ইথিওপিয়ায় রমজানের প্রথম দিন
ইথিওপিয়ার মুসলিমদের কাছে রমজানের প্রথম দিন এক মাসের রোজা ও বাড়তি ধর্মীয় সাধনার সূচনা করে। আইনে এর অবস্থান ঈদুল ফিতর থেকে আলাদা; ঈদুল ফিতর রমজানের সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকারি ছুটির আইনে স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত।[1][2]
আইনি মর্যাদা ও সরকারি পরিষেবা
ইথিওপিয়ার প্রজ্ঞাপন নং ১৩৩৪/২০২৪-এ মিলাদুন নবী, ঈদুল ফিতর ও কোরবানির ঈদকে জাতীয় ধর্মীয় ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ছুটিগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জনসেবার জন্য বন্ধ থাকবে; তবে রমজানের প্রথম দিন তালিকায় নেই। তাই রমজানের প্রথম দিনে ছুটি বা বিকল্প দিনের কোনো বিধান প্রজ্ঞাপনে দেওয়া হয়নি।[1]
তালিকাভুক্ত ছুটির দিনেও গণপরিবহন, হাসপাতাল, ফার্মেসি ও মৌলিক পরিষেবাসহ নির্দিষ্ট পরিষেবা চালু রাখতে হবে বলে আইনে আলাদাভাবে উল্লেখ আছে। প্রজ্ঞাপনের ছুটির তালিকায় রমজানের প্রথম দিন নেই বলে ওই দিনের জন্য বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নিয়মও এতে নেই। কোনো নির্দিষ্ট দপ্তর বা ব্যবসার সময় জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন।[1]
ইথিওপিয়ার প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে যোগসূত্র
ইথিওপিয়ার প্রাচীন ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায় টাইগ্রে অঞ্চলের নেগাশ গ্রামে। ইউনেস্কোর সম্ভাব্য তালিকায় গ্রামটিকে প্রথম হিজরতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; সে সময় আরব উপদ্বীপ থেকে আসা প্রাথমিক মুসলিম অভিবাসীরা খ্রিস্টান আকসুম রাজ্যের আশ্রয় পেয়েছিলেন। তালিকায় গ্রামের মসজিদ ও কবরস্থানকে জীবন্ত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যের অংশ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।[4]
এই ইতিহাস রমজানকে স্থানীয় প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বৃহত্তর ইসলামি তাৎপর্যও দেয়: মুসলিম অভিবাসী ও আকসুম রাজ্যের মধ্যে আশ্রয় ও যোগাযোগের এক প্রাচীন ঘটনার সঙ্গে ইথিওপিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। নেগাশের যোগসূত্রটি ঐতিহাসিক; এর অর্থ এই নয় যে সেখানে রমজানের প্রথম দিনে আলাদা জাতীয় অনুষ্ঠান হয়।[4]
রমজানের শুরু ও পালন
ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান। এ মাসের প্রথম দিন থেকে দৈনিক রোজা শুরু হয়; রোজাদার মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। ইথিওপিয়ান ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স সুপ্রিম কাউন্সিল মাসটিকে প্রার্থনা, কোরআন পাঠ, সংহতি ও অভাবীদের সহায়তার সময় হিসেবে বর্ণনা করেছে।[2][3]
নতুন বাঁকা চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে রমজানের শুরু জড়িত। ইথিওপিয়ান ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স সুপ্রিম কাউন্সিলের একটি ঘোষণা ইথিওপিয়ান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়; এতে রোজার প্রথম দিন চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর নির্ভর করে বলে জানানো হয়েছিল। তাই আগের বছরের তারিখ ধরে নেওয়ার চেয়ে সে বছরের স্থানীয় ঘোষণা দেখে শুরু নিশ্চিত করা বেশি কার্যকর।[3]
সমবেত ইফতার—রোজা ভাঙার খাবার—ইথিওপিয়ার রমজানের জনজীবনেরও অংশ। ইথিওপিয়ান নিউজ এজেন্সি দেশজুড়ে ‘গ্র্যান্ড স্ট্রিট ইফতার’-এর খবর দিয়েছে; আয়োজকদের বর্ণনায় এটি দেশের বিভিন্ন শহর ও সম্প্রদায়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সমাবেশ। প্রতিবেদনে একসঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া ও অভাবীদের সহায়তার কথা আছে; তবে ইথিওপিয়ার সব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কোনো একক খাবার বা রীতির কথা এতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।[5]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইথিওপিয়ায় রমজানের প্রথম দিন কি সরকারি ছুটি?
ফেডারেল সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনে রমজানের সমাপ্তি চিহ্নিতকারী ঈদুল ফিতর তালিকাভুক্ত, কিন্তু রমজানের প্রথম দিন নেই। প্রথম দিনের জন্য সরকারি পরিষেবা বন্ধ বা বিকল্প ছুটির বিধান এতে নেই।[1]
রমজান কবে শুরু হয়?
প্রথম দিনে কী পালন করা হয়?
এ দিন থেকে এক মাসের রোজা ও ধর্মীয় সাধনা শুরু হয়। রমজানজুড়ে প্রার্থনা, কোরআন পাঠ, সংহতি ও অভাবীদের সহায়তার ওপর ইথিওপিয়ান ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স সুপ্রিম কাউন্সিল গুরুত্ব দিয়েছে।[3]
অফিস, দোকান ও গণপরিবহন কি বন্ধ থাকে?
ফেডারেল প্রজ্ঞাপনে রমজানের প্রথম দিনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিধান নেই। নির্দিষ্ট অফিস বা দোকানের খোলার সময়ও এতে উল্লেখ করা হয়নি, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্থানে খোঁজ নিন।[1]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইথিওপিয়া-এ রমজানের প্রথম দিন-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- Proclamation to Determine Public Holidays and Celebration of Public Holidays - Proclamation No. 1334/2024- Ethiopian Federal Laws
- Ramadan- National Geographic Society
- Muslims Urged to Support People Affected Due to Natural, Manmade Challenges During Ramadan- Ethiopian News Agency
- Negash (AI-Nejashi) Village: Sanctuary of the First Hijra and Enduring Legacy of lnterfaith Tolerance- UNESCO World Heritage Centre
- Grand Street Iftar to Be Observed Saturday in Addis Ababa- Ethiopian News Agency