ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে দীপাবলি
দীপাবলি, যা দিওয়ালি নামেও পরিচিত, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর একটি জাতীয় ছুটি। হিন্দু পরিবারগুলোর কাছে এ উদ্যাপনের মূল বিষয় প্রার্থনা, আলো ও ভাগাভাগি; এর রীতিগুলো দেশের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক জীবনেও জায়গা করে নিয়েছে।[1][3]
তারিখ পরিবর্তনশীল একটি জাতীয় ছুটি
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রাষ্ট্রপতির দপ্তর দিওয়ালিকে দেশের জাতীয় ছুটির তালিকায় রেখেছে। সরকারি ছুটি ও উৎসব আইন, অধ্যায় ১৯:০৫-এ এই ছুটির বিধান রয়েছে। উৎসবটি ধর্মীয় বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করায় প্রতি বছর এর তারিখ বদলায়; রাষ্ট্রপতির দপ্তর জানায়, উদ্যাপনের এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে প্রকৃত তারিখ ঘোষণা করা হয়।[1][2]
রাষ্ট্রপতির দপ্তর জানায়, কোনো জাতীয় ছুটি রবিবারে পড়লে তার অব্যবহিত পরের সোমবারে সরকারি ছুটি পালিত হয়। এ নিয়মে রবিবারের উদ্যাপনের পরের সোমবারও সরকারি ছুটি হয়।[1]
উৎপত্তি ও তাৎপর্য
NALIS দীপাবলিকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ সারা বিশ্বে পালিত একটি হিন্দু উৎসব হিসেবে বর্ণনা করেছে। নামটির অর্থ “আলোর সারি”; উৎসবটি অন্ধকারের ওপর আলোর এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের জয়ের সঙ্গে যুক্ত। পরিচিত একটি কাহিনিতে প্রদীপগুলোকে দীর্ঘ অভিযান শেষে রামের ফিরে আসার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।[1][3]
উৎসবটির স্থানীয় শিকড় ভারতীয় অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত। NALIS-এর নথি অনুযায়ী, ভারতীয় চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকেরা দিওয়ালিসহ বিভিন্ন উৎসব ও ধর্মীয় আচার ত্রিনিদাদে নিয়ে আসেন; পরে সেগুলো দেশের সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।[4]
প্রার্থনা, প্রদীপ ও ভাগ করে খাওয়া
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে দিওয়ালির আগে পরিবারগুলো ঘর পরিষ্কার ও নতুন করে সাজায় বলে NALIS জানায়। পরিবারের সদস্যরা পূজা বা প্রার্থনার জন্য একত্র হন এবং লক্ষ্মীর আরাধনা করেন; সন্ধ্যায় তাঁরা সারি সারি দিয়া জ্বালান—সাধারণত মাটির তৈরি, তেল বা ঘি দিয়ে ভরা ছোট প্রদীপ। প্রসাদ ও অন্যান্য খাবার পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া হয়।[3]
বাড়ির আচার-অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়ন—দুই ক্ষেত্রেই খাবারের ভূমিকা আছে। NALIS ঝাল খাবারের মধ্যে কারি ছোলা ও আলু, ডাল এবং ম্যাংগো টাকারির কথা বলেছে; মিষ্টির মধ্যে রয়েছে প্রসাদ, লাড্ডু, বরফি, কুর্মা ও গুলাব জামুন।[3]
উদ্যাপন ব্যক্তিগত বাড়ির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। NALIS দীপাবলির আগের কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রামলীলা মঞ্চায়নের কথা বলেছে। পাশাপাশি, ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ান কালচারের সদর দপ্তর দিওয়ালি নগরে এক সপ্তাহ ধরে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হয়।[3]
ছুটি ঘিরে পরিকল্পনা
দিওয়ালি একটি সরকারি জাতীয় ছুটি, তবে প্রতিটি স্কুল, দোকান বা পরিবহনসেবার জন্য কোনো একক সময়সূচি নেই। কোনো নির্দিষ্ট পরিষেবা দরকার হলে, তাদের ছুটির সময়সূচি সরাসরি জেনে নিন। সরকারি তারিখটি উদ্যাপনের কাছাকাছি সময়ে ঘোষণা করা হয়, তাই পরিকল্পনার আগে তারিখটি নিশ্চিত করুন।[1]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে দীপাবলি কি সরকারি ছুটি?
দীপাবলি কবে পালিত হয়?
ধর্মীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এর তারিখ বদলায়। রাষ্ট্রপতির দপ্তর জানায়, উদ্যাপনের এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে প্রকৃত তারিখ ঘোষণা করা হয়।[1]
দীপাবলি রবিবারে পড়লে কী হয়?
কোনো জাতীয় ছুটি রবিবারে পড়লে তার অব্যবহিত পরের সোমবারে সরকারি ছুটি পালিত হয়।[1]
দর্শনার্থীরা কী দেখতে বা খেতে পারেন?
বাড়ির উদ্যাপনে প্রার্থনা, লক্ষ্মী পূজা, দিয়া জ্বালানো ও খাবার ভাগ করে নেওয়া থাকতে পারে। NALIS সম্প্রদায়ভিত্তিক রামলীলা এবং দিওয়ালি নগরের কর্মকাণ্ডের কথাও বলেছে; তালিকাভুক্ত মিষ্টির মধ্যে রয়েছে প্রসাদ, লাড্ডু, বরফি ও কুর্মা।[3]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো-এ দীপাবলি-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- National Holidays and Festivals | The Office of the President of the Republic of Trinidad and Tobago- Office of the President of the Republic of Trinidad and Tobago
- Digital Law Library | Web Application- Law Revision Commission, Trinidad and Tobago
- Divali- National Library and Information System Authority (NALIS)
- Indian Arrival Day- National Library and Information System Authority (NALIS)