লিথুয়ানিয়ায় সেন্ট জনস ডে
লিথুয়ানিয়ায় ২৪ জুন সেন্ট জনস ডে পালিত হয়; স্থানীয় নাম ইয়োনিনেস। এই ছুটিতে খ্রিস্টীয় যোগসূত্রের পাশাপাশি পুরোনো গ্রীষ্মকালীন অয়নান্তের রীতি রয়েছে, যা প্রায়ই রাসোস নামে পরিচিত। উদ্যাপন সাধারণত ২৩ জুন সন্ধ্যায় শুরু হয়।[1][2]
২৪ জুন সরকারি ছুটি
লিথুয়ানিয়ার শ্রমসংক্রান্ত নির্দেশিকায় সরকারি ছুটিকে এমন দিন বলা হয়েছে, যেদিন সাধারণত মানুষ কাজ করে না। সেখানে আরও বলা হয়েছে, কোনো কর্মীর বিশ্রামের দিনে সরকারি ছুটি পড়লে তা পরবর্তী কর্মদিবসে সরানো হয় না এবং এতে অতিরিক্ত ছুটির দিনও তৈরি হয় না।[1]
ছুটিটি নির্দিষ্টভাবে ২৪ জুন পালিত হয়। ইয়োনিনেসের উৎসবে যোগ দিতে আগের সন্ধ্যায় জড়ো হওয়া প্রচলিত; উদ্যাপন রাতভর চলতে পারে।[2][3]
রাসোস ও ইয়োনিনেস
ঝেমাইতিজা জাতীয় উদ্যান অধিদপ্তরের বিবরণে ২৪ জুনকে পুরোনো লিথুয়ানীয় গ্রীষ্মকালীন অয়নান্তের উৎসব বলা হয়েছে, যা পরে সেন্ট জনস ডে-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইয়োনিনেস নামে পরিচিত হয়। এর আগের নাম ছিল রাসোস ও কুপোলেস। এই নাম ও রীতিগুলো ঋতু পরিবর্তন, উদ্ভিদ এবং বছরের সবচেয়ে ছোট রাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত উদ্যাপনের পরিচয় দেয়।[2]
লিথুয়ানিয়ার এই উদ্যাপন ইউরোপজুড়ে পালিত গ্রীষ্মকালীন মধ্যঋতুর বৃহত্তর পর্বের অংশ; এ সময় সম্প্রদায়গুলো সমাবেশ ও ঋতুভিত্তিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত পালন করে। লিথুয়ানিয়ার স্থানীয় নাম ও ঐতিহ্য এই উদ্যাপনে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এনেছে।[2][3]
আগুন, ফুল ও খোলা আকাশের নিচে রাত
নদীর তীর, হ্রদের পাড়, বনের কিনারা ও পাহাড়চূড়ার মতো মনোরম স্থানে ঐতিহ্যবাহী সমাবেশ হতো। মানুষ আগুন জ্বালিয়ে তার পাশে নাচত ও গান গাইত; কেউ কেউ আগুনের শিখা ডিঙিয়ে লাফ দিত। উদ্যান কর্তৃপক্ষ উঁচু খুঁটির মাথায় চাকা বা চাকার কেন্দ্র জ্বালানোর কথাও জানায়; চাকাটি সূর্য বা তার রথের প্রতীক।[2]
গাছপালা ও জল এই রীতিতে বিশেষ স্থান পায়। মানুষ সূর্যোদয়ের আগে ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করত, আর মেয়েরা ফুল ও পাতার মালা বানাত। মধ্যরাতে তরুণেরা পৌরাণিক ফার্ন ফুলের খোঁজ করত। লিথুয়ানিয়া ট্রাভেল কর্তৃপক্ষও সমসাময়িক গ্রীষ্মকালীন মধ্যঋতুর উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আগুন, ফুলের মুকুট ও গানের কথা জানায়।[2][3]
দেশজুড়ে উদ্যাপনের পাশাপাশি আঞ্চলিক রীতিও রয়েছে। ঝেমাইতিজায় জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্লাতেলিয়াই হ্রদের ধারে ১৯৯১ সাল থেকে পুরোনো রীতি মেনে ইয়োনিনেস পালিত হয়ে আসছে; এর আগের দশকগুলোতেও সেখানে আঞ্চলিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[2]
ছুটির দিনের পরিকল্পনা
সরকারি ছুটি হওয়ায় অনেক কর্মীর এদিন ছুটি থাকে, যদিও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে কিছু কাজ চলতে পারে। শ্রম পরিদর্শন দপ্তরের মতে, সরকারি ছুটিতে কাজ সাধারণত ব্যতিক্রমী এবং এর জন্য বাড়তি পারিশ্রমিকের বিধান প্রযোজ্য।[1]
যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পরিচালনাকারীর কাছে দোকান ও ব্যাংকের খোলার সময় এবং পরিবহনের সময়সূচি জেনে নিন, বিশেষত সন্ধ্যার কোনো সমাবেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে।[1][3]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লিথুয়ানিয়ায় সেন্ট জনস ডে কবে?
এই দিনে কি কাজ বন্ধ থাকে?
লিথুয়ানিয়ায় সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত কাজ হয় না। কোনো কর্মীর নির্ধারিত বিশ্রামের দিনে ২৪ জুন পড়লে ছুটিটি অন্য কোনো কর্মদিবসে সরানো হয় না।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
লিথুয়ানিয়া-এ সেন্ট জনস ডে-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Žolinė – savaitgalį: ką svarbu žinoti apie darbo laiką ir apmokėjimą?- Valstybinė darbo inspekcija (State Labour Inspectorate)
- Joninės- Žemaitijos nacionalinio parko direkcija (Directorate of Žemaitija National Park)
- Midsummer in Lithuania- Lithuania Travel