ইরিত্রিয়ায় শহীদ দিবস
ইরিত্রিয়া ২০ জুন শহীদ দিবস পালন করে স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণে। স্মরণানুষ্ঠানে জনসমক্ষে আয়োজনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্মরণ এবং শহীদদের পরিবারকে সহায়তা করা হয়।[1][2]
তারিখ ও সরকারি ছুটির মর্যাদা
প্রতি বছর ২০ জুন শহীদ দিবস পালিত হয়। ইরিত্রিয়ার শ্রম ঘোষণায় বলা হয়েছে, আইনে স্বীকৃত সরকারি ছুটির দিনগুলো আইনের আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য বেতনসহ ছুটি; সরকারি ছুটির দিনে কাজ করলে কর্মীরা তাঁদের নিয়মিত ঘণ্টাপ্রতি মজুরির আড়াই গুণ পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী।[1][2]
শ্রম ঘোষণার সরকারি ছুটিবিষয়ক অনুচ্ছেদে ছুটি সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনে পড়লে বিকল্প দিন দেওয়ার কথা নির্দিষ্ট করা হয়নি।[1]
উৎপত্তি ও তাৎপর্য
এই দিনটি ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ হারানো মানুষদের সম্মান জানায়। ইরিত্রিয়ার দূতাবাসের বিবরণ অনুযায়ী, যুদ্ধটি ১৯৬১ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চলে। ১৯৯৮–২০০০ সালের সংঘাতে ইরিত্রিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে এবং দেশের সেবায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরাও এর অন্তর্ভুক্ত।[2]
ইরিত্রিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শহীদ দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯১ সালে নির্ধারিত হয়। মন্ত্রণালয়ের বর্ণনায়, এই স্মরণযজ্ঞে যোদ্ধা ও বেসামরিক—উভয়কেই সম্মান জানানো হয় এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত আত্মত্যাগের কথা ইরিত্রিয়ার মানুষ স্মরণ করেন।[3]
স্মরণানুষ্ঠান ও শ্রদ্ধা
খবরে স্মরণসভা, মোমবাতি প্রজ্বলন, শোভাযাত্রা ও নীরবতা পালনের কথা রয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আসমারার প্যাট্রিয়টস সমাধিক্ষেত্রে জাতীয় অনুষ্ঠান এবং একটি স্মরণানুষ্ঠানে বেলা ১টায় দেশজুড়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের উল্লেখ আছে।[3]
স্মরণানুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক পরিবেশনা, পদযাত্রা এবং শহীদদের সমাধিক্ষেত্রে কার্যক্রমও থাকতে পারে। মন্ত্রণালয় আসমারা ও গাশ বারকা অঞ্চলের অনুষ্ঠানের খবর দিয়েছে; এর মধ্যে বারেন্তুর পরিবেশনা এবং বারেন্তু ও গোলিজে সমাধিক্ষেত্র পরিষ্কার করার কাজ রয়েছে। এসব প্রতিবেদন নির্দিষ্ট পালনের উদাহরণ তুলে ধরে, দেশজুড়ে নির্দিষ্ট কর্মসূচি নয়।[4]
ব্যক্তিগত স্মরণও এই দিনের অংশ। ইরিত্রিয়ার দূতাবাসের বর্ণনায় মোমবাতি প্রজ্বালন ও নীরবতা পালনের পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করতে শহীদ পরিবার ট্রাস্ট ফান্ডে অনুদান বা একটি পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলা হয়েছে।[2]
দর্শনার্থীদের যা জানা দরকার
আসমারার একটি স্মরণানুষ্ঠান নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে মোমবাতির শোভাযাত্রার আগে বিকেলে দোকান ও দপ্তর বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।[5]
কাজকর্ম বা ভ্রমণের জন্য খোলার সময় ও স্থানীয় ব্যবস্থা সরাসরি জেনে নিন। স্মরণানুষ্ঠানের স্থানগুলোর আশপাশে জনসমাগমের কারণে কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে, তবে স্থানীয়ভাবে পরিবহন ও সেবার ব্যবস্থাগুলো জেনে নিন।[4][5]
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইরিত্রিয়ায় শহীদ দিবস কবে?
প্রতি বছর ২০ জুন পালিত হয়।[2]
শহীদ দিবসে কি বেতনসহ ছুটি থাকে?
আইনে স্বীকৃত সরকারি ছুটির দিনগুলো শ্রম ঘোষণায় আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য বেতনসহ ছুটি। সরকারি ছুটির দিনে কাজ করলে বেশি হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধানও রয়েছে।[1]
দোকান ও দপ্তর কি খোলা থাকে?
সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে মোমবাতির শোভাযাত্রার আগে আসমারার দোকান ও দপ্তর বিকেলে বন্ধ হওয়ার কথা ছিল, তবে এতে দেশজুড়ে কোনো নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয় না। স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।[5]
সূত্র ও তথ্যসূত্র
ইরিত্রিয়া-এ শহীদ দিবস-এর জন্য ব্যবহৃত সূত্রসমূহ:
- The Labour Proclamation of Eritrea No. 118 of 2001- Government of the State of Eritrea; hosted by the World Health Organization
- National Dates- Embassy of the State of Eritrea in the United States
- Martyrs’ Day: A Tribute to the Heroes- Eritrea Ministry of Information
- Eritrea’s Martyrs Day Commemorated with Patriotic Zeal- Eritrea Ministry of Information
- 20 June: Not in Sorrow but with Pride, We Remember You- Eritrea Ministry of Information