রিলেপ ও আশপাশের অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের শুরুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে।[4]
জাদুঘর ও আর্কাইভের মাধ্যমে তারিখটি দেশের জনসমক্ষে লিপিবদ্ধ ইতিহাসের অংশও হয়েছে। মেসিডোনিয়া জাদুঘরের ইতিহাসবিষয়ক প্রাথমিক কাজের সূত্রপাত হয় ১৯৪৮ সালের ১১ অক্টোবর স্কোপিয়েতে উদ্বোধন করা জাতীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এক প্রদর্শনীর মাধ্যমে—যা ছিল অভ্যুত্থানের সপ্তম বার্ষিকী। রাষ্ট্রীয় আর্কাইভ তাদের বিটোলা শাখার প্রদর্শনীগুলোর মধ্যে “১১ অক্টোবর—মেসিডোনিয়ার অভ্যুত্থান দিবস” নামের একটি প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করেছে।[3][5]
স্মরণানুষ্ঠান ও বাস্তব পরিকল্পনা
রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও জনস্মরণের মাধ্যমে দিনটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। “১১ অক্টোবর” পুরস্কারটি একটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, এবং ছুটির দিনে সরকার নির্ধারিত সরকারি সংস্থা ও পরিষেবাকে কাজ করার বিধান আইনেই রয়েছে।[1]
দর্শনার্থীরা প্রিলেপের স্মারক জাদুঘরে গিয়ে দিনটি সম্পর্কে জানতে পারেন। জাদুঘরের সংগ্রহে ছবি, নথি, মানচিত্র, বিভিন্ন বস্তু এবং পার্টিজানদের সরঞ্জাম রয়েছে। বিটোলায় আর্কাইভের শাখাতেও এ-সম্পর্কিত একটি প্রদর্শনীর উল্লেখ আছে। ১১ অক্টোবর খোলার সময় ও সময়সূচি জানতে প্রতিটি স্থান বা পরিচালনাকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[3][4]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
উত্তর মেসিডোনিয়ায় বিপ্লব দিবস কখন?
দিনটি ১১ অক্টোবর পালিত হয় এবং ছুটিসংক্রান্ত আইনে জনগণের অভ্যুত্থান দিবস নামে পরিচিত।[1]
এটি কি কর্মবিরতির সরকারি ছুটি?
হ্যাঁ। আইনে দিনটিকে রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ছুটিগুলোকে কর্মবিরতির দিন করা হয়েছে। তবে সরকার নির্দিষ্ট সংস্থা ও পরিষেবাকে চালু রাখার নির্দেশ দিতে পারে।[1]
১১ অক্টোবর রবিবারে পড়লে কী হয়?
আইনের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন রবিবারে পড়লে পরের দিন কর্মবিরতির দিন হয়।[1]
অভ্যুত্থান সম্পর্কে কোথায় জানতে পারি?
প্রিলেপের “১১ অক্টোবর, ১৯৪১” স্মারক জাদুঘরে প্রিলেপ ও আশপাশের অঞ্চলে অভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।[4]
ব্যাংক, দোকান, জাদুঘর ও পরিবহন কি খোলা থাকে?
রাষ্ট্রীয় ছুটিতে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকে, যদিও কিছু সরকারি পরিষেবাকে কাজ করার জন্য নির্ধারণ করা হতে পারে। দোকান, ব্যাংক, জাদুঘর ও পরিবহন পরিচালনাকারীরা নিজেদের সময়সূচি ঠিক করে; পরিকল্পনার আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
উত্তর মেসিডোনিয়া-এ বিপ্লব দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Службен весник на Република Македонија — бр. 21, 8 мај 1998- Official Gazette of the Republic of Macedonia
- Календар на активности и неработни денови- Faculty of Civil Engineering, Ss. Cyril and Methodius University in Skopje
- Историја- Museum of Macedonia
- Tourism and culture- Pelagonia Planning Region Centre for Development
- Izlozbi- State Archives of the Republic of North Macedonia