এসওয়াতিনিতে উমহলাঙ্গা বেত নৃত্য উৎসব
উমহলাঙ্গা এসওয়াতিনির একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান। এতে অবিবাহিত, নিঃসন্তান তরুণীরা বেত কেটে রানি মাতার কাছে নিয়ে যান; এরপর রাজকীয় বাসভবনে গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এসওয়াতিনির সরকারি ছুটি আইনে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে।[1][2]
তারিখ পরিবর্তনশীল সরকারি ছুটি
১৯৩৮ সালের সরকারি ছুটি আইনে উমহলাঙ্গা (বেত নৃত্য) সরকারি ছুটি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তালিকাভুক্ত ছুটি রবিবারে পড়লে তার বদলে পরের সোমবার পালিত হবে বলে আইনে বলা হয়েছে; উমহলাঙ্গার জন্য কোনো স্থায়ী বার্ষিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।[1]
এসওয়াতিনির সরকারি সাধারণ আদেশে উমহলাঙ্গাকে এমন সরকারি ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার তারিখ “ঘোষণা করা হবে”। সরকারি ছুটি আইনে কর্মদিবস নয়—সংক্রান্ত উল্লেখটি বিশেষভাবে বিনিময় বিল ও প্রতিশ্রুতিপত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এতে প্রত্যেক কর্মীর ছুটির অধিকার নির্ধারিত হয় না।[1][3]
তাৎপর্য ও শিকড়
অনুষ্ঠানটি রানি মাতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত; তাঁকে ইন্দলোভুকাজি বলা হয়। অংশগ্রহণকারীদের আনা বেত রাজকীয় বাসভবনের চারপাশের বাতরোধক বেড়া মেরামতে ব্যবহার করা হয়। সমাবেশে রাজা ও রানি মাতার সামনে গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।[2]
এসওয়াতিনি ন্যাশনাল ট্রাস্ট কমিশনের বিবরণে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটির বিকাশ ঘটেছে উমচওয়াশো প্রথা থেকে, যেখানে মেয়েদের নারী বয়সভিত্তিক দলে সংগঠিত করা হতো। কমিশন জানায়, বেত নৃত্যের ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে রানি মাতার জন্য শ্রমের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং একসঙ্গে কাজ করে সংহতি গড়ে তোলা।[3]
অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা
আট দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় লোবাম্বার লুদজিদজিনিতে অংশগ্রহণকারীদের সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ন্যাশনাল ট্রাস্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা প্রধানদের অধিক্ষেত্রগুলো থেকে দলে দলে আসেন, নিবন্ধন করেন এবং রাজকীয় গ্রামগুলোর আত্মীয়দের বাড়িতে, মার্কিতে এবং তাঁবুতে থাকেন।[3]
এরপর অংশগ্রহণকারীরা বেতবনে যান, বেত কাটেন, আঁটি বাঁধেন এবং রাজকীয় বাসভবনে ফিরিয়ে নিয়ে যান। চুল ও নাচের পোশাক প্রস্তুতের জন্য একটি বিশ্রামদিনের পর তাঁরা বেত জমা দেন এবং বিভিন্ন গান গেয়ে দলে দলে পরিবেশন করেন। কমিশনের বিবরণ অনুযায়ী, শেষ দিনের নৃত্যে রানি মাতা ও রাজা উপস্থিত থাকেন।[3]
কমিশনের বক্তব্য, কেবল অবিবাহিত, নিঃসন্তান তরুণীরাই এতে অংশ নেন। এসওয়াতিনির হাইকমিশনের বিবরণে অনুষ্ঠানটিকে তরুণ এমাসওয়াতি নারীদের পবিত্রতার উদ্যাপন বলা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে তরুণীরা আসেন।[2][3]
সফরের পরিকল্পনা
ন্যাশনাল ট্রাস্ট কমিশন সমাবেশস্থল ও বেত কাটতে যাওয়ার যাত্রার বিবরণ দিয়েছে। যাওয়ার আগে দর্শনার্থীদের প্রবেশ, ছবি তোলার নিয়ম, পরিবহন সময়সূচি এবং ব্যবসা ও ব্যাংকের খোলার সময় যাচাই করুন।[3]
সরকারি ছুটি আইনে উমহলাঙ্গাকে সরকারি ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে উদ্ধৃত আইনে প্রত্যেক কর্মস্থল, ব্যাংক, দোকান বা পরিবহন পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়নি। ছুটির দিনের পরিকল্পনার আগে দপ্তর বা পরিষেবা প্রদানকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[1]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
উমহলাঙ্গা কবে পালিত হয়?
উমহলাঙ্গা কি সরকারি ছুটি?
হ্যাঁ। এসওয়াতিনির সরকারি ছুটি আইনে উমহলাঙ্গা (বেত নৃত্য) উল্লেখ রয়েছে। আইনে প্রত্যেক কর্মীর ছুটির অধিকার নির্দিষ্ট করা হয়নি, তাই কর্মীদের নিজেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চাকরির শর্ত যাচাই করা উচিত।[1]
বেত নৃত্য উৎসবে কী হয়?
দপ্তর, ব্যাংক ও দোকান কি খোলা থাকে?
খোলার সময় ভিন্ন হতে পারে। যাওয়ার আগে যে দপ্তর, ব্যাংক বা দোকান ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
এসওয়াতিনি-এ বেত নৃত্য উৎসব-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Public Holidays Act, 1938- eSwatiniLII, Judiciary of eSwatini
- CULTURE – High Commission of the Kingdom of Eswatini- High Commission of the Kingdom of Eswatini in Kuala Lumpur
- Umhlanga Reed Dance Ceremony- Eswatini National Trust Commission