লুক্সেমবুর্গে সকল সাধু দিবস
লুক্সেমবুর্গিশ ভাষায় Allerhellegen নামে পরিচিত সর্বসন্ত দিবস ১ নভেম্বর পালিত একটি আইনগত সরকারি ছুটি। মৃতদের স্মরণে পরিবারগুলো সাধারণত কবরস্থানে সমবেত হয়, ফুল ও মোমবাতি রাখে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কবর আশীর্বাদের আচারেও অংশ নেয়।[1][2]
অর্থ ও আইনগত মর্যাদা
সর্বসন্ত দিবস খ্রিস্টীয় সব সাধু-সন্তের উৎসব—যাঁদের কেউ কখনো সাধু হিসেবে স্বীকৃতি পাননি, কিংবা যাঁদের পবিত্রতা কেবল ঈশ্বরই জানেন, তাঁরাও এর অন্তর্ভুক্ত। লুক্সেমবুর্গে দিনটি মৃত আত্মীয়দের স্মরণের সঙ্গেও যুক্ত, যদিও মৃত আত্মাদের স্মরণ দিবস বা Allerséilen হয় ২ নভেম্বর।[1]
সরকার ১ নভেম্বরকে ২৫ এপ্রিল ২০১৯-এর আইন দ্বারা নির্ধারিত আইনগত সরকারি ছুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। Guichet.lu বেসরকারি খাতের বেতনভুক্ত কর্মী ও শিক্ষানবিশদের জন্য বছরে ১১টি সরকারি ছুটির মধ্যে দিনটিকে তালিকাভুক্ত করেছে। বিশেষ ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে সেদিন ছুটি দেওয়া অসম্ভব হলেই কেবল নিয়োগকর্তারা কর্মীদের কাজ করতে বলতে পারেন।[2][3]
কবরস্থানে যাওয়া ও স্মরণ
লুক্সেমবুর্গজুড়ে পরিবারগুলো প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে কবরস্থানে যায়। সরকারের বর্ণনায়, এই রীতির সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কবর আশীর্বাদের আচার থাকে; দর্শনার্থীরা মৃতদের স্মরণে মোমবাতি, ফুল ও পুষ্পস্তবক রেখে যান।[1]
সর্বসন্ত দিবসের মূল তাৎপর্য সাধু-সন্তদের স্মরণ, আর পরদিনের All Souls’ Day ক্যাথলিক শিক্ষায় মৃতদের উদ্দেশে নিবেদিত। দুই দিন এক দিনের ব্যবধানে পালিত হয়, এবং লুক্সেমবুর্গ সরকারের বিবরণে তাদের অর্থ আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে।[1]
উত্তরাঞ্চলের Trauliicht প্রথা
একটি স্বতন্ত্র স্থানীয় প্রথা হলো Trauliicht, যা বিশেষত লুক্সেমবুর্গের উত্তরের আর্দেন অঞ্চলে দেখা যায়। মানুষ বিটের ভেতরটা ফাঁপা করে, তাতে মুখ খোদাই করে এবং ভেতরে মোমবাতি রাখে; জ্বালানো এই লণ্ঠনগুলো গ্রামের দেয়ালে বা বাড়ির জানালার পাশে রাখা হয়। মৃতদের আত্মা ও অশুভ আত্মার হাত থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার সঙ্গে এই প্রথাটি যুক্ত।[1]
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত উত্তরে Trauliicht ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল; পরে এর পুনরুজ্জীবন ঘটে। এর আগের একটি ব্যবহারিক দিকের কথাও বলা হয়েছে: গবাদিপশু ঘরে আনার সময় আত্মা ও রোগবালাই দূরে রাখতে গোয়ালের দরজায় লণ্ঠন ঝোলানো হতো।[1]
কাজ ও পরিকল্পনা
সরকারি ছুটি রবিবারে পড়লে এবং সেদিন কাজ না করলে বেতনভুক্ত কর্মী ক্ষতিপূরণমূলক এক দিনের ছুটি পান। এটি চাকরিসংক্রান্ত অধিকার; সরকারি ছুটিকে সাধারণভাবে অন্য কোনো তারিখে সরিয়ে নেওয়া নয়। সরকারি ছুটির দিনে কাজ করলে কর্মীরা প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ও ছুটি পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।[3]
খোলার সময় ব্যবসা ও তার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। Guichet.lu জানায়, সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত কর্মীরা কাজ করেন না, তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কাজ করা যায়। যাত্রার আগে নির্দিষ্ট পরিষেবা বা ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নিন।[3]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লুক্সেমবুর্গে সকল সাধু দিবস কবে?
সেদিন কি কর্মীদের ছুটি থাকে?
এটি আইনগত সরকারি ছুটি। বেসরকারি খাতের বেতনভুক্ত কর্মী ও শিক্ষানবিশরা সাধারণত কাজ করেন না, তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কিছু ব্যবসা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করাতে পারে।[3]
রবিবারে পড়লে কি ছুটি সোমবারে চলে যায়?
সেদিন কী খোলা থাকে?
খোলার ব্যবস্থা একেক জায়গায় একেক রকম। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত কাজ হয় না, তবে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই পরিবহন সংস্থাসহ দোকান ও পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে জেনে নিন।[3]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
লুক্সেমবুর্গ-এ সকল সাধু দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Allerhellegen and Trauliicht: Honour the dead and drive away evil spirits- Government of the Grand Duchy of Luxembourg
- Public holidays in Luxembourg- Government of the Grand Duchy of Luxembourg
- Working on public holidays- Guichet.lu, Government of the Grand Duchy of Luxembourg