লিথুয়ানিয়ায় বড়দিন
লিথুয়ানিয়ায় ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালিত হয়; ২৬ ডিসেম্বরের পাশাপাশি এটি দুই দিনের বড়দিনের সরকারি ছুটির একটি। এ সময়ের রীতিতে খ্রিস্টীয় উপাসনার সঙ্গে পুরোনো শীতকালীন ঐতিহ্যের যোগ রয়েছে। বড়দিনের আগের সন্ধ্যার পারিবারিক ভোজ, কুচিওস, লিথুয়ানীয় উদ্যাপনের কেন্দ্রীয় অংশ।[1][3]
২৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি
লিথুয়ানিয়ার শ্রম আইনে ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরকে বড়দিনের ছুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত কাজ হয় না, তবে কর্মী সম্মত হলে বা প্রযোজ্য কর্মসময়-ব্যবস্থা অনুযায়ী কাজ নির্ধারিত থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাজ হতে পারে।[1]
সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনে সরকারি ছুটি পড়লে তা পরের কর্মদিবসে সরানো হয় না এবং এ কারণে অতিরিক্ত ছুটিও দেওয়া হয় না। সরকারি ছুটির দিনে কাজ করা কর্মীরা সাধারণত অন্তত দ্বিগুণ মজুরি পাওয়ার অধিকারী; নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ও কর্মব্যবস্থা প্রযোজ্য।[2]
খ্রিস্টীয় পর্ব ও শীতকালীন ঐতিহ্য
খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে বড়দিনে যিশুর জন্ম স্মরণ করা হয়। লিথুয়ানিয়ার জাতীয় জাদুঘরের বর্ণনায়, লিথুয়ানীয় বড়দিনের রীতিতে খ্রিস্টীয় প্রতীকের সঙ্গে খ্রিস্টধর্ম-পূর্ব সংস্কৃতি ও শীত অয়নান্তের যোগ আছে; শীত অয়নান্ত হলো ঋতুর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার পর দিন দীর্ঘ হতে থাকে।[3]
লিথুয়ানিয়ায় বড়দিনের সময়ের মধ্যে রয়েছে ২৪ ডিসেম্বরের কুচিওস, বড়দিন এবং ছুটির মধ্যবর্তী দিনগুলো। জাতীয় জাদুঘরের বর্ণিত রীতিতে পরিবারের একসঙ্গে থাকা ও মৃত আত্মীয়দের স্মরণ অন্তর্ভুক্ত; একটি ঐতিহ্য হলো টেবিলে একটি আসন খালি রাখা এবং রাতভর খাবার না ছোঁয়া।[3]
কুচিওস ও বড়দিনের রীতি
কুচিওস হলো বড়দিনের আগের সন্ধ্যার পারিবারিক ভোজ, বড়দিনের দিনের খাবার নয়। লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় অন্তত ১২ পদের খাবারের টেবিলের বর্ণনা আছে; এতে প্রায়ই থাকে কুচিউকাই, পোস্তদানা-দুধ, হেরিং ও মাশরুম। অঞ্চলভেদে পদ বদলায় এবং ঐতিহ্যগতভাবে মাংস, প্রাণীজ চর্বি ও দুগ্ধজাত খাবার থাকে না। ভোজ শুরু হতে পারে গির্জায় আশীর্বাদ করা বড়দিনের ওয়েফার ভাগ করে নেওয়া ও শুভকামনা বিনিময়ের মাধ্যমে।[4]
লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রের নথিভুক্ত পুরোনো বিবরণে বড়দিনের খাবার হিসেবে শূকরের মাংস ও শূকরের মাথার কথা আছে; সামোগিতিয়ায় শূকরের লেজ দিয়ে তৈরি একটি পদসহ আঞ্চলিক ভিন্নতাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিবরণে বড়দিনে বেড়াতে যাওয়া, শুভেচ্ছা জানানো ও গান গাওয়ার ঐতিহাসিক রীতির কথা আছে; এগুলো অতীতের রীতির নথি, আজ প্রতিটি পরিবার কী করে তার নির্দেশিকা নয়।[5]
ছুটির দিনের পরিকল্পনা
২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি এবং এ দিনগুলোতে সাধারণত কাজ হয় না বলে সরকারি দপ্তর ও অনেক সাধারণ কর্মস্থল বন্ধ থাকতে পারে বা সময়সূচি বদলাতে পারে। নিয়মে জনসাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার কাজসহ কিছু কাজের অনুমতি রয়েছে, তাই প্রতিটি দোকান বা পরিষেবা বন্ধ থাকতেই হবে—এমন বিধান নেই। পরিকল্পনার আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে সরাসরি খোলার সময় জেনে নিন।[1][2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লিথুয়ানিয়ায় বড়দিন কবে?
বড়দিন ২৫ ডিসেম্বর। লিথুয়ানিয়ায় ২৬ ডিসেম্বরও বড়দিনের সরকারি ছুটি হিসেবে নির্ধারিত।[1]
বড়দিনে কি কাজ থেকে ছুটি থাকে?
বড়দিন সপ্তাহান্তে পড়লে কি বিকল্প ছুটি দেওয়া হয়?
না। সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনের সঙ্গে সরকারি ছুটি মিলে গেলে তা পরের কর্মদিবসে সরানো হয় না এবং এ কারণে অতিরিক্ত ছুটিও দেওয়া হয় না।[2]
বড়দিনে দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
খোলার ব্যবস্থা ভিন্ন হতে পারে। আইন অনুযায়ী সরকারি ছুটিতে জনসাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার কাজসহ কিছু কাজ চলতে পারে, তবে প্রতিটি দোকান বা পরিবহন পরিষেবা চালু থাকতেই হবে এমন নয়। ভ্রমণের আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পরিচালনাকারীর কাছে খোঁজ নিন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
লিথুয়ানিয়া-এ বড়দিন-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Darbo laikas ir apmokėjimas šių metų šventiniu laikotarpiu: svarbiausia informacija- Valstybinė darbo inspekcija
- Žolinė – savaitgalį: ką svarbu žinoti apie darbo laiką ir apmokėjimą?- Valstybinė darbo inspekcija
- Winter Solstice: Practices of Purification and the Bond with Ancestors | House of Histories- National Museum of Lithuania
- Christmas Eve- Lithuanian National Culture Centre
- LITHUANIAN CUSTOMS AND TRADITIONS:- Lithuanian National Culture Centre