ইন্দোনেশিয়ায় মে দিবস
মে দিবস, যা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে ডে নামেও পরিচিত, ইন্দোনেশিয়ায় ১ মে পালিত হয়। রাষ্ট্রপতির ডিক্রিতে দিনটিকে সরকারি ছুটি করা হয়েছে; এর ইতিহাস ও বর্তমান পালনরীতি শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমসম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।[1][3]
তারিখ ও আইনি মর্যাদা
রাষ্ট্রপতির ২০১৩ সালের ২৪ নম্বর ডিক্রিতে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস স্মরণের ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিক্রিতে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানের শ্রমিকেরা নিয়মিত এই দিনটি পালন করতেন এবং এ উপলক্ষ শিল্পসম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আরও ঐক্য গড়ে তুলতে পারে। এতে তারিখ ১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে; আলাদা কোনো বিকল্প তারিখের কথা বলা হয়নি।[1]
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি জাতীয় ছুটির দিনে শ্রমিকদের কাজ করতে হয় না। নিরবচ্ছিন্নভাবে চালাতে হয় এমন কাজের জন্য নিয়োগকর্তারা কাজ করাতে পারেন, অথবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজের ব্যবস্থা করতে পারেন; জাতীয় ছুটিতে কর্মীরা কাজ করলে নিয়োগকর্তাকে অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে।[2]
শ্রমিকদের সংগঠনের ইতিহাস
মে দিবসের আন্তর্জাতিক পটভূমিতে রয়েছে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবিতে আন্দোলন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসবিষয়ক একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৮৮৯ সালের আন্তর্জাতিক শ্রমিক কংগ্রেস ১৮৯০ সালে আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবিতে ১ মে কর্মসূচি পালনের আহ্বানকে সমর্থন করেছিল।[3]
ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে একই বিবরণে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজে প্রথম মে দিবস পালন হিসেবে ১ মে ১৯১৮-এর শ্রমিক ধর্মঘটের কথা বলা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, পরবর্তী বছরগুলোতে দিনটি পালিত হয়েছিল, ঔপনিবেশিক দমন-পীড়ন ও জাপানি দখলদারির সময় পালন কঠিন হয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতার পর তা আবার শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের শ্রম আইন ১ মে-কে শ্রমিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ওই দিন শ্রমিকদের কাজের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়। নতুন শাসনামলে মে দিবস আর ছুটির দিন ছিল না; সেই সময়ের পর বিক্ষোভ আবার শুরু হয় এবং ২০১৩ সালের ডিক্রিতে ১ মে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পুনর্বহাল হয়।[3][1]
দিনটি যেভাবে পালিত হয়
ইন্দোনেশিয়ায় মে দিবসে বিক্ষোভ, মিছিল ও নাট্যধর্মী কর্মসূচি হয়েছে; এসব কর্মসূচিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিষয়ও উঠে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসবিষয়ক বিবরণে এই কর্মসূচিগুলোর কথা আছে, আর পুলিশের প্রতিবেদনে ২০২১ সালের মে দিবসে জাকার্তায় শ্রমিকদের একটি বিক্ষোভের তথ্য রয়েছে।[3][4]
অনুষ্ঠান, খাবারের রীতি বা আঞ্চলিক প্রথার বিবরণের জন্য স্থানীয় তথ্য দেখে নিন। বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের জন্য বাস্তব প্রভাব নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে কী কর্মসূচি হচ্ছে তার ওপর: বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি সড়কে পরিস্থিতি অনুযায়ী যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিকল্পিত জমায়েতের এলাকার কাছাকাছি যাওয়ার আগে স্থানীয় যান চলাচলের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।[4]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইন্দোনেশিয়ায় মে দিবস কবে?
প্রতি বছর ১ মে এটি পালিত হয়। রাষ্ট্রপতির ডিক্রিতে ওই তারিখকে ছুটির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।[1]
শ্রমিকেরা কি এ দিন ছুটি পান?
জাতীয় ছুটির দিনে কর্মীদের কাজ করতে হয় না। নিরবচ্ছিন্নভাবে চালাতে হয় এমন কিছু কাজ চলতে পারে, আর নির্দিষ্ট সমঝোতাভিত্তিক পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তারা কাজ করাতে পারেন; ছুটির দিনে কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে।[2]
দপ্তর, দোকান ও গণপরিবহন কি খোলা থাকে?
উদ্ধৃত নিয়মগুলো কোম্পানির নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের জন্য শর্ত নির্ধারণ করে, তবে দপ্তর, দোকান বা পরিবহনের দেশব্যাপী খোলার সময়সূচি দেয় না। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পরিষেবা বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জাকার্তায় মে দিবসের বিক্ষোভের আশপাশে পরিস্থিতিভেদে সড়ক ঘুরিয়ে দেওয়ার কথা পুলিশ জানিয়েছে; তাই যাত্রার আগে চলতি যান চলাচলের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।[2][4]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইন্দোনেশিয়া-এ শ্রমিক দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Keputusan Presiden Republik Indonesia Nomor 24 Tahun 2013 tentang Penetapan Tanggal 1 Mei sebagai Hari Libur- Kementerian Ketenagakerjaan Republik Indonesia
- Surat Edaran Menteri Ketenagakerjaan Republik Indonesia Nomor M/6/HK.04/XII/2024 tentang Pelaksanaan Libur Nasional dan Cuti Bersama pada Perusahaan- Kementerian Ketenagakerjaan Republik Indonesia
- Pemaknaan May Day- Kementerian Ketenagakerjaan Republik Indonesia, Directorate of Supervision of Labor Standards
- Hari Buruh 1 Mei, Polri Siapkan Rekayasa Lalu Lintas Sekitar Monas- Kepolisian Negara Republik Indonesia