লিখটেনস্টাইনে বড়দিন
লিখটেনস্টাইনে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালিত হয়; শ্রম আইনে এটি রবিবারের সমতুল্য সরকারি ছুটিগুলোর একটি। পারিবারিক উদ্যাপনের কেন্দ্র যিশুর জন্মকাহিনি; বড়দিনের গান, অ্যাডভেন্টের সময় বেক করা খাবার ও উপহার দেওয়ার রীতিও এর অন্তর্ভুক্ত।[1][2][4]
রবিবারের সমতুল্য কাজের নিয়মসহ ছুটি
লিখটেনস্টাইনের শ্রম আইনে রবিবারের সমতুল্য বিধিবদ্ধ ছুটির মধ্যে বড়দিনের উল্লেখ রয়েছে। আইনটি সাধারণত রবিবার ও এসব ছুটিতে কর্মী নিয়োগ নিষিদ্ধ করে, তবে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদন নিয়ে ব্যতিক্রম করা যায়।[1]
ছুটিটি ২৫ ডিসেম্বর পড়ে। সরকারি বিধিবদ্ধ ছুটির তালিকায় বড়দিনের তারিখ ওই দিন দেওয়া হয়েছে, আর সরকারি বর্ষপঞ্জিতেও ২৫ ডিসেম্বরকে ভাইনাখটেন বা বড়দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[2] আইন ছুটির মর্যাদা নির্ধারণ করে, তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক কর্মী বা পরিষেবার সময়সূচি একই হবে; কাজের বিধিনিষেধে ব্যতিক্রম সম্ভব।[1]
খ্রিস্টীয় তাৎপর্য ও স্থানীয় রীতি
লিখটেনস্টাইনে বড়দিন যিশুর জন্ম উপলক্ষে খ্রিস্টীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। লিখটেনস্টাইন-ইনস্টিটিউটের বিবরণে বলা হয়েছে, পরিবারগুলো বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় বা বড়দিনের সকালে উদ্যাপন করে; প্রায়ই সাজানো গাছের নিচে যিশুর জন্মদৃশ্য রেখে তার চারপাশে জড়ো হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে দেশে বড়দিনের গাছ প্রচলিত হয়ে ওঠে।[4]
একই বিবরণে লূকের সুসমাচার থেকে যিশুর জন্মকাহিনি পড়া, বড়দিনের গান গাওয়া, অ্যাডভেন্টে বানানো বিস্কুট খাওয়া এবং উপহার বিনিময়ের কথা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ক্রিস্টকিন্ড শিশুদের উপহার নিয়ে আসে বলে মনে করা হয়, আর আগে সেই উপহারদাতা ছিলেন সেন্ট নিকোলাস।[4]
স্থানীয় রীতিতে বড়দিনের পরও উৎসবের মরসুম চলে। লিখটেনস্টাইন-ইনস্টিটিউটের মতে, ৬ জানুয়ারি এপিফানিতে শিশুদের তারকা-গান এই সংকীর্ণ অর্থে বড়দিনের মরসুমের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।[4] এসব রীতি একটি স্থানীয় চিত্র তুলে ধরে; পরিবারগুলো ভিন্ন ভিন্ন খাবার ও রীতি পালন করতে পারে।
দোকানপাট ও পরিষেবা
রবিবার ও সরকারি ছুটিতে বাণিজ্য আইনের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সাধারণত কাজ বন্ধ রাখতে হয়, যদি কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হয়। সরকার বলেছে, ওষুধ সরবরাহকারী ফার্মেসি ও ওষুধের দোকান, খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান, যাত্রী পরিবহন, পরিষেবা স্টেশন, সিনেমা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র এসব দিনে অনুমতিপত্র ছাড়াই খোলা থাকতে পারে।[3] অর্থাৎ কিছু পরিষেবা চালু থাকতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে—এ নিশ্চয়তা নেই।
বড়দিনে দোকান খোলার অনুমতি চাইলে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ রয়েছে: বার্ষিক অনুমতিপত্র থাকলেও বড়দিনে দোকান খোলার জন্য সরকার পৃথক অনুমতিপত্র চায়।[3] যাত্রার আগে দোকান বা পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিন; আইনি ব্যতিক্রমে কোন প্রতিষ্ঠান খুলতে পারে বলা আছে, কোনটি খুলবে তা নয়।
লিখটেনস্টাইনে বড়দিন: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লিখটেনস্টাইনে বড়দিন কবে?
প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালিত হয়।[2]
বড়দিনে কি কাজ থেকে ছুটি?
শ্রম আইনে এটি রবিবারের সমতুল্য বিধিবদ্ধ ছুটি, যে দিনে কর্মী নিয়োগ সাধারণত নিষিদ্ধ। আইনে অনুমোদিত ব্যতিক্রম আছে, তাই কাজ ও পরিষেবাভেদে ব্যবস্থা আলাদা হতে পারে।[1]
বড়দিনে দোকান কি খোলা থাকে?
বাণিজ্য আইনের আওতাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটিতে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। তালিকাভুক্ত কিছু পরিষেবা অনুমতিপত্র ছাড়া খুলতে পারে, তবে বড়দিনে দোকান খোলার জন্য পৃথক অনুমতিপত্র লাগে।[3]
ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ বা যাত্রী পরিবহন কি চালু থাকতে পারে?
সরকারি তালিকায় ওষুধ সরবরাহকারী ফার্মেসি ও ওষুধের দোকান, খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান, যাত্রী পরিবহন ও পরিষেবা স্টেশন এমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, যা সরকারি ছুটিতে অনুমতিপত্র ছাড়া চলতে পারে। ছুটির দিনে প্রকৃত খোলার সময় জানতে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা-দাতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[3]
লিখটেনস্টাইনে বড়দিনের সঙ্গে কোন রীতিগুলো জড়িত?
লিখটেনস্টাইন-ইনস্টিটিউটের বিবরণে বড়দিনের আগের সন্ধ্যা বা বড়দিনের সকালে পারিবারিক সমাবেশ, সাজানো গাছ ও যিশুর জন্মদৃশ্য, বড়দিনের গান, অ্যাডভেন্টের বিস্কুট ও উপহারের কথা রয়েছে। এপিফানিতে শিশুদের তারকা-গান এই সংকীর্ণ অর্থে বড়দিনের মরসুমের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।[4]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
লিখটেনস্টাইন-এ বড়দিন-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Arbeitsgesetz (ArG)- Lilex – Gesetzesdatenbank des Fürstentums Liechtenstein
- Arbeits- und Ruhezeiten- Liechtensteinische Landesverwaltung, Amt für Volkswirtschaft
- Permission to keep open stores- Liechtenstein National Administration, Office of Economic Affairs
- Weihnacht- Liechtenstein-Institut