গিনি-বিসাউয়ে পিজিগুইটি দিবস
পিজিগুইটি দিবস ৩ আগস্ট পালিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিসাউ বন্দরে ধর্মঘটকারী ডকশ্রমিকদের ১৯৫৯ সালের হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী। দিনটি পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে গিনি-বিসাউয়ের প্রতিরোধের এক মোড় পরিবর্তনের কথা স্মরণ করায়, তবে ৩ আগস্টকে বাধ্যতামূলক ছুটি বা সরকারি সেবার ছুটির দিন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।[1][2]
বন্দরের ধর্মঘট ও হত্যাকাণ্ড
১৯৫৯ সালের ৩ আগস্ট, তখন পর্তুগিজ শাসনাধীন বিসাউয়ের পিজিগুইটি বন্দরের নাবিক ও ডকশ্রমিকেরা উন্নত কর্মপরিবেশ ও বেশি মজুরির দাবিতে প্রতিবাদ করেন। পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ সহিংসভাবে সেই প্রতিবাদ দমন করে; মিউজেউ দো আলজুবের বিবরণে প্রায় ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।[1]
ঘটনাটি গিনি-বিসাউয়ের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি দেশটির ঔপনিবেশিকতাবিরোধী ইতিহাসের এক মাইলফলক হয়ে ওঠে। Cadernos de Estudos Africanos-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে হত্যাকাণ্ডটিকে একই বছরের পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত PAIGC-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সঙ্গে যুক্ত করে, জাতীয়তাবাদী তৎপরতা থেকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের দিকে উত্তরণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[3] PAIGC-এর সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয় ১৯৬৩ সালে, আর গিনি-বিসাউ ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।[1]
নিহতদের স্মরণ
নিহতদের স্মরণে পিজিগুইটি বন্দরে “Mão de Timba” নামে একটি স্মৃতিভাস্কর্য রয়েছে। মিউজেউ দো আলজুবে এটিকে বন্ধ হাত হিসেবে বর্ণনা করে এবং পর্তুগিজ ভাষায় নামটির অর্থ ব্যাখ্যা করে।[1]
এই নিবন্ধের জন্য পাওয়া সূত্রগুলোতে নিয়মিত বার্ষিক অনুষ্ঠান, নির্দিষ্ট আঞ্চলিক রীতি বা দিনটির সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রথাগত খাবারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। বন্দরের নথিভুক্ত স্মৃতিভাস্কর্যটির ভিত্তিতে বার্ষিকীটিকে নিহতদের স্মরণের সময় হিসেবে বর্ণনা করা যায়, তবে বর্তমান সময়ের পালনরীতি সম্পর্কে বিস্তারিত অনুমান করা উচিত নয়।[1]
ছুটির মর্যাদা ও ভ্রমণ পরিকল্পনা
জাতীয় বাধ্যতামূলক ছুটির বিষয়ে Boletim Oficial-এ প্রকাশিত ডিক্রিতে উল্লিখিত তারিখগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে; তবে যে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিরতি দেওয়া যায় না, তা এর ব্যতিক্রম। তালিকায় ৩ আগস্ট নেই। ডিক্রিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখে সরকারি কর্মচারীদের ছুটিও আলাদাভাবে দেওয়া হয়েছে, সেসব তারিখের মধ্যেও ৩ আগস্ট নেই।[2]
ডিক্রির অধীনে ৩ আগস্ট দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক ছুটির দিন নয়।[2] পরিকল্পনা করার আগে দপ্তর, ব্যাংক, দোকান বা পরিবহন পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। ৩ আগস্টের জন্য কোনো বিকল্প দিন নির্দিষ্ট করা হয়নি।[2]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পিজিগুইটি দিবস কবে?
এটি ৩ আগস্ট, বিসাউয়ের পিজিগুইটি বন্দরে ১৯৫৯ সালের গণহত্যার বার্ষিকী।[1]
৩ আগস্ট কি বাধ্যতামূলক জাতীয় সরকারি ছুটি?
জাতীয় বাধ্যতামূলক ছুটির ডিক্রিতে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার আবশ্যক তারিখগুলোর মধ্যে ৩ আগস্ট নেই।[2]
ডিক্রি অনুযায়ী কারা ছুটি পাবেন?
ডিক্রিতে নির্দিষ্ট তারিখগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে; ৩ আগস্ট সেসব তারিখের একটি নয়। তালিকাভুক্ত তারিখগুলোতে বাধ্যতামূলক ছুটির বিধান সরকারি ও বেসরকারি খাতের কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে যে কাজ বন্ধ করা যায় না, তা এর ব্যতিক্রম।[2]
দর্শনার্থীরা কোন কোন পরিষেবা খোলা পাবেন বলে আশা করতে পারেন?
পরিকল্পনা করার আগে নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা পরিবহন পরিচালনাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[2]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
গিনি-বিসাউ-এ পিজিগুইটি দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Massacre de Pidjiguiti- Museu do Aljube — Resistência e Liberdade
- Decreto n.º 1/2023 — Feriados Nacionais Obrigatórios, Boletim Oficial n.º 3, 2.º Suplemento- República da Guiné-Bissau, Boletim Oficial
- Guiné-Bissau: a causa do nacionalismo e a fundação do PAIGC- Cadernos de Estudos Africanos, Centro de Estudos Internacionais, Iscte — Instituto Universitário de Lisboa